শিরোনাম

৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস

স্টাফ রিপোর্টার : | বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 792 বার

৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের তৎকালীন পূর্বাঞ্চলীয় জোনের প্রধান জহুর আহমেদ চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন কাচারী ভবন সংলগ্ন তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে শত্রুমুক্ত ঘোষনা করেছিলেন।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ ও আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে শত্রু“মুক্ত করতে ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে জেলার আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় মিত্র বাহিনী পাক বাহিনীর উপর বেপরোয়া আক্রমন চালাতে থাকে। ১ ডিসেম্বর আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধে ২০ হানাদার নিহত হয়। ৩ ডিসেম্বর আখাউড়ার আজমপুরে প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। এখানে ১১ হানাদার নিহত হয়, শহীদ হন ৩ মুক্তিযোদ্ধা। এরই মাঝে বিজয়নগর উপজেলার মেরাশানী, সিঙ্গারবিল, মুকুন্দপুর, হরষপুর, আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, রাজাপুর এলাকা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে। ৪ ডিসেম্বর পাক হানাদাররা পিছু হটতে থাকলে আখাউড়া অনেকটাই শত্র“মুক্ত হয়ে পড়ে। এখানে রেলওয়ে স্টেশনের যুদ্ধে পাক বাহিনীর দু’শতাধিক সেনা হতাহত হয়। ৬ ডিসেম্বর আখাউড়া সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়। এরপর থেকে চলতে থাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত করার প্রস্তুতি। মুক্তি বাহিনীর একটি অংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ দিক থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে এবং মিত্র বাহিনীর ৫৭তম মাউন্টের ডিভিশন আখাউড়া- ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেললাইন ও উজানিসার সড়ক দিয়ে অগ্রসর হতে থাকে। শহরের চতুর্দিকে মুক্তিবাহিনী অবস্থান নিতে থাকায় পাক সেনারা পালিয়ে যাবার সময় ৬ ডিসেম্বর রাজাকারদের সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের অধ্যাপক কে.এম লুৎফুর রহমান সহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে আটক থাকা অর্ধশত বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে চোখ বেঁধে শহরের কুরুলিয়া খালের পাড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ৭ ডিসেম্বর রাতের আধারে পাকিস্তানী বাহিনীর সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছেড়ে আশুগঞ্জের দিকে পালাতে থাকে। ৮ ডিসেম্বর বিনা বাঁধায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করে স্বাধীনতার বিজয় পতাকা উত্তোলন করে। মুক্ত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া। একই দিন সন্ধ্যায় জেলার সরাইল উপজেলা শত্র“মুক্ত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ ও আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামক একটি সংগঠন। মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় স্থানীয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সোয়া ১০টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন, সকাল সাড়ে ১০টায় আলোচনা সভা। দুপুর ২টায় মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণমিলনী ও বিকেলে মুক্তিযুদ্ধের গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস গত কয়েক বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যতিক্রমভাবে পালন করে আসছে ‘আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামে একটি সংগঠন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙ্গালী জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য তুলে ধরার প্রয়াসে সংগঠনের উদ্যোগে এ বছর শহরের সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়ালে আঁকা হচ্ছে স্বাধীনতার বিভিন্ন দেয়ালচিত্র।


প্রতি বছরই দিবসটি উপলক্ষে ‘রঙিন হবে আমাদের স্কুল’ নামে শহরের বিভিন্ন স্কুলের দেয়ালে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১