শিরোনাম

সরাইলে শিক্ষককে আওয়ামীলীগ নেতার হুমকি : থানায় মামলা

সরাইল প্রতিনিধি : | সোমবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 146 বার

সরাইলে শিক্ষককে আওয়ামীলীগ নেতার হুমকি : থানায় মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় গাজী শফিক নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষককে মারধর করার হুমকি ও অশ্লীল গালমন্দের ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অরুয়াইল সদরে বিরাজ করছে উত্তেজনা। ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা মিছিল করেছে। স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার কমিটি ও শিক্ষকরা সভা করে বার্ষিক পরীক্ষায় ২-৩ বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রমোশন দিতে অভিভাবকদের মুচলেকা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) মো. মাসুক মিয়া ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তির কাজ করছিলেন। শিক্ষক সালাহ উদ্দীন এ সময় মাসুক মিয়াকে কমিটির সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে পালন করে ভর্তি করার কথা বলেন। এতে হঠাৎ করে জহিরুল ইসলাম নামের এক বহিরাগত যুবক সালাহ উদ্দীনের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে শিক্ষককে মারধর করতে তেড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর জহির ৮-১০ জন যুবক নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষককে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করে। এতে করে স্কুলের ভেতরে ও বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জহির অরুয়াইল ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী শফিকের ছোট ভাই।

উক্ত ঘটনার পরে আওয়ামীলীগ নেতা গাজী শফিক, তার ভাইসহ বেশ কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে আবারো শিক্ষকদের ডাকাডাকি করে। মা-বাবাকে উল্লেখ করে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে। আর শিক্ষকদের দেখে নেয়ারও হুমকি দেন। এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের কমিটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক সালাহ উদ্দীনসহ সকলেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ইউএনও, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। প্রতিবাদে শনিবার সকালে ক্লাস বর্জন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সাদী ও কমিটির সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এখন আমরা সকলেই নিরাপত্তাহীনতায় আছি। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কেউ ঘটায়নি।
আওয়ামী লীগ নেতা গাজী শফিক শিক্ষকদের গালমন্দ ও হুমকি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অভিভাবকহীন একটা ছেলেকে ভর্তি করতে গিয়েছিল আমার ছোট ভাই জহির। সালাহ উদ্দীন স্যার ভর্তি করতে দেয়নি। উল্টো আমার ভাইকে গুণ্ডা ক্যাডার ইত্যাদি বলে ঘাড় ধরে বের করে দিতে বলেছে দারোয়ানকে।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইসরাত জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে ইতিমর্ধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মফিজ উদ্দিন ভূইয়া জানান, গাজী শফিককের বিরুদ্ধে থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১