শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডবের ঘটনায়

হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মোকতাদির চৌধুরী এমপির মামলা দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার | রবিবার, ০২ মে ২০২১ | পড়া হয়েছে 196 বার

হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মোকতাদির চৌধুরী এমপির মামলা দায়ের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের কর্মসূচী চলাকালে শহরজুড়ে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান, সাধারন সম্পাদক মুফতি মোবারক উল্লাহসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০০/১৫০ জনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে (আইসিটি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার ১লা মে, ২০২১ সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বে-সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।


র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবী ও শহর আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল জব্বার মামুন মামলাটি সদর থানায় দাখিল করেন।

মামলায় এজহারনামীয় অপর ১২ জন আসামী হলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি মাওলানা আশরাফুল হোসেন তপু, জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার শিক্ষক বোরহান উদ্দিন কাসেমী, ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আলী আজম, ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা এরশাদ উল্লাহ, ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা জুনায়েদ কাসেমী, ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নোমান আল হাবিব, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলা কমিটির আহবায়ক মমিনুল হাসান তাজ, সুলেমান মোল্লা, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক জুনায়েদ বাবুনগরির পিএস মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা আব্দুল হাকিম, সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন ওলামাতুলবার পরিষদের সভাপতি মাওলানা মনজুরুল হক ও খালেদ মোশারফ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে বাদি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বে-সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, তিনি তিনবারের সংসদ সদস্য। ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করেন। তিনি ঢাকা কলেজের জিএস ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে আহন হন। তিনি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রদত্ত সম্মান, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। তিনি একজন সরকারি উচ্চ পর্যায়ে চাকুরি করাকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি পর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে বে-সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। এছাড়াও তিনি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।

আরজিতে আরো বলেন, মামলার এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামীগন, কিছুদিন পূর্ব থেকেই বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈধ সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করিয়া সুযোগ খুঁজতে থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে গত ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারকীয় তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার নেতা-কর্মী, সমর্থকেরা।

মামলার আসামীরা এরই অংশ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র, গানপাউডার, ককটেল, হাতবোমা, বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করেন। এর আগে হেফাজতে ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোবারক উল্লাহসহ অন্যান্য আসামিদের নির্দেশে বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ, আইডি ও নিউজ পোর্টালে সাইবার সন্ত্রাস সংগঠিত করে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক, বিদ্বেষ ও ঘৃনা মূলক স্ট্যাটাস প্রদান করে জনসাধারনের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইন-শৃংখলার ব্যাপক অবনতি ঘটে।

শুধু তাই নয়, মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা উপস্থিত থেকে ইলেকট্রনিক্স বিন্যাসের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা তথ্য সংগ্রহ করে তাদের বক্তব্য জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ার নিজস্ব ফেসবুক পেইজে প্রচার করে। এরই এক পর্যায়ে গত ৩১ মার্চ আসামিগণ তাদের ব্যবহৃত ফেসবুক পেইজ জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ার মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য প্রদান করে বাদী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে ঘটনাকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার পাশাপাশি ঘটনার দায়ভার তার উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।

আসামিদের এরূপ বক্তব্য তাদের ডিজিটাল বিন্যাসের মাধ্যমে জাতীয় ও স্থানীয় ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচার করেন। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে শত্রুতা ঘৃনা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। এতে আইন-শৃংখলার চরম অবনতি হওয়ার উপক্রম সৃষ্টি করে। পাশাপাশি সমগ্র দেশে ও বর্হিবিশ্বের আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে আমি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা চালায়। যাহা ২০১৮ইং সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর ২৭,২৮,২৯,৩১ এবং ৩৫ ধারার অপরাধ সংগঠিত করে। বিষয়টি আমাকে সাক্ষীরা অবগত করলে ঘটনার দ্বিতীয় তারিখ ও সময়ে ঘটনাস্থলে আমি উক্ত বক্তব্য দেখে স্ক্রিনশট নিয়ে হার্ড কপি সংগ্রহ করি। এসব স্কিন শর্ট মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মামলাটি গ্রহন করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১