শিরোনাম

ফলোআপঃ- কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা

১৬ জন নিহতের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা ॥ আহতদের খোঁজ নিচ্ছেন জেলা প্রশাসক

শফিকুল ইসলাম সোহেল | বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 226 বার

১৬ জন নিহতের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা ॥ আহতদের খোঁজ নিচ্ছেন জেলা প্রশাসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগে উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশিথা ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে ১৬জন নিহতের ঘটনার কারণ হিসেবে পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। গত বুধবার (১৩ নভেম্বর ২০১৯) বিকেলে রেল মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত দল গত বুধবার বিকেল পৌনে চারটায় ঘটনাস্থলে পৌছান।
তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রেলওয়ে স্টেশনের হোম সিগন্যাল ও আউটার সিগন্যাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা স্টেশনের রেকর্ড রেজিষ্টার (টাইম রেকর্ড রেজিষ্টার) খতিয়ে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ শেষে সামগ্রিক ঘটনাবলি পর্যালোচনা করে আগামী সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
এ সময় তদন্ত কমিটি সদস্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক রাশিদা গনি, উপ-সচিব মীর আলমগীর ও সিএইচটি (টেলিকম) আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক কর্তৃক গঠিত তদন্ত দল (বৃহস্পতিবার) তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে কথা রয়েছে। রেলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডি.টি.ও) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার পর পরই মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। গতকাল বুধবার মন্দবাগ স্টেশন মাস্টার জাকের হোসেন চৌধুরীকে চট্টগ্রাম ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দী গ্রহণ করেন। জাকের হোসেন চৌধুরী মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, সিগন্যাল দেয়ার পরও তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের চালক সিগন্যাল অমান্য করে ঢুকে পড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে।


এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তূর্ণা নিশীথার চালক তাছের উদ্দিন সংশ্লিষ্টদেরকে জানান, তিনি ঘন কুয়াশার কারনে সিগন্যাল দেখেন নাই।
এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান রেলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডি.টি.ও) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা ঘটনার কারণ হিসেবে ১০টি কারণ চিহিৃত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। বড় ঘটনা টেলিফোনে বলা যাবেনা। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমেই বিস্তারিত জানাব।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ঘটনার দিন থেকেই তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে গত বুধবার এই তদন্ত টীমের কেউ ঘটনাস্থলে যান নি। এ ব্যাপারে তদন্ত টীমের প্রধান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মিতু মরিয়ম জানান, তিনি বুধবার ঘটনাস্থলে যাননি, তবে (বৃহস্পতিবার) তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন। তিনি বলেন, স্টেশন মাস্টার, প্রত্যক্ষদর্শীসহ সংশ্লিস্টদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল ঘুরে এসে তদন্ত কমিটি আবারো বসে ঘটনার বিষয়ে পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন চুড়ান্ত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। এই টীমের সদস্যরা হলেন, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) আবদুল করিম।

এদিকে গত বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত একমাত্র চিকিৎসাধীন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার চৌধুরীপাড়ার সুব্রত চক্রবর্তীকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছেন রেলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শওকত হোসেন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান জানান, তিনি দুর্ঘটনায় আহত বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের বিষয়ে সার্বক্ষনিক খোঁজ-খবর রাখছেন। যেসব রোগীদের আত্মীয় স্বজন এখনো আসেন নাই বা যারা আর্থিকভাবে দুর্বল তাদেরকে তিনি জেলা প্রশাসনের লোকজন পাঠিয়ে দেখাশুনা ও আর্থিক সহায়তা করছেন।

এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৬জন যাত্রী নিহতের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জাকের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় মামলটি দায়ের করেন।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কান্তি দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১৬জন যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় কসবার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জাকের হোসেন চৌধুরী বাদি হয়ে একটি ( ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৫৬, তারিখ ১২-১১-২০১৯ইং।
উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার ভোর রাত পৌনে তিনটার দিকে কসবা উপজেলার মন্দবাগ স্টেশনে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে চার শিশু, স্বামী-স্ত্রীসহ ১৬জন নিহত এবং শতাধিক যাত্রী আহত হন।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর২০১৯) পত্রিকা প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ ভুল সংবাদের ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শফিকুল ইসলাম (সোহেল)।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১