শিরোনাম

চিকিৎসার নামে প্রতারণা!

সোভন নেওয়াজ সরাইলের বড় ডাক্তার

সরাইল প্রতিনিধি : | শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 446 বার

সোভন নেওয়াজ সরাইলের বড় ডাক্তার

মানুষের অসুস্থ্যতাকে এক শ্রেণীর মানুষ চিকিৎসার নামে বাণিজ্য করছে। বিভিন্ন স্থানে সনদ বিহীন ভুয়া ডাক্তার আরিশান চেম্বার খুলে বসেছে। ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিও এখন ডিএমএ ডিগ্রীর চিকিৎসক। ভিজিট ও অনেক। আলীশান মার্কা চেম্বারে বসে ডাক্তার নামধারী কয়েকজন চিকিৎসার নামে রোগীদের সাথে করছেন প্রতারণা। অনেকে নিজের ফার্মেসিতে বসে চিকিৎসক সেজেও রাত-দিন দেদার দেখছেন রোগী। অত্যন্ত কৌশলে প্রেসক্রিপশন নিজের হাতে রেখে টোকেনের মাধ্যমে নাম সর্বস্ব কোম্পানীর ঔষধ বিক্রি করে দু’হাতে কামাই করছেন টাকা। আর এসব অনিয়ম দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেওয়ার শর্তে নাম সর্বস্ব পত্রিকার কথিত কিছু সাংবাদিক নিয়মিত নিচ্ছে মাসোয়ারা। অনুসন্ধানে একাধিক প্রকাশ্য ও গোপন সূত্রে জানা যায়, মোঃ সোভন নেওয়াজ। বাড়ি রংপুর জেলায়। ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি পদে চাকুরির সুবাধেই আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

গত ৮-৯ বছর ধরে এ জেলায় চাকুরি করছেন তিনি। প্রথমে একটি কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি। পরে আরেকটি কোম্পানীর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হয়ে চলে যান নিজ জেলায়। বছর দিন পর আবার চলে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। চিকিৎসকদের ভিজিট করতে করতে এক সময় নিজেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই সাথে কাজ করে লোভ। হঠাৎ করে জেলা থেকে লাপাত্তা হয়ে যান সোভন। বছর দিন পর এসে শুরু করেন প্র্যাকটিস। প্র্যকটিসের বিষয়টি কর্তপক্ষ জেনে যাওয়ায় চাকুরিচ্যুত হন সোভন। পরে প্রথমে কুট্রাপাড়া গ্রামে একটি ফার্মেসিতে বসে ভিজিটের বিনিময়ে শুরু করেন রোগী দেখা। গত ১/ দেড় বছর আগে পরিবার নিয়ে সরাইলের উচালিয়া পাড়া গ্রামে ভাড়া বাসায় ওঠেন তিনি। তৈরী করেন চার রং এর প্যাড। প্যাডের উপরের দু’দিকে নামের আগে ডাক্তার উপাধি সম্বলিত নাম ও ঠিকানা। রয়েছে ডি এম এ ডিগ্রী। বড় করে লিখা রয়েছে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, হাড়-জোড়া বাত ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট/ হাপাঁনী ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞ। রোগী দেখার সময়- সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। আবার রয়েছে অত্যাধুনিক রাবার ষ্ট্যাম্প। ভাব ভঙ্গিমায় তিনি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এমবিবিএস চিকিৎসকদেরকেও হার মানিয়েছেন। তার আর অন্য কোন পেশা নেই। প্র্যাকটিসই মূল পেশা। ৬টি রোগের উপর অভিজ্ঞ চিকিৎসক সোভন নেওয়াজের ভিজিট ২’শ টাকা। ¯্রােতের মত আসছে রোগী। অথচ ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চ আদালতের এক আদেশে বলা হয়েছে- এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রীধারী ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ডাক্তার শব্দটি ব্যবহার করতে পারবেন না। এ আইন ও মানছেন না সোভন নেওয়াজ।


বর্তমানে কালিকচ্ছ বাজারের মালিক ম্যানশনের রাফি মেডিকেল সেন্টার নামক ফার্মেসিতে চেস্বার করে রাত-দিন রোগী দেখছেন। ৪-৫টি ঔষধ কোম্পানীর এমআর সর্বক্ষণ ডাঃ সোভনের সেবায় ব্যস্ত থাকেন। সকালে মটরবাইকে করে দিয়ে আসেন কালিকচ্ছে। দুপুরে খাবার জন্য নিয়ে আসেন উচালিয়া পাড়ায়। আবার দিয়ে আসেন চেম্বারে। রাতে ঔষধ কোম্পানীর লোকজনই তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেন। মাস শেষে ওই কোম্পানীর প্রতিনিধিরা সোভনের হাতে তুলে দেন একটি খাম। স্যাম্পল তো আছেই। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানীর প্রতিনিধির কাছে অত্যন্ত কৌঁশলে নিজেই চেয়ে বসেন সুবিধা। এভাবেই চলছে সোভনের চিকিৎসা সেবা। অভিযুক্ত মোঃ সোভন নেওয়াজ ভিজিট নিয়ে রোগী দেখার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি ডিপ্লমা কোর্স করেছি। সরাইলের একটি ক্লিনিকেও চিকিৎসা দিতাম। সিভিল সার্জন মহোদয় আমাকে ডেকে নিয়েছিলেন। প্যাডে ডাক্তার লিখে ফেলেছি। ওইগুলো ফেলে দিব। নতুন ভাবে পল্লী চিকিৎসক লিখে প্যাড তৈরী করে নিব। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ আনাস ইবনে মালেক বলেন, তিনি কোর্স করেছেন কিনা জানি না। ডিএমএ কোর্সে কিছু রোগের ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা দেওয়া হয়। শুধু কোর্স করলেই প্র্যাকটিস করা যাবে না। নিবন্ধিত হতে হবে। উনার নিবন্ধন আছে কিনা আমাদের জানা নেই। সরাইল উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, সত্যিকার অর্থে চিকিৎসার নামে প্রতারণার প্রমান পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০