শিরোনাম

সেনা সদস্য বাহার হত্যা মামলা ,আসামী ধরায় আগ্রহ নেই পুলিশের

ডেস্ক ২৪ | শনিবার, ২৫ জুন ২০১৬ | পড়া হয়েছে 711 বার

সেনা সদস্য বাহার হত্যা মামলা ,আসামী ধরায় আগ্রহ নেই পুলিশের

গ্রামে হামলা থেকে বেচে গেলেও ১০ দিনের মাথায় শহরে খুন হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো: বাহার উদ্দিন সরকার(৪৫)। হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছিলো। মামলা হয়েছে খুনেরও। কিন্তু এই দুই মামলার কোনটিরই আসামী ধরছেনা পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ থানা পুলিশের পক্ষপাতমুলক আচরনে খুন হতে হলো বাহারকে। তার ওপর হামলার মামলা নেয়নি থানা। আদালতে মামলা দিলেও আসামী ধরেনি পুলিশ। এতে সাহসী হয়ে উঠে ঘাতকরা। ১০ দিন না পেরুতেই খুন করে ফেলা হয় তাকে। পরিবারের অভিযোগ এখন খুনের মামলার আসামীদেরও ধরছেনা পুলিশ। ঘটনার পরপর একজন আসামী ধরা পড়লেও তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। পরিবারের লোকজন বলছেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বের হতো এ খুনের সাথে কারা জড়িত। আসামী ধরা দূরে থাক বাহারের মিলাদ মাহফিল আয়োজনেও বাধা দিয়েছে পুলিশ।
নবীনগরের বীরগাও গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বাহার খুন হন গত ২৫ শে এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পীরবাড়িবাড়ি এলাকায়। উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত ও জবাই করে হত্যা করা হয় তাকে। পুলিশ তাৎক্ষনিক বীরগাও গ্রামের কাজী সাফি মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৫)কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। বাহারের স্ত্রী আফরোজা বেগম এ হত্যা ঘটনায় ১০ জনকে আসামী করে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি মামলা দেন। এ মামলায় মামুন ছাড়াও আসামী করা হয় বীরগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির আহমেদ(৫০),তার ভাই আল আমিন(৩০),জাহাঙ্গীর(৩৫) ও আলমগীর(৩২),কবিরের ছেলে সুমন আহমেদ(২৪),শামিম আহমেদ(২৮),আমজাদ হোসেন(৩৫),রফিক মিয়া(৫০),বিপুল(২৫)সহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪জনকে। মামলার এজাহারে বলা হয়- মামলার প্রধান আসামী মামুন বাহারকে তার শহরের ফুরবাড়িয়াস্থ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় পাওনা ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেবে বলে। পীরবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পর আসামীরা তাকে ছুরিকাঘাত ও জবাই করে হত্যা করে। বাহারের শরীরের বিভিন্নস্থানে ছোরার ১৩টি আঘাত করা হয়। এই মামলা দায়ের করার দেড়মাস পরও পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করেনি। পরিবারের অভিযোগ পুলিশ খুনের সাথে একজনই জড়িত বলে চুপ করে বসে থাকে। খুনের রহস্য উদঘাটনে ঘটনার পর গ্রেফতারকৃত মামুনকেও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা থেকে বিরত থাকে। ঘটনার পরদিনই ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নেয়া হয় সে নিজে খুন করেছে বলে। কারাগারেও তাকে জামাকাপড় ও টাকা পয়সা সরবরাহ করে হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামীরা। বাহারের পরিবারের লোকজন বলেন- হত্যাকান্ডে জড়িতরা মামুনের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা চালায়।
গ্রামে বিরোধ ও পরবর্তীতে হামলার ঘটনায় মামলা দেয়ার জেরে খুন করা হয় বাহারকে। গত ফেব্রুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৫ বার বাহারের ওপর হামলা চালানো হয়। হত্যার চেষ্টা করা হয় তাকে। সর্বশেষ গত ১৫ ই এপ্রিল বাহার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জেলা শহরে আসার পথে বাইশমৌজায় তার ওপর দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা হয়। এ সময় বাহারের স্ত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটায় হামলাকারীরা।
এ ঘটনায় বাহারের স্ত্রী আফরোজা বেগম নবীনগর থানায় মামলা দিতে গেলে নবীনগর থানা মামলা নেয়নি। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে কাবিল মিয়া(২৫)কে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আরো আসামী করা হয় ,কাউছার(২৭),হযরত আলী(২৮),সেন্টু মিয়া(২২),সুমন আহমেদ(২৫),শামীম আহমেদ(২২),জিল্লু মিয়া(৩০),দিলু মিয়া(২০),আমজাদ হোসেন(৩৫)কে। কিন্তু আসামীদের কাউকেই গ্রেফতার করেনি পুলিশ। বাহারের স্ত্রী মামলার বাদী আফরোজা বেগম অভিযোগ করেন এই মামলার আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় তারা সাহসী হয়ে উঠে। পরবর্তীতে খুনের ঘটনা ঘটায়। তিনি বলেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামী কবির আহমেদ বিভিন্ন সময় ৪/৫ জনকে খুন করার ঘোষনা দেন। বলেন, তার ভাই আল আমিন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা হওয়ায় ৪/৫জনকে খুন করলে থানার ওসি’র কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই। তিনি অভিযোগ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানায় বাহার হত্যা মামলা দিতে গেলে প্রথমে মামলা নিতেই রাজি হয়নি। মামলা নিলেও আসামী ধরায় কোন তৎপর হয়নি। বরং আসামীপক্ষ অর্থশালী হওয়ায় এই মামলা নিয়ে সিআইডি, পিআইবি(পুলিশ ব্যুরো ইনভেষ্টিগেশন) টানা হেচড়া শুরু করে। আমাকে ডেকে নিয়ে বলে মামলা তাদের কাছে দিয়ে দেয়ার জন্যে। তিনি বলেন আমি শতভাগ নিশ্চিত আমার স্বামী হত্যার সঙ্গে কবির ও তার ভাই আল আমিন জড়িত। ঘটনাস্থলে গিয়েও দারোগার পায়ে ধরে বলেছি আমার স্বামী বাচ্চা ছেলে নয়। তাকে একা কেউ মারতে পারেনা। আমার প্রশ্ন মামুন কি একাই ১৩ টা ঘাই মারতে পারলো। কিন্তু পুলিশ সে কথা শুনেনি। গ্রেফতারকৃত মামুনকে রিমান্ডে এনে জিঞ্জাবাদেও গড়িমসি করে থানা পুলিশ। কিন্তু মামুন অনেকের কাছেই বলেছে সে কারো নাম বললে তার বউ বাচ্চা থাকবেনা।
পরিাবরের সদস্যরা অভিযোগ করেন-বাহারকে এরআগে বিভিন্নভাবে হুমকী দেয়া হয়। হত্যার ২ দিন আগেও বাহারের মোবাইলে ফোন করে গালাগাল করা হয়। নির্বাচনের সময় ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন বাহারের পিতা নাসির উদ্দিন সরকারকে বাড়িতে গিয়ে বলে আসে দাদা তুমি এখন বুঝবানা পরে বুঝবা। বাহারের বোন নাজমা আক্তার বলেন- ভাইকে মারার এক সপ্তাহ আগে আমার নাম্বারের ফোন করে বলে তুই তোর ভাইরে নিয়া এতো গর্ভ করিস দেহিস তোর ভাইয়েরে কি করি। বাহারের স্ত্রী আফরোজা বলেন ১৫ এপ্রিল আমার সামনে কাবিল,কাউসার,আমজাদ,সেন্টু আমার স্বামী বাহারকে রিকসা থেকে টেনে নামিয়ে ফেল্।ে তাকে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সে কাত হয়ে পড়লে তার পিঠে আঘাত লাগে। এরপর শরীরের বিভিন্নস্থানে তাকে আঘাত করে। এসময় আমাকেও টানাহেচড়া করে।
বাহারের মৃত্যুতে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বাড়িতে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। নবীনগর থানার দারোগা সুখেন্দ ফোন করে মিলাদ পড়াতে নিষেদ করেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। বলেন গ্রামে কোন মিলাদ হবেনা। নাজমা আক্তার বলেন দারোগা আমার ভাইয়ের নাম্বারে ফোন করেছিলো। তখন আমি দারোগাকে ফোন করে কি কারনে মিলাদ পড়ানো যাবেনা তা জানতে চাইলে দারোগা আমাকে বলেন এনিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আইন তোমাদের পক্ষে থাকবেনা। বাহার হত্যা মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার এসআই মাহফুজ হাসান সিদ্দিকী বলেন-তদন্ত চলছে। বলেন ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজনকে সন্দেহমূলক গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মামুনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ৪/৫ দিন আগে। তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বাহারের ওপর হামলার ঘটনায় দেয়া মামলার আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন- আসামীদের অবশ্যই ধরা হবে। আমরা চেষ্টা করছি। আসামী গ্রেফতারে কয়েকবার চেষ্টাও করা হয়েছে। বীরগাও গ্রামে যেতে হয় নৌকা বা স্প্রীড বোটে। থানা থেকে যেতে সময় লাগে একঘন্টা। সেখানে যেতে যেতে আসামীরা খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। বাদী পক্ষের লোকজনকেও আসামী ধরতে সহায়তা করতে হবে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০