শিরোনাম

সড়ক পরিবহন আইন বাজেট অধিবেশনে উঠতে পারে: আইনমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি : | রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | পড়া হয়েছে 88 বার

সড়ক পরিবহন আইন বাজেট অধিবেশনে উঠতে পারে: আইনমন্ত্রী

সংসদের আগামী বাজেট অধিবেশনেই সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডঃ আনিসুল হক এম.পি। অপর এক প্রশ্নে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে আনতে সরকারের নানা তৎপরতার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

আজ রবিবার (২২.০৪.২০১৮) রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সিনিয়র সহকারী জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন শেষে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।


সড়ক পরিবহন আইন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে আইনমন্ত্রী অ্যাডঃ আনিসুল হক এম.পি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৭ খসড়া অনুমোদন হওয়ার পর এটা নিয়ে তিনটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে। এখন আইনটি নিয়ে আমরা ভেটিং (পর্যালোচনা) পর্যায়ে আছি। যেহেতু এটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন, সেহেতু আমরা সকল স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা করছি।’

আইনটি কবে নাগাদ পাশ হতে পারে তার জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেট সেশনে এই আইনটি সংসদে উত্থাপনের মত প্রস্তুতি আমাদের আছে। সম্প্রাতিক কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা তুলে ধরে খসড়া আইনটি নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনটি নিয়ে কেউ যদি ঢালাওভাবে মন্তব্য করে, এখানে যারা লাউসেন্সবিহীন চালক তারা ফোকাস না, তাহলে কথাটা ঠিক হবে না। তার কারণ হলো, আমরা সড়ক পরিবহনের এ টু জেড দেখছি। যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, দুর্ঘটনা ঘটলে তারপর কি হবে এবং দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য ৩/৪টা জিনিস দেখতে হয়। এক প্রশিক্ষণ; দুই. লাইসেন্স; তিন. গাড়ির ফিটনেস এবং চার. রাস্তা। সেইসব দিক দেখে এটিকে পরিপূর্ণ আইন করতে সময় লাগছে।’

তিনি আরও বলেন, এমন না যে এ বিষয়ে কোন আইন নেই এখন। আইন আছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে যে আইনটি করার চেষ্টা করছে যেটা যুগোপযোগী। সেক্ষেত্রে সময় লাগছে। সড়ক পরিবহনের সাথে সংশ্নিষ্ট সকল কিছুকে এই আইনের মাধ্যমে অ্যাডড্রেস (সম্পৃক্ত) করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডঃ আনিসুল হক বলেন, এ মামলাগুলো যখন আদালতে আসবে তখন আইন অনুসারে চালক ও গাড়ীর মালিকদের যেন যথাযথ শাস্তি হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী।

তারেক রহমানকে দেশে আনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে আলোচনা, যাদের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইতিবাচক দিক দেখছি বলেই আলোচনা চলছে। না আনা পর্যন্ত আলোচনা ফলপ্রসু হচ্ছে কি-না, সেটা বলা যাচ্ছে না।

যুক্তরাজ্যের সাথে বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকা সত্বেও তারেক রহমানকে কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকলেও বন্দি বিনিময় চুক্তি করতে কিন্তু কোন বাধা নেই। এখন মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল এসিস্টেন্স অ্যাক্ট বলে একটি আইন রয়েছে। সে আইন অনুসারে কিছু কিছু অপরাধের অপরাধীদের বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও সরকার তাদের আনতে পারে। ওই আইনটি আমাদের দুই দেশের মধ্যে আছে এবং ইউনাইটেড নেশনসেও এটি একটি ধার্য্যকৃত আইন। সেক্ষেত্রে সেই কো-অপারেশনও (সমন্বয়) আমাদের দুই দেশের মধ্যে আছে।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিচারকদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী অ্যাডঃ আনিসুল হক বলেন, বিচার বিভাগের উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কখনই পিছপা হয়নি। মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সরকরা সৎ, নিষ্ঠাবান, দক্ষ, মেধাবী ও পরিশ্রমী বিচারক গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছে।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১