শিরোনাম

হাসপাতালে বসে টাকা নেন চিকিৎসক অভিযোগকারিদের ছাড়াই তদন্ত সত্যতা পায় নি কমিটি

ডেস্ক ২৪ | মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৬ | পড়া হয়েছে 628 বার

হাসপাতালে বসে টাকা নেন চিকিৎসক অভিযোগকারিদের ছাড়াই তদন্ত সত্যতা পায় নি কমিটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে রোগীদের কাছ থেকে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুক্তাদির ভূঁইয়ার টাকা নেওয়ার সত্যতা পায় নি তদন্ত কমিটি। এ বিষয়ে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি রবিবার আখাউড়ায় এসে তদন্ত করে যান। তবে টাকা দেওয়ার অভিযোগকারিদেরকে তদন্ত কার্যক্রমে ডাকা হয় নি।

অথচ এ নিয়ে সংবাদ পড়ে আইনমন্ত্রী ও কসবা-আখাউড়ার সংসদ সদস্য আনিসুল হক স্বপ্রণোদিত হয়ে খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। মূল অভিযোগকারিদেরকে খোঁজে বের করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য লোক মারফত লিখিতও নেন তিনি। পরে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন সিভিল সার্জনকে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১০ এপ্রিল এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই অভিযুক্ত চিকিৎসককে বাঁচাতে উঠে পড়ে লাগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন। ডা. মুক্তাদির ভূঁইয়া নিজেকে ছাত্রলীগ করা চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বাঁচার জন্য নিজ দপ্তরে তদবির শুরু করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) আবু ছালেহ মো. মুসা খান  তদন্ত কার্যক্রম শেষে  বলেন, ‘তদন্তে গেলে কেউ তো ডাক্তারের বিষয়ে অভিযোগ করেনি। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরাও এ বিষয়ে কিছু বলেনি’। সংবাদে উল্লেখ করা অভিযোগকারি দু’জনকে তদন্ত কার্যক্রমে ডাকা হয়েছে কি-না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তো তাদেরকে চিনি না। যে কারণে আখাউড়ার ইউএইচও কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁদেরকে হাজির করার জন্য। তাঁদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে’।
আখাউড়ার ইউএইচও ডা. মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালের কর্মচারি অরুন বনিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের কাছে চিঠি পাঠানোর জন্য। কিন্তু অভিযোগকারিরা তদন্ত কমিটির সামনে আসেনি’। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটিকে আমি বলেছি সেদিনের ঘটনার জন্য আমি মর্মাহত। এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কেও কিছু পরামর্শ দিয়েছি’।
অরুন বনিক বলেন, ‘পত্রিকায় যাদের নাম উঠেছে তাদেরকে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাওয়া যায় নি’। আইনমন্ত্রী লোক পাঠিয়ে যেখানে কয়েক ঘন্টার মধ্যে খোঁজে পায় সেখানে এক সপ্তাহেও তিনি কেন পেলেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি চুপ থাকেন।
এ প্রসঙ্গে আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ‘পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশিত হলে মন্ত্রী মহোদয় (আইনমন্ত্রী) আমাকে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে বলেন। আমি কয়েক ঘন্টার মধ্যে ডাক্তারকে টাকা দেওয়ার অভিযোগকারিদেরকে খোঁজে বের করে মন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক লিখিত নেই। এখন তদন্ত কমিটি যদি এর সত্যতা না পায় তাহলে ব্যাপারটা দু:খজনক’।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আহ্সান হাবিব জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পর্যায়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি কথা বলেন। ওই কর্মকর্তা তখনই বলে দেন যে, ঘটনাটি ঠিক নয়। অথচ অনেকেই আমাকে বলেছেন যে ওই ডাক্তার সত্যিই হাসপাতালে বসে টাকা নেন।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১