শিরোনাম

রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না : এস বার্গনার

বিশেষ প্রতিনিধি : | শনিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 171 বার

রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না  : এস বার্গনার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে কক্সবাজার টেকনাফের শালবাগান শরণার্থী ক্যাম্পের ৯ রোহিঙ্গা নেতার মুখে নির্যাতনের কথা শুনলেন জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনার।

আজ ১০ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১টার দিকে টেকনাফ নয়াপাড়া নিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরের পাশে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) তত্ত্বাবধানে এলপিজি ওয়ারহাউস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রোহিঙ্গদের মুখে তিনি নির্যাতনের কথা শোনেন।


বৈঠকে থাকা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গারা যাতে বিচার পায় সেজন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মিয়ানমার ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এছাড়া জোর এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না বলে আশ্বাস্ত করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত।

তবে বৈঠক শেষে ক্রিস্টিন এস বার্গনার সাংবাদিকদের সাথে কোনও কথা বলেননি।

বৈঠকে টেকনাফ নয়াপাড়া অনিবন্ধিত শালবাগান ডেভেলমেন্ট কমিটির নারী চেয়ারম্যান রমিদা বেগমসহ ৯ রোহিঙ্গা নেতা উপস্থিত ছিলেন।

রমিদা বেগম বলেন, মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা চালাচ্ছে। এ কারণেই প্রাণে বাঁচতে আমরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসি। আগে এসব নির্যাতনের বিচার চাই। এরপর আমরা সে দেশে ফেরত যাবো।

তিনি জানান, তার কথার জবাবে জাতিসংঘের বিশেষ দূত তাদের বিচার পাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিভাবে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে সেই বর্ণনা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন ক্রিস্টিন। ক্রিস্টিন জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন এবং রোহিঙ্গাদের জোর করে সেদেশে পাঠানো হবে না।

রমিদা বেগমের বাড়ি মিয়ানমারের মংডুর রাইম্যাবিল গ্রামে। তিনি গত বছর আগস্টে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের শালাবাগান ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। সেখানে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গার বসিতি। গত চার মাস আগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর রমিদা বেগমকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি করে দেয়। তিনি এদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রথম নারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার দুপুর ১২টায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত টেকনাফ ত্যাগ করেন। এর আগে শুক্রবার রাতে কক্সবাজার ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালামের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এদিকে চলতি মাসে নভেম্বরের মাঝামাঝি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযানের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে আরও ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। সব মিলিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ৩০ শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১