শিরোনাম

কোন্দলের তিন বছরেও

সরাইল উপজেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি

সরাইল প্রতিনিধি : | মঙ্গলবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 397 বার

সরাইল উপজেলা যুবলীগের পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি প্রায় তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। পাঁচ সদস্যের এই কমিটির মধ্যে কোন্দলের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন আটকে গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ১৯ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগ সরাইল উপজেলা যুবলীগের পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে। কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আল এমরান, সাধারণ সম্পাদক শের আলম মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউল হক ও সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আমিনুল ইসলাম। বর্তমানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক পক্ষে এবং অপর পক্ষে জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক। কমিটি গঠন ও দলের কর্তৃত্ব নিয়ে তাঁরা কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন। এই বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষ আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করছে। এছাড়া তাঁরা পাল্টাপাল্টি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করেছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে উপজেলার প্রস্তাবিত কমিটিতে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি মাহবুব আলম বলেন, সরাইল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি  ও সাধারণ সম্পাদক নিজের মতো কমিটি গঠন করতে চেয়েছিলেন। এ কারণেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। জেলা যুবলীগের বর্তমানে সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) শাহনূর ইসলাম বলেন, এদের পাঁচজনকে বসে কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা একত্রে বসে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে না পারায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, কমিটি গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য এই পাঁচ সদস্যকে দায়িত্ব দিয়েছিল জেলা কমিটি। কিন্তু তাঁরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে উপজেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলেও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নিজেদের উপজেলা যুবলীগ কমিটির নেতা উল্লেখ করে ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষ উপজেলার নয়নি ইউনিয়ন কমিটি বাতিল করে। এরপর গত ২ মে পর্যন্ত উভয় পক্ষ সরাইল সদর, নোয়াগাঁও, পানিশ্বর, শাহজাদাপুর ও চুন্টা ইউনিয়ন শাখার পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করে।
শনিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা আয়োজন করেছিলেন সভাপতি পক্ষের নেতারা। একই দিন অপর পক্ষ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১০০ গজের মধ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে কর্মীসভার আহবান করে। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে উভয় পক্ষ তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আল এমরান ও যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউল হক অভিযোগ করেন, ‘আমাদের আংশিক কমিটি করা হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু এখনো তা হয়নি। এ অবস্থায় কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিং ছাড়া কোনো কর্মসূচি দেওয়ার বিধান সভাপতি ও সম্পাদকের নেই। তা ছাড়া টাকার বিনিময়ে ওই দুই নেতা ঘরে বসে বিভিন্ন ইউনিয়নের পকেট কমিটি করে দিয়েছেন। একই কায়দায় উপজেলা কমিটির বিভিন্ন পদ বিক্রি করছেন। আমরা ওই কমিটি মানি না।’
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘উপজেলার ইউনিয়ন কমিটিগুলোর সমর্থন আমাদের পক্ষ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুরোধে আমরা বর্ধিত সভা আপাতত স্থগিত করেছি।’ দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে না পারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ৭১ সদস্যের কমিটি জেলার কাছে জমা দিয়েছি, কিন্তু তা এখনো অনুমোদন হয়নি।’
প্রস্তাবিত কমিটি অনুমোদন হওয়ার আগেই সহ সভাপতি পদে এনাম খান, প্রচার সম্পাদক পদে বশির আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক পদে সেলিম ইফরাত, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ইসরাফিল শাহ, অর্থ সম্পাদক পদে আবু হানিফ সহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন জায়গায় ডিজিটাল ব্যানার এবং পোস্টার টানিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। এসব বিষয়ে সভাপতি বলেন, এটা একটা রাজনৈতিক কমিটি, কোনো বাইবেল না যে তাঁরা নাম ব্যবহার করতে পারবেন না। অর্থের বিনিময়ে তাদের পদ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে পদ কেনাবেচা হয় না।’
এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) শাহনুর ইসলাম জানান, উপজেলা থেকে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ওই কমিটি এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০