শিরোনাম

আর্থিক হিসেব চাওয়ায়

সরাইলে কলেজ সভাপতির বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে মারধোর করার অভিযোগ

সরাইল প্রতিনিধি | বুধবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 242 বার

সরাইলে কলেজ সভাপতির বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে মারধোর করার অভিযোগ

রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিতাস মডেল কলেজের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ওই কলেজের অধ্যক্ষকে মারধোর করে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত অধ্যক্ষ এ.কে.এম রমজান আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বুধবার দুপুরে সরাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলাটি নথিভূক্ত হয়নি।


স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও থানায় জমা দেয়া অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে শাহবাজপুর গ্রামের স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শাহবাজপুর গ্রামে তিতাস মডেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

৯ জন শিক্ষক-কর্মচারি এবং ৬৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষা বর্ষে কলেজটি যাত্রা শুরু করে।

কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হন শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাজ্জি।

কলেজটি প্রতিষ্ঠার সময় গ্রামের একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কলেজটিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। ওইসব অনুদান গ্রহণ করেন কলেজের সভাপতি। কিন্তু তিনি এই টাকা কলেজের হিসাবে জমা না দিয়ে নিজ হাতেই খরচ করেন।

গত মঙ্গলবার বিকালে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসে পরামর্শ সভা। সভায় অধ্যক্ষ এ.কে.এম রমজান আলী কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাজিব আহমেদের কাছে কলেজের জন্য পাওয়া অনুদানের টাকা ও খরচের বিষয়টি হিসাব-নিকাশের প্রস্তাব দেন। এ কথা বলার পর উত্তেজিত হয়ে যান কলেজের সভাপতি। এক পর্যায়ে অধ্যক্ষের সাথে সভাপতির বাক-বিতন্ডা হয়। পরে রাজিব আহমেদ, ফায়জুল হক ও রোমানসহ কয়েকজন মিলে অধ্যক্ষকে মারধোর করেন। অধ্যক্ষের চিৎকারে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সুমন মিয়া বলেন, আমি কলেজের একজন অংশিদার। রাজিব ও রোমানের হাতে নগদ ২৩ লাখ টাকা দিয়েছি। এখনো কোন কাগজপত্র পাইনি। আর্থিক লেনদেনের বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সভাপতি অধ্যক্ষের উপর হাত তুলেন।

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ এ.কে.এম রমজান আলী বলেন, আমি কলেজটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা। কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় নগদ ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি। রাজিব আহমেদ কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেছেন। ওই টাকা কলেজের হিসেবে জমা দেননি। টাকার হিসাব চাওয়ায় তিনি ও তার সহযোগী তিনজন মিলে আমাকে মারধোর করেছেন।

এ ব্যাপারে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান রাজিব আহমেদ রাজ্জির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কলেজের অধ্যক্ষকে মারধোর করার কথা অস্বীকার করে বলেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বর কলেজে একটি অভিভাবক সমাবেশ করার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে আমরা অধ্যক্ষের রুমে পরামর্শ সভায় বসেছিলাম। তিনি বলেন, কলেজের অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ভাল না হওয়ায় আমি অধ্যক্ষকে জিজ্ঞেস করায় তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। পরে আমার সাথে তাঁর বাকবিতন্ডা হয়। আমি তাঁকে মারধোর করিনি। তিনি বলেন, কলেজের আর্থিক বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সব কিছু অধ্যক্ষ দেখাশুনা করেন।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিব।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোসা বলেন, অধ্যক্ষ আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় এগুতে বলেছি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১