শিরোনাম

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করা এবং পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি হয়রানী করার অভিযোগে

সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

| রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 317 বার

সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) নির্বাচনী আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের নির্বাচনী প্রচারণা গাড়ি ভাঙচুর ও ক্ষতি সাধনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রদানের পাশাপাশি গতরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি।

এতে লিখিত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল হক খোকন উল্লেখ করেন, ধানের শীষের জোয়ারে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ এর নির্বাচনী কার্যক্রমে পুলিশ কর্তৃক হয়রানী ও নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মী দ্বারা নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা প্রদান অব্যাহত থাকায় জেলা বিএনপি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের ধানের শীষ প্রতীক এর জোয়ারে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে নৌকার নেতা কর্মীরা দিশেহারা হয়ে গেছে। তারা ধানের শীষের নেতা কর্মীদের মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে একতরফা নির্বাচন করার হীন উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে উক্ত নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন প্রকার আগ্রাসী তান্ডব চালাচ্ছে। তারা নিজেরা নিজেদের নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে আগুন লাগিয়ে ধানের শীষের নেতা কর্মীদের উপর দায় চাপিয়ে উদুরপিন্ডি বুধুর ঘারে চাপানোর অপচেষ্টা করছে এবং সেই সাথে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের ধানের শীষের অফিসে ভাংচুর করে, আগুন লাগিয়ে তাদের অফিস বলে দাবি করছে এবং আমাদের নেতা কর্মীদের উপর দায় চাপাচ্ছে। পুরো নির্বাচনী এলাকা জুড়ে তারা আমাদের ধানের শীষের পোষ্টার ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে রাখছে এবং তাদের নিজেদের পোষ্টার নিজেরা ছিঁড়ে আমাদের নেতা কর্মীদের উপর দায় চাপানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। দলবাজ পুলিশ কর্তৃক তাদের দলীয় ক্যাডার এবং সমর্থকরা অন্যায় ভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আমাদের ধানের শীষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নানান ভাবে হয়রানী করছে। তাদের উদ্দেশ্য হয়রানীর শিকার হয়ে আমাদের নেতা কর্মীরা মাঠ ছেড়ে দিলে তারা অতি সহজেই পূর্বের ন্যায় এক তরফা নির্বাচনে পার পেয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলার অশেষ রহমতে তারা আমাদের যত প্রকার হয়রানী করুক না কেন, আমরা ধানের শীষের নেতা কর্মীরা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এর উপর আস্থাশীল আছি। সকল ষড়যন্ত্র ও বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করবো ইনশাআল্লাহ্। তাদের প্রতিহিংসা মূলক আগ্রাসী ঘটনাগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো : বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে কালাছড়া গ্রামে গত ১৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে কালাছড়া ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে ও পেন্ডেল ছিঁড়ে পুরো অফিস আগুন লাগিয়ে পুড়ে ফেলে। সিংগারবিল ইউনিয়নে গত ১৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মেরাশানী ধানের শীষের নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুর করে ও পেন্ডেল ছিঁড়ে পুরো অফিস আগুন লাগিয়ে পুড়ে ফেলে এবং আমাদের বিরুদ্ধে মামলা- মোকদ্দমা করে। গত ১০ ডিসেম্বর সোমবার দিবাগত রাত ৯ টায় চান্দুরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ এর সভাপতির নেতৃত্বে নৌকার পোষ্টার ছিঁড়ে আগুন দিয়ে পুড়ে আমাদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করে। গত ১৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বুধন্তি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ইসলামপুর মিয়া বাড়ির সামনে আমাদের নির্বাচনী পরামর্শ সভায় ককটেল বোমা মেরে আমাদের ৩০-৩৫ জন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করে। গত ১৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বুধন্তি ইউনিয়নের বীরপাশা গ্রামে ধানের শীষের গণসংযোগ কালে নৌকা প্রতীকের লোকজন হাজী হাশিমুর রহমান গং এর নেতৃত্বে লাঠি সোটা নিয়ে বাধা প্রদান করে। গত ১৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টায় বুধল ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে নিজেরাই আগুন লাগিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মোকদ্দমা করে। গত ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৩টার সময় তালশহর পূর্ব ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিনের বাড়িতে কিছু সংখ্যক অতি উৎসাহী পুলিশ কোনপ্রকার মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়া প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা করে আল আমিন এর স্ত্রীকে প্রহার করে এবং ছোট ভাইকে বেধরক মারধর করে ও উপর্যুপরি আঘাত করে। ছাত্রদল নেতা তুহিন এবং সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেহান উদ্দিন রেহান ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা করছে বলে দলবাজ পুলিশ তাদের দুইজনের বাড়ি থেকে দুইটি মোটর বাইক বেআইনীভাবে জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। গতকাল ১৫ ডিসেম্বর শনিবার চর ইসলামপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করে। সকালে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের সহধর্মীনি ১০/১২ জন নেতা কর্মীসহ চর ইসলামপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে ধানের শীষে প্রচারণায় গেলে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড তানভীর ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে এবং নির্দেশক্রমে আনুমানিক ৭০/৮০ জন সন্ত্রাসী গাড়ি বহরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত আক্রমন করে মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো- চ ১৩-৯৭৮৫) ভাংচুর করে এবং ঐ মুহুর্তে স্থান ত্যাগ না করলে প্রার্থীর স্ত্রীসহ সকলকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।


জহিরুল হক খোকন লিখিত বক্তব্যে পুলিশ কর্তৃক গায়েবী মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানী ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করার বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পরিবারের পক্ষে পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধমকি দেয়ার অভিযোগ করেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১