শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের আলোচনা সভায় বক্তারা

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার | সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯ | পড়া হয়েছে 237 বার

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি

ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস এবং আজ (মঙ্গলবার) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল-আমীন শাহীন।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম, সাংবাদিক আবদুন নূর, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা, ইমজার সভাপতি পীষুষ কান্তি আচার্য, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম. কাউছার এমরান ও সাংবাদিক মোঃ মনির হোসেন।


সভায় বক্তারা বলেন, ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভিষিকাময় রাত নেমে আসে। পাকিস্তানিরা বাঙালি জাতিকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করার কৌশল হিসেবে ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে নির্বিচার গণহত্যা শুরু করেছিল। অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকশা অনুযায়ী পাকিস্তানী সেনারা বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্যই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকান্ডই ছিল না, এটা ছিল মূলত বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলঙ্কজনক জঘন্যতম গণহত্যার সূচনা মাত্র।
অস্ট্রেলিয়ার ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ পত্রিকার ভাষ্য মতে শুধু ২৫ মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা।

পাকিস্তানীরা একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য নয় মাসে ৩০ লাখ নিরপরাধ নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যা করে। তাদের সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ সবই ১৯৪৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ গৃহীত ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ শীর্ষক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে বর্ণিত সংজ্ঞায় গণহত্যার চূড়ান্ত উদাহরণ।
বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার পর থেকেই দিনটি জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জাতীয় গনহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বক্তারা ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত দেয়ার দাবি জানান।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানী সৈন্যরা যখন হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল তখন এই নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার বিরুদ্ধে অসম সাহসী বাঙালিরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। পাকিস্তানি সেনাদের হাতে গ্রেপ্তারের আগ মুহুর্তে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন-প্রতিরোধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এগিয়ে আসে সেনা ও পুলিশ বাহিনীর বাঙালি সদস্যরাও। এরপর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর ৩০ লাখ শহীদের সুমহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় আসে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। আলোচনা সভায় জেলায় কর্মরত সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০