শিরোনাম

সরাইলে নাম খারিজের দাবিতে মানববন্ধন

সরাইল প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 120 বার

সরাইলে নাম খারিজের দাবিতে মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নাম খারিজের দাবিতে গত বুধবার সকালে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগীরা।
সিটিজেন চার্টারে ৪৫ কার্য দিবসের মধ্যে জায়গার নাম খারিজের আবেদনের নিস্পত্তি করার কথা থাকলে সরাইলে ৬ মাস-বছর ঘুরেও খারিজ করতে পারেন না অনেকে। ফলে সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে স্তুপ হয়ে আছে আবেদনের স্তুপ। এতে করে সমস্যায় ভুগছেন জায়গা-জমির মালিকরা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে এরই প্রতিবাদে বুধবার সকালে সরাইল উপজেলা সদরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি দ্রুত সমস্যার আশ্বাস দেন।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত এক-দেড় বছর ধরে নাম খারিজের আবেদনের নিস্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা সরাইলের অতীতের সকল রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছে। সরাইলে গত দেড় বছরেরও অধিক সময় ধরে খারিজে ধীরগতি। মাঝখানে ২ মাস একেবারে বন্ধ ছিল। ফলে আটকে গেছে জায়গা জমি ক্রয়-বিক্রয়। মানুষের অনেক সমস্যা হচ্ছে। ঋণ পরিশোধ, জরুরী চিকিৎসা, বিদেশ যাওয়া, বিয়ে-শাদী, ছেলে মেয়ের স্কুলের বেতন প্রদান ও ব্যবসা-বাণিজ্য আটকে যাচ্ছে।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া ভুক্তভোগি মোঃ মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমি হৃদরোগে ভুগছি। চিকিৎসার জন্য জায়গা বিক্রি করব। ২০২০ সালের ১ জুলাই সাড়ে দশ শতক জায়গা নাম খারিজের আবেদন করি। সদর ইউনিয়ন উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে ৮ হাজার টাকা দেই। এরপরও নানা তালবাহানা করে ৩-৪ মাস ঘুরিয়ে টাকা ফেরৎ দেন। এ ঘটনার পরিত্রান চেয়ে আমি চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে আবেদন করি। এখন পর্যন্ত সমাধান পাইনি।
উপজেলার কুট্টাপাড়ার বাসিন্দা ও কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি দেবদাস সিংহ রায় বলেন, খারিজে বিলম্ব হওয়ার কারন জানতে এসিল্যান্ডের কাছে গেছে ওনিও খারাপ ব্যবহার করেন।

সরাইল সদর ইউনিয়নের উচালিয়া পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে প্রবাসী আব্দুল জব্বার বলেন, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ৩ শতক ভিটে বাড়ি খতিয়ান থেকে নাম খারিজের আবেদন করেছিলেন। মোকদ্দমা নম্বর-৫৫/২০২০। ৩ মাস ঘুরে ওই আবেদনের কোন ফয়সালা পাননি তিনি। অবশেষে চলে গেছেন কর্মস্থলে।

সরাইল সদরের আলীনগর গ্রামের সৈয়দ মোস্তফা নোমান গংরা ৫৭ শতক নাল ভূমির নাম খারিজের আবেদন করেন ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে। মোকদ্দমা নম্বর-১৮৬৯/১৯-২০। ৪ মাস পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জায়গাটি পরিদর্শন করেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মোঃ আশিকুল ইসলাম। এরপরও আটকে থাকে ফাইল। পরে তৎকালীন সার্ভেয়ার মোঃ কবির মিয়া (বর্তমানে আশুগঞ্জে কর্মরত) জানিয়ে দেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সরজমিনে পরিদর্শন করবেন। ১৬ মাস পেরিয়ে গেছে। আজও কোন নিস্পত্তি হয়নি ওই আবেদনের।

এদিকে মানববন্ধন চলাকালে মানববন্ধন স্থলে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুল হক মৃদুল। তিনি অংশ গ্রহনকারীদের মানববন্ধন না করে বিষয়টির উপর সমঝোতার প্রস্তাব দেন।

পরে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে বসে সমঝোতা সভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন- ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এস আই মো. জাকির হোসেন খন্দকার, যুবলীগের সাবেক আহবায়ক মোঃ মাহফুজ আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন, উপজেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা দেবদাস সিংহ রায় ও হৃদয়ে সরাইল সংগঠনের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ মৃধা দুলাল। ভুক্তভোগিরা তাদের অভিযোগ গুলো তুলে ধরেন। নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল হক মৃদুল খারিজের আবেদনের বিভিন্ন ক্রুটি তুলে ধরেন। সেই সাথে সঠিকভাবে আবেদন করার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সহস্রাধিক আবেদন ঝুলে আছে এমনটা আমার জানা নেই। কয়েকজনের মোকদ্দমা নম্বর নিয়েছি। নিস্পত্তি করে দিব। দ্রƒততম সময়ের মধ্যে অন্যান্য ভুক্তভোগি লোকজনের সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দেন তিনি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০