শিরোনাম

লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে বিশ্ব ইজতেমা শুরু

ডেস্ক ২৪ | শনিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০১৬ | পড়া হয়েছে 764 বার

লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে বিশ্ব ইজতেমা শুরু

পবিত্র জুমার দিন গতকাল শুক্রবার বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজে শরিক হন লাখ লাখ মুসল্লি। কাল রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনের এই পর্ব।
গতকাল ভোর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জড়ো হন বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে। তাঁদের সঙ্গে ছিল শুকনা খাবার, পানি, বিছানাপত্রসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। জুমার নামাজের আগেই ময়দান পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
ফজরের নামাজের পর ভারতের মাওলানা আবদুর রহমানের আমবয়ান দিয়ে শুরু হয় ইজতেমা। মূল বয়ান উর্দুতে হলেও তা বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মো. আবদুল মতিন।
আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত বিশিষ্ট আলেম ও তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বিরা ইমান, আমল, আখলাকসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান করবেন। ইজতেমা মাঠে বিভিন্ন জেলার মুসল্লিদের জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। রাখা হয়েছে পানি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসাসেবাসহ আবশ্যকীয় সব ধরনের ব্যবস্থা। নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থাও।
গতকাল শুরু হওয়া ইজতেমার প্রথম পর্বে ১৭ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। ১৭ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের ইজতেমা।
জুমার নামাজে মুসল্লির ঢল: জুমার নামাজে অংশ নিতে ইজতেমা মাঠে নেমেছিল মুসল্লিদের ঢল। মাঠের আশপাশের মসজিদগুলোও ছিল মুসল্লিতে পরিপূর্ণ। জুমার নামাজের সময় মূল ময়দান ছাড়িয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের আঞ্চলিক সব সড়ক মুসল্লিতে ভরে ওঠে। জুমার নামাজ পড়ান কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা জুবায়ের। মূল ময়দানে পৌঁছাতে না পেরে অনেক মুসল্লি রাস্তার ওপর, বাসের ছাদে, নৌকায়, এমনকি বাড়ির ছাদেও জুমার নামাজ আদায় করেন। গতকাল বয়ানকারীদের মধ্যে ছিলেন কাকরাইল মসিজদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের, ভারতের মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের, মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ প্রমুখ।
বয়ানকারীরা বলেন, ইমান মজবুত হলে ইহজগৎ ও পরকাল—উভয়ক্ষেত্রে মুক্তি পাওয়া যাবে। দ্বীন টিকে থাকবে দাওয়াতের মাধ্যমে। যুগে যুগে নবী-রাসুলগণ দ্বীনের দাওয়াতের কাজ করে গেছেন। নবী-রাসুলদের আল্লাহপাক নিজের পরিবার ও বিভিন্ন গোত্রের মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াতের জন্য পাঠিয়েছেন। তবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সারা দুনিয়ার মানুষের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তাঁর দাওয়াতের দায়িত্ব এখন উম্মতের ওপর।
যানজট ও ভাসমান দোকান: ইজতেমা মাঠের আশপাশে সকাল থেকেই যানজট শুরু হয়। দুপুর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী, গাজীপুর এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দুই দিকে সব গাড়িই থেমে থাকতে দেখা যায়। রাস্তার পাশে বসেছে বহু দোকান। শীতের কাপড়, ইসলামি বইপত্র, টুপি, তসবিহ, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসেছে মাঠের আশপাশে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী বিক্রির অভিযোগে ৪০ জন হকারকে আটক করেছে পুলিশ।
ভোগান্তি থাকলেও অভিযোগ নেই: গতকাল সকালে ইজতেমা মাঠের পাশে কাজ করছিলেন হান্নান মিয়া। ঠান্ডা ও ভিড়ের মধ্যে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে অনেক সমস্যা হলেও সেই কষ্ট ভুলে গেছেন তিনি। ইজতেমায় আসাকেই অনেক বড় মনে করছিলেন তিনি।
ইজতেমা এলাকা ঘুরে কিছু অনিয়মের চিত্র চোখে পড়ে। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা থাকলেও অজুর জন্য অনেকেই পানি সরবরাহের স্থানে যেতে পারেননি। তাই অজুর জন্য জগ, মগ বা বদনায় করে পানি বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সুলতান সরকার নামের এক মুসল্লি বলেন, ‘এত বড় আয়োজনে ছোটখাটো সমস্যা হতেই পারে। এসব সমস্যা বলে মনেই হয় না।’ ইজতেমার মুরব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, জেলা ও খিত্তা অনুযায়ী মুসল্লিদের সংখ্যা এবার কম হওয়ায় ভোগান্তি অন্যবারের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে বিদেশি মুসল্লিদের সংখ্যার কোনো কমতি ছিল না।
তিন মুসল্লির মৃত্যু: পুলিশ জানায়, ইজতেমায় যোগ দিতে এসে গত বৃহস্পতিবার রাতে হৃদ্রোগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন কুড়িগ্রামের উলিপুরের নূরুল ইসলাম (৭২), সিলেটের গোলাপগঞ্জের জয়নাল আবেদীন (৫৫) ও নাটোরের সিংড়ার ফরিদ উদ্দিন (৭২)। ইজতেমাস্থলে তাঁদের জানাজা হয়েছে। তাঁদের মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১