শিরোনাম

ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস

শিক্ষার আলোকবর্তিকা

| সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 947 বার

শিক্ষার আলোকবর্তিকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস।

এই কারনে ইতিমধ্যেই তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে “জাতীয় শিক্ষা পদক-২০১৭” লাভ করেন। এছাড়াও তিনি হিজরা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং আয়ের স্থায়ী ব্যবস্থাকরনের জন্য গত ২৩ জুলাই জনপ্রশাসন পদক-২০১৭ লাভ করেন। সদর উপজেলাকে শ্রেয়তর উপজেলা হিসেবে পরিণত করায় গত ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর “উদ্ভাবনী উৎসাহীকরণ সম্মাননা-২০১৬” লাভ করেন। গত ১৮ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় শ্রেষ্ঠ পোর্টালের জন্য স্বীকৃত স্বরূপ সনদপত্র ও একই মেলায় উপজেলা ইনোভিশন টিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শ্রেষ্ঠ উপজেলা টিম হিসেবে স্বীকৃতি স্বরূপ সনদপত্র লাভ করেন।

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতুল ফেরদৌস ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তিনি পর্যায়ক্রমে সদর উপজেলার ১৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবকটিতেই মিড ডে মিল চালু করেন, সবকটি বিদ্যালয়ে সঠিক মাপের ও সঠিক রঙের জাতীয় পতাকা প্রদান, ঝরেপড়ারোধে মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ, উঠান বৈঠক, একযোগে সকল বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন, হোম ভিজিট, ই-মনিটরিং, কাউন্সিলিং, শুদ্ধ স্বরে জাতীয় সংগীত প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের গরীব শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও মোজা বিতরণ, শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ে নৌকা বিতরণ, উপজেলার সবকটি বিদ্যালয়ে হ্যান্ড ওয়াশ, ব্রাশ ও পেস্ট বিতরণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ, ফাস্ট এইড বক্স বিতরণ, ফ্রি হেলথ, নেইল কাটার বিতরণ, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরবর্তী মেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইকেল বিতরন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য কয়েকটি সাঁকো নির্মান, কাব কার্যাবলী, আন্তঃ বিদ্যালয় কাব সমাবেশ, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বেঞ্চ ও সিলিং ফ্যান বিতরণ, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র বিতরণ, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কয়েকটি স্কুলের ফুল বাগান তৈরী, মেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্যানিটারী ন্যাপকিন বিতরণ, কয়েকটি বিদ্যালয়ে সততা স্টোর চালু, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ, বিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার আয়োজন, খেলাধুলার ব্যবস্থা, কয়েকটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মান, শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনানোর আয়োজন, শিক্ষার্থীদের জন্য অভিন্ন পোষাক, স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক, স্টুডেন্ট কাউন্সিল, ক্ষুদে ডাক্তার, স্কুল ফিডিং, ECL, English in Action, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ল্যাব, স্বপ্ন চার্ট, বন্ধু শিক্ষক, পীয়ার টিচিং, ফ্রি হেলথ, কৃমিনাশক, হুইল চেয়ার বিতরণ, Lost & Found Box, Reading & Writing, একাউন্ট, সচেতনতা মূলক আলোচনা, কথিকা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানসহ বিদ্যালয়গুলোকে নান্দনিক ও আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন কাজ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে জাগরনের সৃষ্টি করেছেন। তাঁর এসব কর্মকান্ডের ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বেড়েছে। অভিভাবকদের তদারকি বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশুনার প্রতিযোগীতা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও তিনি শিক্ষার মান উন্নয়নে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকগুলোতে নিয়মিত শিক্ষা সংক্রান্ত ফিচার লিখেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন বলেন,শিক্ষার উন্নয়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধিসহ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিযোগীতা বেড়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ দেওয়ান হাফিজ বলেন, শিক্ষার অভুতপূর্ব ও গুনগত মানউন্নয়নে ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস চমৎকার ও কার্যকরী ভূমিকা রেখেছেন। শিক্ষার উন্নয়নে তাঁর নানাবিধ কাজের কারনে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাগরনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সামাদ আকন্দ বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের তদারকি বেড়েছে। শিক্ষকদের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সদর উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়কে নান্দনিকভাবে সাজানোর কারনে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। বিদ্যালয়গুলোর রেজাল্ট পর্যায়ক্রমে ভালো হচ্ছে।
জান্নাতুল ফেরদৌস বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালে এনিম্যাল হাজবেন্ড্রীতে অনার্স ও ২০০৬ সালে এনিম্যাল ব্রিডিং ও জেনেটিক্সে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ২০১৪ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ মেলবোর্ন থেকে মাস্টার্স ইন পাবলিক পলিসি এন্ড ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রী অর্জন করেন।
নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতুল ফেরদৌস ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, প্রতিটি শিশুকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্যই তিনি কাজ করছেন। নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই শিক্ষার জন্য তিনি কাজ করছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনে তিনি সকল মহলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১