শিরোনাম

তিনদিনব্যাপী বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসব উদ্বোধনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি

সংস্কৃতির চর্চাকে এগিয়ে না নিলে অন্ধকারের অপশক্তি এগিয়ে যাবে

ষ্টাফ রিপোর্টার | রবিবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৬ | পড়া হয়েছে 812 বার

সংস্কৃতির চর্চাকে এগিয়ে না নিলে অন্ধকারের অপশক্তি এগিয়ে যাবে

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি বলেছেন, বাঙ্গালীর উন্নয়নের যাত্রা শুরু হয়েছিল সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে। বর্তমানে সংস্কৃতি চর্চা অনেক কমে গেছে। সংস্কৃতির চর্চাকে এগিয়ে না নিলে অন্ধকারের অপশক্তি এগিয়ে যাবে।
তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজ মাঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমী, চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজ ও চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসব উদযাপন পষর্দের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি আরো বলেন, বঙ্গ সংস্কতি মানে আত্ম অনুসন্ধ্যান, নিজেকে চেনা, নিজেকে জানা। বঙ্গ সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা উলে­খ করে তিনি বলে, বঙ্গ সংস্কৃতির মাধ্যমে আত্মার অনুসন্ধান করা যায়, আমার কি ঐতিহ্য, কি আমার ইতিহাস তা জানা যায়। তিনি বলেন, ষোল কোটি মানুষের দেশে যেভাবে সংস্কৃতি চর্চা হওয়া উচিত, সেভাবে হচ্ছেনা। বর্তমানে সংস্কৃতি চর্চা অনেক কমে গেছে। অভিভাবকরা এখন তাদের সন্তানদেরকে চারু, কারু শেখাতে চায়না, শরীর চর্চা শেখাতে চায়না। তারা চায় তাদের সন্তান পাঠ্যবই মুখস্ত করে ফেলুক। মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, দুঃখজন হলেও সত্যি এখনকার মায়েরা তাদের সন্তানের মনের সঠিক বিকাশ হউক সেটা চান না, তারা চান জি.পি.এ-৫। তাই এখন আর দেশে কোনো শিক্ষার্থী নেই সবাই এখন পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, সন্তান একটু বড় হলেই তাকে জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য অভিভাবকরা উঠেপড়ে লেগে যায়। তার উপর মানুষিক নির্যাতন করা হয়। তিনি বলেন, চারু, কারু,শরীর চর্চা না শিখলে আমাদের সন্তানের মেধা মনন বিকশিত হবেনা। আমাদের সন্তান সুস্থ্য সবল থাকবেনা। তিনি বলেন, শুধু মাত্র জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য আমাদের সন্তানকে পড়াশুনা করলে চলবেনা। আমাদের সন্তানকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। জ্ঞানী-গুনী হতে হবে। তিনি বলেন, সংস্কৃতির বিকাশ না হলে দেশে উন্নয়ন হবেনা। তিনি বলেন, টাকার অংকে জীবনের সাফল্য নির্ণয় করা যায়না। জীবনের সাফল্য অর্জন করতে হলে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। আমাদেরকে আত্মার অগ্রগতি, চিন্তার অগ্রগতি করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ইসলাম ধর্মকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছেনা, তাই ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। সংস্কৃতির চর্চা না থাকায় আজকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
আমরা আলোকিত মানুষ সৃষ্টি করতে পারছিনা। আলোকিত মানুষ সৃষ্টি করতে হলে আমাদেরকে সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে। ইতিহাস বিকৃতিরোধ করতে হলে আমাদেরকে লেখাপড়া করতে হবে। তিনি বলেন, আগে কোন এলাকায় গেলে ১৫/২০টি বাড়ি থেকে হারমোনিয়ামের শব্দ পাওয়া যেতে। এখন সেইসব বাড়ি থেকে টেলিভিশনের আওয়াজ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, সংস্কৃতি চর্চা মানে শুধু গান বাজনা নয়, সংস্কৃতি চর্চা হচ্ছে লেখাপড়ার পাশাপাশি আমাদেরকে বই পড়তে হবে। খেলাধূলা করতে হবে। তিনি বলেন, সংস্কৃতির বিকাশ না হলে মননের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবেনা।
তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষনই ছিল আমাদের অনুপ্রেরনার উৎস। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠই ছিল আত্মত্যাগের উৎস। তার ডাকে সাড়া দিয়েই আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। কালুর ঘাটের ভাষন আমরা শুনি নাই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্ব মোরশেদুল ইসলাম, নাট্য-ব্যক্তিত্ব ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আবু তাহের। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরার কবি দিলিপ দাস। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম.এ মাসুদ।
অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য নাট্য-ব্যক্তিত্ব ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম ও চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্ব মোরশেদুল ইসলামকে নিজ নিজ কাজে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখার জন্য সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল আহাম্মদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর এবং চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজ প্রাঙ্গনে একযোগে তিনদিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হয়। তিন দিনের এ বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসবে থাকছে ভারত-বাংলাদেশ তথা দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের সম্মেলন, লোক গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০