শিরোনাম

সাংবাদিকতা নিয়ে একটা প্রচলিত গল্প আছে

| বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ | পড়া হয়েছে 744 বার

সাংবাদিকতা নিয়ে একটা প্রচলিত গল্প আছে

একবার এক দেশের প্রধানমন্ত্রী নদীপার হবেন। তো ঘাটে একটা নৌকা বাঁধা দেখেও প্রধানমন্ত্রী কী ভেবে সাঁতরে অন্য পারে চলে গেলেন। পরদিন একটা পত্রিকায় লেখা হলো, ‘প্রধানমন্ত্রী নদীপারের দেশে গিয়েছেন’। আরেকটা পত্রিকার শিরোনাম হলো, ‘কায়িক পরিশ্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী!’ অন্য আরেকটা পত্রিকায় লেখা হলো, ‘প্রধানমন্ত্রী নৌকা চালাতে জানেন না!’

হয়তো প্রত্যেকটা শিরোনামই ঠিক। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা প্রত্যেকে কিন্তু সবগুলো সত্য দেখতে পাইনা, দেখি যেকোনো একটা- এবং তার উপর ভিত্তি করেই একটা মতামত দাঁড় করিয়ে ফেলি। এজন্য একটা পত্রিকা পড়লে যাকে দেবতা মনে হয়, অন্য পত্রিকা দেখে তাকেই দানব ভাবা হয়। এটা হলো জনমতকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মিডিয়ার একটা কৌশল।


একটা খুব সহজ উদাহরণ দেই:
এক বরেণ্য ব্যক্তিকে নিয়ে কথা হচ্ছে। তো তিনি কী কী ভালো কাজ করেছেন এগুলো যখন আমি বলে শেষ করেছি তখন আমার বন্ধু ফিরিস্তি দিতে লাগলো ঐ ব্যক্তির দুর্নীতি আর অপরাধের। শুনে তো আমি থ’; কারণ এর কিছুই আমি জানিনা। আবার আমার বন্ধুও আমার মুখ থেকে ঐ লোকের প্রশংসা শুনে যরাপরণাই অবাক, কারণ এগুলো সে জীবনে প্রথমবারের মত শুনছে। এবং আমাদের দুজনেরই তথ্যসূত্র হলো পত্রপত্রিকা। তাহলে ব্যাপারটা কী হলো? আমার কাছে লোকটা ছিলেন দেবতার মত পরিশুদ্ধ, কারণ আমি যে পত্রিকা পড়ি তাতে কেবল তার ভালো দিকটাই লেখা হয়। আর আমার বন্ধুর বেলায় ব্যাপারটা উল্টো।

এটা তো গেল খুব সাধারণ একটা ঘটনা, যার সরাসরি কোনো প্রভাব আমাদের জীবনে নেই। কিন্তু এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে মিডিয়া পুরোপুরি আমাদের জীবনাচার বা চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রিন্ট মিডিয়ার চেয়েও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার জোর বেশি, বিশেষত তরুণদের কাছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০