শিরোনাম

হুমকির মুখে সাংবাদিকরা

| বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | পড়া হয়েছে 549 বার

হুমকির মুখে সাংবাদিকরা

বছরের শুরুটাই হলো সাংবাদিক হত্যা দিয়ে। গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র হালিমুল হক মিরু ও শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদের সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় শটগানের গুলিতে সাংবাদিক শিমুল আহত হন। পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে সরকার দলীয় চার জন এমপির মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি অবজাভার’-এর অপরাধবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মামুনুর রশীদকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। তবে বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেকে) চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।


বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিতেই দুই সাংবাদিকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গণমাধ্যমসহ দেশের বিশিষ্ট মহলে আলোচনা উঠেছে। অনেকেই বলছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারি ভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এবং যেকোনো সরকার টানা একাধিকবার ক্ষমতায় থাকলে সেটিই হয়। এবং তা শুধু বাংলাদেশে নয়। মালয়েশিয়া এর অন্যতম উদাহরণ।

মোটরসাইকেলসহ ‘দুর্ঘটনা’য় পড়া ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি অবজাভার’-এর অপরাধবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক চিকিৎসাধীন মামুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একটি প্রাইভেট কার তাকে অনুসরণ করছিল৷ বেশ কয়েকবার চাপা দেওয়ারও চেষ্টা করেছে৷ কারওয়ানবাজার আন্ডারপাসের কাছাকাছি আসার পর আবারও তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি দ্রুত পাশ কাটাতে যান৷ একটি শিশু চলে আসে গাড়ির সামনে৷ মামুনুর রশীদের দাবি, সেই শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেল থেকে তিনি প্রায় ৬০ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন এবং মারাত্মক আহত হন৷ ইতোমধ্যে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে৷

গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২৩ জানুয়ারি ডেইলি অবজারভারে ‘পুলিশ অ্যাওয়েট পিএম’স অর্ডার টু ক্র্যাকডাউন অন ড্রাগ লর্ডস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ এতে সরকার দলীয় চারজন সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করা হয়৷ ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও প্রতিবেদক মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন৷ জাতীয় সংসদেও তিনি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন৷ নিজাম উদ্দিন হাজারী ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও বিষয়টি নিয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সমালোচনা করেন৷

এ বিষয়ে সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ লিখেছেন, ‘যার জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলন করছি, যার রিপোর্টের কারণে মাদক সিন্ডিকেটের সম্রাটরা সংসদে গলাবাজি করে, সাংবাদিক সমাজের অবিসংবাদিত নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংসদে বিষোদগার করে, সেই রিপোর্টার মামুন গুরুতর আহত৷ আসুন আমরা রুখে দেই সকল ষড়যন্ত্র।’

অপর এক সংবাদকর্মী হারুন উর রশীদ নিজের ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘কী কারণে প্রাইভেটকারটি তাকে ধাওয়া করেছে জানতে চাইলে মামুন বলেছেন তিনি বিভিন্ন সময় মাদক ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে সংবাদ করেছেন৷ তবে এ কারণেই তার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে কিনা তিনি নিশ্চিত না৷ তার মনে হচ্ছে, এটিও একটি কারণ হতে পারে।’

এদিকে, সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলায় সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ৷

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে রিপোর্ট করার কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনসহ ৬টি মামলা করা হয়৷ যদিও ৫২ দিন কারাবাসের পর তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

তবে কী কারণেল, কেন এবং কারা নাজমুল হুদাকে হয়রানি-নির্যাতন করেছে, এর নেপথ্যে কাদের হাত- এইসব প্রশ্নেরও ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এদিকে সারা দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে দেশের বিজ্ঞ মহল মনে করছেন, দিন দিন সরকার বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দেশে অপরাধ প্রবণতা যেমন বাড়ছে, একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের ধরনও পাল্টে গেছে। এমতাবস্থায় নিজেদের ক্লিন ইমেজ বজায় রাখতে সরকার গণমাধ্যমের বাক-স্বাধীনতাকে খর্ব করার প্রয়াস চালাচ্ছে।

( নিউজ ডেস্ক )

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০