শিরোনাম

নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে সমাহিত কাজী আনোয়ার

হাজার-হাজার মানুষের অশ্রম্নসজল চোখে শেষ বিদায়

নবীনগর (ব্রাক্ষণবাড়িয়া)প্রতিনিধি : | শনিবার, ০৪ মার্চ ২০১৭ | পড়া হয়েছে 460 বার

হাজার-হাজার মানুষের অশ্রম্নসজল চোখে শেষ বিদায়

নিজের প্রতিষ্ঠিত মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কাজী মো: আনোয়ার হোসেন। গতকাল বাদ আসর তার নিজ গ্রামে তৃতীয় দফা নামাজে জানাযা শেষে তাকে সেখানে সমাহিত করা হয়। এরআগে উপজেলা সদরে তার নামাজে জানাযা হয়। হাজারো মানুষ অশ্রম্নসজল চোখে শেষ বিদায় জানান তাকে। নবীনগরের দু’টি নামাজে জানাযায় নেমে ছিলো মানুষের ঢল। নবীনগরের মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন আনোয়ার। শেষ বিদায়ে সেটি আবারো প্রমান হলো। নবীনগরের আনাচ-কানাচ থেকে মানুষ ছুটে এসে ছিলেন তাকে শেষ বারের মতো একবার দেখতে। নিরবে ফেলেছেন চোখের জল। তার জানাযায় যোগ দেন সব রাজনৈতিক দলের নেতারা। একবাক্যে সবাই বলেছেন রাজনীতির মাঠে আনোয়ার ছিলেন রাজনৈতিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির প্রতীক। বিএনপি’র রাজনীতি করলেও অন্য সব দলের নেতাকর্মীরাও তাকে পছন্দ করতেন ভালো ব্যবহারের জন্যে। গতকাল সকাল ১১ টায় ঢাকা থেকে তার লাশ নবীনগরে পৌছে। নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাকে একনজর দেখার জন্যে হুমড়ী খেয়ে পড়েন হাজারো মানুষ। ছুটে আসেন জেলা ও অন্যান্য উপজেলার বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। ঢাকা থেকে ছুটে আসেন আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা। দুপুর ২ টায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ তানভীর গাজী ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মেজবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করেন। জানাযার আগে বক্তৃতা করেন- কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদ কামাল, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাজী মো: মামুনুর রশিদ, জেলা বিএনপি সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, নবীনগর উপজেলা  বিএনপি সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মঞ্জু, আওয়ামীলীগ নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য বোরহান উদ্দিন নসু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন সরকার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ ও প্রয়াত সংসদ সদস্যের ছেলে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস প্রমুখ। নামাজে জানাযা ইমমতি করেন মুফতী বেলায়েত উল্লাহ। তার মৃত্যুতে ছুটি ঘোষনা করা হয় নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টায় ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন কাজী মো: আনোয়ার হোসেন। তার মৃত্যুর খবর মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ে নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র। নেমে আসে শোকের ছায়া। গতকাল সকাল থেকেই উপজেলার দূরদূরান্ত থেকে দলে দলে লোক আসতে থাকে উপজেলা সদরে। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে জড়ো হন তারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। তার মৃত্যুতে কালোব্যাজ ধারন করেন দলের নেতাকর্মীরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে টানানো হয় কালো রংয়ের ব্যানার। উপজেলা সদরে নামাজে জানাযা শেষে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি রতনপুর ইউনিয়নের যশতুয়া গ্রামে। গ্রামের বাড়িতে লাশ পৌছার পর চারদিক থেকে দলে দলে ছুটে আসেন নারী-পুরুষ। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকে। বাদ আসর এখানে তার তৃতীয় দফা নামাজে জানাযা হয়। এরপর তার লাশ নিজের প্রতিষ্ঠিত আনোয়ারুল আল মদিনা মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রাঙ্গনে দাফন করা হয়। শুক্রবার বাদ আসর ঢাকার গুলশান-২ এর সোসাইটি মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাযা হয়। কাজী মো: আনোয়ার হোসেন ১৯৫৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জশাতুয়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম মরহুম কাজী আরফান উদ্দিন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫  নির্বাচনী এলাকা থেকে  ১৯৮৬, ১৯৮৮, ও ১৯৯১, ২০০১ সালে   সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখনকে পরাজিত করেন আনোয়ার। কাজী আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের জটিল রোগে ভোগছিলেন। তিনি এরআগে সিংগাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশে ফিরে ভর্তি হয়েছিলেন এ্যাপোলো হাসপাতালে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০