শিরোনাম

হোপ হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 474 বার

হোপ হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইকপাড়ায় হোপ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় ও অপচিকিৎসায় এক শিশু মৃত্যুর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গর্ভাবস্থায় শিশুটির মাকে চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার (হ্যাপী) প্রয়োগ করে উচ্চ ক্ষমতার ঔষধ, তাই শিশুটির ব্রেইন, হার্ট, কিডনি সহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এ অভিযোগটি সিভিল সার্জন অফিসে দায়ের করেছেন মারা যাওয়া ওই শিশুর পিতা সদর উপজেলার শিলাউর গ্রামের মোঃ আওয়াল হোসেন।
তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেছেন।

তদন্ত টিমের সদস্যরা হলেন, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ওবায়দুল হক, সিভিল সার্জন অফিসের আবাসিক চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান ও গাইনি বিশেষজ্ঞ মোহিনী বেগম।


সিভিল সার্জন অফিস ও পুলিশ সুপারের কার্যলয়ে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আওয়াল হোসেন তার স্ত্রী নাসরিনকে গর্ভবতী হওয়ায় ২০মার্চ প্রথম হোপ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেই সময় থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তার স্ত্রী নাসরিন ওই হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার (হ্যাপী)র তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এসময় উক্ত চিকিৎসকের অদক্ষতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন। তাছাড়া চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার (হ্যাপী)র অনভিক্ষতার দরুন আমার স্ত্রীকে গর্ভবতী হওয়া সত্বেও কোন কিছু না জানিয়ে অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ইনজেকশন ও ঔষধ প্রয়োগ করে গর্ভের সন্তানকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি করেছেন। পরবর্তীতে ডাক্তার হ্যাপী গত ১৫ অক্টোবর রাতে আমার স্ত্রীকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ডেলিভারি করেন। পাশাপাশি আমাদের কিছু না জানিয়ে ডাক্তার হ্যাপী আমার স্ত্রীর জরায়ুর অপারেশনও করেন। ডেলিভারির পর আমার নবজাতক সন্তানকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার দেখভাল না করে ফেলিয়া রাখলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে আমার সন্তানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাই। ঢাকায় বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক আমার নবজাতক সন্তানকে দেখে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায়, আমার নবজাতক শিশুটির ব্রেইন, হার্ট, কিডনি সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। গর্ভবতীকালীন ও গর্ভের পূর্ববর্তী সময়ে শিশুর মা’কে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ঔষধ ও ইনজেকশন এবং ভুল সিজারিয়ানের ফলে শিশুটির এসব সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ এসব সমস্যা নিয়ে আমার নবজাতক সন্তানটি ১৮ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করে। পরে এসব বিষয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার (হ্যাপী) কে জানালে তারা আমার সাথে অশোভন আচরণ করেন। এসময় আমার থাকা হাসপাতালের সিজারিয়ানের কাগজপত্র রেখে দেয় ও মোটা অংকের বিল আদায় করে নেয়। এসব ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

এবিষয়ে হোপ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ আবুল কাশেম বলেন, আমরা এই বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিস থেকে কোন চিঠি এখনো পায়নি। আর ডাক্তার ম্যাডাম (হ্যাপী) বলেছেন, তিনি সিভিল সার্জন অফিসে কথা বলবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন শাহ আলম জানান, আমরা এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করে দিয়েছি। তারা ৭ কর্মদিবসে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিবেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১