শিরোনাম

শান্তির নোবেল নিয়ে প্রশ্ন

| শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০১৬ | পড়া হয়েছে 632 বার

শান্তির নোবেল নিয়ে প্রশ্ন

নোবেল শান্তি পুরস্কার মহৎ উদ্দেশ্যে চালু হলেও সেই লক্ষ্য থেকে নোবেল কমিটি সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে অনেক সময় রাজনৈতিক বিতর্কও দেখতে পাওয়া গেছে।

নোবেল পুরস্কার কাকে দেওয়া হচ্ছে, কী বিষয়ে অবদানের জন্য দেওয়া হচ্ছে, যে ব্যক্তিকে দেওয়া হচ্ছে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য উপযুক্ত কিনা, শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার কোনো অবদান কাছে কিনা ইত্যাদি বিষয় পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার করে দেখার কথা। কিন্তু সেখানে পুরস্কার প্রাপক মনোনয়নে এখন রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


প্রশ্ন উঠেছে ২০০৯ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান নিয়ে। নোবেল কমিটির প্রাক্তন সচিব গের লুন্ডেস্টাড সম্প্রতি একটি বই লিখে দাবি করেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ওবামার নাম মনোনয়ন যথাযথ ছিল না। ওবামা যেহেতু তখন সদ্য মার্কিন রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হয়েছেন সেজন্য কমিটি আশা করেছিল পরবর্তীকালে তার কাজের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হিসাবে বিশ্ব শান্তির জন্য গ্রহণযোগ্য অবদান তিনি রাখতে পারবেন। কিন্তু তা শেষ অবধি হয়নি। কমিটির সদস্যরা তো বটেই, এমনকি ওবামার সমর্থক অনেকেই মনে করেছেন, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া ভুল হয়েছিল।

নোবেল কমিটির প্রাক্তন সচিবের লেখায় এই তথ্য প্রকাশে রীতিমতো বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নোবেল পুরস্কার মনোনয়ন কমিটি বর্তমানে রাজনৈতিক দিক থেকে প্রভাবিত। কেউ কেউ বলছেন, বৃহৎ রাষ্ট্রগুলির পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রশ্নে বাইরে থেকে কমিটির উপর কখনো চাপ, কখনো প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।

দৃষ্টান্ত হিসেবে তারা দেখাচ্ছেন, পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটিতে নরওয়ের লেবার পার্টির দু’জন, রক্ষণশীল দলের দু’জন এবং প্রোগ্রেস পার্টির একজন প্রতিনিধি রয়েছেন। এই পাঁচজনের ভোটাধিকার থাকলেও কমিটির সদস্য সচিবের কোনো ভোটাধিকার নেই। বিশেষ করে ১৯৯৪ সালে নোবেল কমিটির শান্তি পুরস্কার নিয়ে প্রবল সমালোচনার ঝড় ওঠে। তখন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও প্যালেস্তিনীয় নেতা ইয়াসির আরাফাতকে যুগ্মভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দান প্রশ্নে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত সমালোচনার মুখে পড়ে। শুধু তাই নয়, চীনের বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত মার্কিন প্রবাসী লিউ জিয়াওবোকে ২০১০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ায় চীনের পক্ষ থেকে প্রবল আপত্তি ওঠে। প্রতিবাদ জানিয়ে নরওয়ের সঙ্গে চীন সাময়িকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দেয়।

এখন এটা পরিষ্কার যে, শান্তি পুরস্কার মনোনয়নের প্রশ্নে নোবেল কমিটি রাজনৈতিক দোষে দুষ্ট। নোবেল কমিটির প্রাক্তন সচিব লুন্ডেস্টাড মনে করেন কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে না রাখাই উচিত। কারণ, কমিটিতে গোপন আলোচনায় এর দরুন সব সময়ই রাজনৈতিক ছায়া পড়ে।

২০০৮ সালেও নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান নিয়েও বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। তখন নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল ফিনল্যান্ডের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মারত্তি আহ্তিমারিকে। বলা হয়েছিল যুগোস্লাভিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। যুগোস্লাভিয়ায় ১৯৯৯ সালে মার্কিন হানাদারি চলাকালে সেখানে তথাকথিত শান্তি আনার নামে ন্যাটো তথা আমেরিকার পক্ষ থেকে তাকে পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি বেলগ্রেডে নেমেই বিবৃতি দিয়ে জানান -যুগোস্লাভিয়াকে ভাগ না করলে সেখানে শান্তি আসবে না। তার কথা অনুযায়ী যুগোস্লাভিয়াকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়। আশ্চর্যের ব্যাপার নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সময় তার অবদান হিসেবে এই বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়। যুগোস্লাভিয়াকে টুকরো করে দেওয়ার পর সেখানে কী শান্তি ফিরেছে সে দেশের মানুষ ভালো করেই জানেন। এখন চেষ্টা চলছে ইউক্রেনের মার্কিন মদতপুষ্ট রাষ্ট্রপতি পোরোশেঙ্কোকে কীভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া যায়। এর জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে তদবিরও চালানো হচ্ছে। এসব কাজ করার সময় নোবেল পুরস্কার কমিটি কি ভেবে দেখেছে তাদের সম্মান মর্যাদা কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে?

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০