শিরোনাম

সেবা নিশ্চিত না করেই আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আশুগঞ্জ প্রতিনিধি : | মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 531 বার

সেবা নিশ্চিত না করেই আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অবশেষে উদ্বোধন হতে চলেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বুধবার (২৪.০১.২০১৮) স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই হাসপাতালটির উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে হাসপাতালটিতে নেই জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যনেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনীঅবস) ও ডেন্টাল সার্জন। এছাড়াও প্যাথলজি ল্যাবের যন্ত্রপাতি, এ্যাম্বুলেন্সসহ অপারেশন থিয়েটারের লাইটসহ হাসপাতালের অনেক আসবাবপত্র এখনো আসেনি। তারপরেও তড়িঘরি করে উদ্বোধন হতে চলেছে হাসপাতালের। তাই এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার উদ্বোধন হতে চলেছে নাকি শুধুই লোক দেখানে হাসপাতালের ভবনের উদ্বোধন হতে চলেছে। তবে জেলা সিভিল সার্জন জানালেন খুব দ্রুতই প্রতিটা বিষয় দেখে তা সমাধান করা হবে।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, আটটি ইউনিয়ন ও ৪১টি গ্রাম নিয়ে ১৯৯৫ সালে ৬৭ দশমিক ৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গঠিত উপজেলার দুই লাখের বেশি মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ১২ মে স্থানীয় এক জনসভায় আশুগঞ্জে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদ ভবনের নিচ তলার একটি কক্ষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম চালু হয়। তখন চিকিৎসক ও জনবলসংকট না থাকলেও নিজস্ব ভবন না থাকায় সেখানে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাব সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদের পাশের পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণ শেষে ২০১৪ সালে ৯ নভেম্বর ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরু করেন ঢাকা মার্কেন্টাইল কর্পোরেশন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ১৭ কোটি ৫৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ১০টি পদ থাকলেও বর্তমানে চারটি শূণ্য রয়েছে। এর মধ্যে দু’জন মাতৃত্বকালীন ছুটি ও একজন প্রেষণে ঢাকায় রয়েছেন। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন আবাসিক চিকিৎসক, জুনিয়র কনসালটেন্ট চার জনের বিপরীতে তিনটি পদই শূণ্য রয়েছে। মেডিকেল অফিসার তিনজনের স্থলে আছে দুই জন। দুইজনের একজন ফারজানা নূর চলতি গত বছরের ১ মে ও আরেকজন নুরুন্নাহার ২০১৬ সালের ১০ জুলাই থেকে ঢাকার মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃ ইনন্সিটিটিউডে প্রেষণে রয়েছেন। ডেন্টাল সার্জন একমাত্র পদে থাকা চিকিৎসক সিনথিয়া রহমানও রয়েছেন ছুটিতে। দ্বিতীয় শ্রেণির সিনিয়র স্টাফ নার্স থাকলেও মিডওয়াইফ নার্সের চারটি পদের মধ্যে তিনটি শূণ্য। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির ৪৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪০জন।
তবে হাসপাতালটিতে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যনেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনীঅবস) ও ডেন্টাল সার্জন না থাকার কারণে উদ্বোধন হলেও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু নিশ্চিত করতে পারবে না হাসপাতালে। এছাড়াও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব এর যন্ত্রপাতি না থাকায় রোগীদের পরীক্ষা নিরিক্ষাও করা সম্ভব নয়। এছাড়াও হাসপাতালটিতে নেই এ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা। এমতাবস্থায় সুস্থ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে এলাকার সাধারণ রোগীরা। এতো কিছু না থাকার পরেও তড়িঘড়ি করে হাসপাতালটি উদ্বোধন করা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দাবি জানান হাসপাতালটিতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের।

এব্যাপারে চিকিৎসা নিতে আসা খোদেজা বেগম, আয়েশা আক্তার ও খালেক মিয়া সহ আরো অনেকেই জানান, হাসপাতালে এখনও সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হয়নি। মাতৃত্বকালীন কোন মহিলা এখানে সেবা নিতে আসলে কোন সমস্যা হলে তাদের করার কিছু নাই। এছাড়াও অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেখানে যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম না থাকায় সেখানে চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা নয় নির্মিত ভবন উদ্বোধন করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জাগ্রত আশুগঞ্জবাসীর সদস্য সচিব ঈসা খান জানান, হাসপাতালের উদ্বোধন করার আগে স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার মতো ডাক্তার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার দরকার ছিল। উদ্বোধন করে লাভ কি হবে যদি সাধারণ রোগীরা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিতে না পারে। তাই দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যনেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনীঅবস) ও ডেন্টাল সার্জন সহ এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার।
আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সরোয়ার মাহবুব বলেন, ৫০ শয্যা নামে হলেও মূলত এটি ৩১ শয্যার হাসপাতাল। এখানে এক্স-রে মেশিন পাওয়া গেলেও আল্ট্রাসনোগ্রাফ ও ইসিজির কোনো মেশিন এখনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এছাড়া এখানে যা আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় সবই অপ্রতুল। ডাক্তারদের স্বল্পতার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন চিকিৎসক নিশিত নন্দী মজুমদার জানান, যে কোন কাজই শুরু করতে হয়। তাই আমরা মন্ত্রী মহোদয়কে এনে হাসপাতালের কার্যক্রমকে শুরু করতে যাচ্ছি। এখানে যেসব আসবাবপত্রসহ অন্যান্য প্রতিকূলতা আছে তা সমাধানের জন্য আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১