শিরোনাম

সদর উপজেলার নরসিংসার গ্রাম যেন চোরের অভয়াশ্রম : চোরদের গ্রেফতার দাবি এলাকাবাসীর

স্টাফ রিপোর্টার : | বৃহস্পতিবার, ০৩ মে ২০১৮ | পড়া হয়েছে 455 বার

সদর উপজেলার নরসিংসার গ্রাম যেন চোরের অভয়াশ্রম : চোরদের গ্রেফতার দাবি এলাকাবাসীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নরসিংসার গ্রামের সংঘবদ্ধ চোরের দল বছরের পর বছর ধরে নির্বিঘঘ্ন চুরি করে যাচ্ছে। অথচ স্থায়ী কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ ব্যাপারে যেন কোন মাথা ব্যাথা নেই বললেই চলে। এ নিয়ে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের মাঝে দীর্ঘদিন যাবৎ তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই গ্রামে সংঘবদ্ধ চোরেরা দীর্ঘদিন চুরি করে করে পার পেয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে চোর ধরা পড়লেও থানায় আসার পর জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া বিচার করার মৌখিক আশ্বাসে তারা ছাড়া পেয়ে যায়। ছাড়া পাওয়ার পর চোরেরা পুনরায় একই অপকর্মে লিপ্ত হয়।

উল্লেখ করার মতো চুরির ঘটনা ঘটে স্থানীয় আলহাজ্ব নুরুন্নাহার কলেজে। এখানে অন্তত ৪বার চুরি হয় বলে জানা গেছে। চোরেরা কলেজের পাখা, আইপিএস এর ব্যাটারী, আলমিরা ভেঙ্গে নগদ টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যায়। চোরদের মধ্যে মলম পার্টির বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্য এই গ্রামে বাস করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর র‌্যাব তাদের মধ্যে ৩জনকে গ্রেফতার করে বেশ কিছু দিন আগে। সর্বশেষ গত ০১এপ্রিল একটি দুঃসাহসিক চুরি সংঘঠিত হয়। নরসিংসার পূর্ব পাড়ায় গত (১০.০৪.২০১৮) দিবাগত রাতে এক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর ধারণা এই চোর চক্রই এতে জড়িত।


এছাড়া নরসিংসার গ্রামের সাংবাদিক শামীম উন বাছিরের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে গত রবিবার (০১.০৪.২০১৮) দিনের কোনো এক সময়ে। এ ঘটনার পরদিন সোমবার সদর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

রবিবার বিকেল পাঁচটার দিকে শামীম উন বাছির নরসিংসারের দক্ষিণপাড়ার বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান পশ্চিম ভিটির ঘর থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে, একটি ওভেন, একটি প্রেসার কুকার, দুইটি সিসি ক্যামেরা। তবে কে বা কারা এসব চুরি করে তা জানা যায় নি।

থানায় অভিযোগ করার প্রায় ১ মাস পরও পুলিশ কোন চোরকে আটক করতে পারেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার বিভিন্ন মার্কেটে ঔষুধী গাছ- গাছরা বিক্রি করতো সফর পাগলা। সফর পাগলারও বহু কষ্টে উপার্জিত অর্থও নরসিংসার গ্রামে চোরদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।

নরসিংসার গ্রামের জঘন্যতম চুরি এবং চুরির সাথে নারী ধর্ষণের ঘটনা এই এলাকার ইতিহাসকে করেছে কলঙ্কিত।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপ কালে জানা যায়, চোরের দল ঘরে প্রবেশ করার আগেই বিশেষ কিছু মেডিসিন ব্যবহার করে ঘুমন্ত মানুষকে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর চোরেরা ঘরে ঢুকে নারী ধর্ষণের মতো পাশবিক কাজটি করে। তারপর স্বর্ণ, টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে চম্পট দেয়। এই গ্রামের নিরীহ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের কারণে। রুবেল মিয়া নামে এক কাঠ মিস্ত্রি চোরদের অব্যাহত অত্যাচার ও হুমকির মুখে দীর্ঘদিন যাবৎ পুরোপরিবার নিয়ে নিজ জন্ম ভিটা নিয়ে অন্যত্র ভাড়া থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। দিনের পর দিন চুরি ঘটনা ঘটলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় চোরেরা ক্রমশই হয়ে উঠছে বেপরোয়া।

চুরির ঘটনায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পুরো ইউনিয়নের লোকজন পাহাড়া বসিয়ে কয়েকজন চোরকে আটক করে। পরে এলাকার শালিসকারকগণ বিভিন্ন সময়ে বিচারের আশ্বাস দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এরপর অদ্যাবদি তাদের কোন বিচার করা হয়নি। এ জন্য চোরচক্র আরো সক্রিয় হয়ে উঠছে।

এ ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এর সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, চুর ডাকাতের বড় একটি সিন্ডিকেট দল আছে। অব্যাহত চুরির ঘটনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান নাজমুল হক কোন কথা বলেন না।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক শামীম উন বাছিরের বাড়িতে চুরির ঘটনার দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআই মোঃ আবু আহমেদ সুজন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ইতিমধ্যে কয়েকজন চোর, ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী চোরদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদেরকেও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নবীর হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কিছু চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮