শিরোনাম

২০২০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ ঘোষণা : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি : | সোমবার, ০৫ নভেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 148 বার

২০২০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ ঘোষণা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। এজন্য আমরা ২০২০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ ঘোষণা দিয়েছি। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে ইনশাল্লাহ। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত দেশ।

তিনি বলেন, আমরা এখানেই থেমে থাকবো না, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত করার জন্য আমরা ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ প্রণয়ন করেছি এবং ইনশাল্লাহ আমরা তা বাস্তবায়ন করবো। আজ ০৫ নভেম্বর সোমবার সকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নৌঘাঁটি হিসেবে ‘বিএনএস শেখ মুজিব’-এর কমিশনিং করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।


রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এই প্রথম কোনো নৌঘাঁটির কমিশনিং করা হলো। অনুষ্ঠানস্থল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ২২টি বহুতল ভবন উদ্বোধন; সাভারে বিএন টাউনশিপের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং স্থানীয় এরিয়া কমান্ডার, নৌবাহিনী কর্মকর্তা ও তাদের সহধর্মিনীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাভারে চীনা কোম্পানি এই বিএন টাউনশিপ নির্মাণ করবে। এর আওতায় ১০টি ২৭তলা এবং ১২টি ২৬তলা অত্যাধুনিক সুবিধার আবাসিক ভবন নির্মিত হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্রমবিকাশ ও জাতি গঠনে তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ নেভি ইন দি টুয়েন্টি ফাস্ট সেঞ্চুরি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিএনএস শেখ মুজিবের কমান্ডিং অফিসার মইনুদ্দিন মালিক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কমিশনিং ফরমান গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলেন, বানৌজা শেখ মুজিব ঘাঁটি নিজস্ব অপারেশনাল কর্মকাণ্ডের পাশপাশি জনকল্যাণ ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, নৌবাহিনীতে দীর্ঘদিন ধরে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ স্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নাবিকদের আবাসিক ভবন ছিল না। তাদের তীব্র সংকটের মধ্যদিয়ে দিনযাপন করতে হয়েছে। আজকে সে সমস্যাটির কিছুটা হলেও সমাধান হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌ অঞ্চলে আমরা এ সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।

আবার সরকার গঠন করতে পারলে নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা পরিকল্পনায় রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন একটি আধুনিক উন্নত বাংলাদেশ গড়তে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের উপযোগী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে। তাই তিনি সশস্ত্র বাহিনীর একটা প্রতিরক্ষা নীতিমালা তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার মতো কঠিন দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে তিনি এই নৌবাহিনীও গড়ে তোলেন। জাতির পিতা চেয়েছিলেন, দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করতে এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরো আধুনিক করতে।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন নৌবাহিনীর জন্য প্রথম অতিআধুনিক ফ্রিগেট আমি ক্রয় করেছিলাম। অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ ও আধুনিক সরঞ্জাম সজ্জিত করে একে আধুনিকায়নের পদক্ষেপ আমরা নিয়েছিলাম। নৌবাহিনীকে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলারও পরিকল্পনা আমাদের ছিল। মাত্র ৫ বছর সরকারে ছিলাম। তার মাঝে যতটুকু করা সম্ভব করেছিলাম। এরপর যখন আবার ২০০৯ সালে সরকারে আসি তখন থেকে আমরা এই নৌবাহিনীর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করি। ঢাকা নৌঅঞ্চলে নৌবাহিনী সদরদপ্তরে একটি ছোট ঘাঁটি ছাড়া কোনো স্থাপনা আগে ছিল না। ২০০৯ থেকে ২০১৮ এই সময়ের মধ্যে এই নৌবাহিনীকে আমরা শাক্তিশালী করেছি ও আন্তর্জাতিক মানের উপযুক্ত করেছি।

আন্তর্জাতিকভাবে মানসম্পন্ন ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে ওঠায় নৌবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে অর্থনৈতিকভাবে দেশকে মজবুত করছি, অপরদিকে আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক এই বাহিনীগুলোকে আরো উন্নত করায় আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে। যাতে আমরা বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারি।

তিনি নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জীবনমানের উন্নয়ন কামনা করেন এবং যেসব স্থাপনা করা হয়েছে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণে যত্নবান হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১