শিরোনাম

সেতুর চারপাশ বালু দিয়ে ভরাট!

নবীনগর প্রতিনিধি : | মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 563 বার

সেতুর চারপাশ বালু দিয়ে ভরাট!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নে নবীপুর গ্রামে তিনটি সেতুর নীচের অংশ বালি দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এতে করে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নবীপুর ও লাপাং গ্রামে প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগ পোহায় এলাকার মানুষ।

অভিযোগ উঠেছে, এলাকার এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ভাই ভরাটের কাজে জড়িত। এমনকি সেতুর নীচের পাশাপাশি আশেপাশের জায়গা ভরাট করে বিক্রিও করে দিচ্ছেন। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। তবে ইতিমধ্যেই একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


অভিযোগ পত্রে বলা হয়, উপজেলার নবীপুর মৌজায় সরকারি খাস খতিয়ান অন্তর্ভুক্ত ১৪২৩, ১৪২৭, ১৬৭৫ সরকারি খাস ভূমির মোট ৫১ শতাংশ বালি দিয়ে ভরাট করে কিছু অংশ বিক্রয় ও কিছু অংশ বসতবাড়ি, কিছু অংশ মাছ চাষ করে অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও তার ছোট ভাই আবু কাউছারের বিরুদ্ধে। গত ১৯ নভেম্বর লাপাং ও নবীপুর গ্রামের প্রায় ২৮৬ জন এলাকাবাসী’র স্ব-স্বাক্ষরিত দু’টি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দাখিল করা হয়।

কথা হলে লাপাং গ্রামের ফিরোজ মিয়া, হাবিবুর রহমান, সুরাইয়া আক্তারসহ আরো অনেকে জানান, সেতুর নীচ দিয়ে খাল ছিল। ওই খাল দিয়ে নিয়মিত নৌকা চলাচল করতো। বালু দিয়ে খাল ও এর আশেপাশের এলাকা ভরাটের ফলে বর্ষায় বাড়ি ঘরে পানি উঠে যায়। ভরাটের সময় বাধা দিলেও আনোয়ার হোসেন ও তাঁর ভাই কাউছার কথা শুনেনি।

অভিযোগকারী মো. শরীফ মিয়া জানান, ১৪২৩, ১৪২৭, ১৬৭৫ হাল দাগের সরকারি খাস ভূমি বালু দ্বারা ভরাট করে জনগনের চলাচলের জন্য নির্মিত তিনটি ব্রীজ সম্পূর্ন অকেজো করে মোট ৫১ শতাংশ নবীপুর মৌজার খাস ভূমি কিছু অংশ বিক্রয়, বাকি অংশ অবৈধ ভাবে দখল করে জন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী স্বার্থে প্রশাসন ও মাননীয় এম.পি মহোদয়ের সহায়তা কামনা করছি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নবীপুর ও লাপাং এলাকায় ছোট ছোট চারটি সেতু রয়েছে। সব কয়টি সেতুর নীচের অংশই বালু দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে। সেতু থাকলেও নেই কোনো সংযোগ সড়ক। সেতুর উপরে নির্মাণ সামগ্রী রাখা। একটি সেতুর উপর বেড়ে উঠেছে সবজি গাছ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায় নি। তবে ছোট ভাই আবু কাউছার জানান, অনেক আগেই এসব জায়গা ভরাট করা। যাদের বাড়ির সামনে খাল তারাই সেটা ভরাট করেছেন। তিনি এর সঙ্গে জড়িত নন। তবে একটি জায়গায় পাইপ বসানোর কাজ তিনি করেছেন এলাকার মানুষের চলাচলের স্বার্থে।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আশফাকুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে সেতুর নিচের অংশ ভরাটের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে সরকারের বর্তমান রেকর্ডে ওই দাগের জায়গা গুলি শ্রেণি গোপাট হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পুরোনো নথিতে কি আছে তা দেখা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১