শিরোনাম

রিওতেও চমকালো বিদ্যুৎ

অনলাইন ডেস্ক | মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০১৬ | পড়া হয়েছে 444 বার

রিওতেও চমকালো বিদ্যুৎ

ভাবা যায় ১০ সেকেন্ডের ও কম সময়ের একটি লড়াই দেখতে টেলিভিশনে চোখ নিবিষ্ট সারা বিশ্বের! স্পোর্টস শোম্যন শিপে সেরা বিনোদনের খোরাক উসাইন বোল্ট অলিম্পিকের সেরা ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্টকে এতোটাই কৌতূহলের কেন্দ্রে এনেছেন। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে ৯.৬৯ সেকেন্ড টাইমিংয়ে সে সময়ের বিশ্বরেকর্ডে সবার হৃদয়ে পেয়েছেন ঠাঁই। গতির সঙ্গে বিনোদন, আর ট্রেডমার্ক উদযাপনে ৮ বছর পর রিওতেও মøান হয়নি তা। ২০০৮ বেইজিং, ২০১২ লন্ডন, ২০১৬ রিওÑ প্রতিবারই ১০০ মিটার স্প্রিন্টের আগে আলোচনায়, গতির লড়াইয়ে প্রতিবারই চমকেছে বিদ্যুৎ! তাতেই অলিম্পিকে ইতিহাস হয়ে গেলেন জ্যামাইকান অ্যাথলিট উসাইন বোল্ট। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে পর পর ২ বার (১৯৮৪ ও ১৯৮৮) স্বর্ণ জিতে মার্কিন কিংবদন্তী অ্যাথলিট কার্ল লুইসের সাফল্যকে স্পর্শ করেছিলেন উসাইন বোল্ট বেইজিংয়ের (২০০৮) পর লন্ডনে (২০১২) দ্রæততম মানবের খেতাব জিতে। অলিম্পিক অ্যাথলেটিক্সে অমরত্ব পেতে ৪ বছর আগে লন্ডনে বসে দিয়েছিলেন ঘোষণা, রিওতেও বাজাবেন জ্যামাইকার জাতীয় সঙ্গীতÑ রেখেছেন সে কথা। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ২০০৯ বার্লিন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ৯.৫৩ সেকেন্ড টাইমিংয়ে স্বর্ণ জয়ে বিস্ময় অধ্যায় রচনায় অলিম্পিকের প্রতিটি আসরেই ফেভারিট তিনি। কিন্তু রিও অলিম্পিককে সামনে রেখে সময়টা খুব একটা ভাল যাচ্ছিল না এই গতিমানবের। হ্যামেস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে রিও অলিম্পিকের নীল ট্র্যাকে নামাটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ার পূর্বাভাস ছিল। অলিম্পিকের জন্য জ্যামাইকার ট্রায়ালেও নিতে পারেননি অংশ। ১০০ মিটার হিটে ১০.০৭ সেকেন্ড টাইমিংয়ে দূরত্ব পার করেছেন তৃতীয় হয়ে, হুংকার দেয়া মার্কিন স্প্রিন্টার জাস্টিন গ্যাটলিনের হিটে টাইমিং সেখানে ১০.০১Ñ তাতেই উসাইন বোল্ট ভক্তদের দুর্ভাবনার ভাঁজ পড়েছিল কপালে। তবে সেমিতে পরিচিত উসাইন বোল্টকেই দেখেছেন তারা, ৯.৮৬ সেকেন্ডে ১০০ মিটার পাড়ি দেয়ায় ফেভারিট হিসেবেই নেমেছেন ফাইনালে। ২০১১ দেইগু ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ফলস স্টার্টের কারণে বাদ পড়ার পর থেকে সতর্ক উসাইন বোল্টের শুরুটা হয় না ভাল, রিওতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৬ নম্বর লেন থেকে দৌড়ের শুরুতে গতিমানব পিছিয়ে ছিলেন ৪ নম্বর লেনের প্রতিদ্ব›দ্বী জাস্টিন গ্যাটলিনের চেয়ে ৭০ মিটার পর্যন্ত, কিন্তু শেষ ৩০ মিটারে উসাইন বোল্টের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। ৯.৮১ সেকেন্ড টাইমিং নিয়ে জিতেছেন স্বর্ণ, যেখানে নিষিদ্ধ ড্রাগ গ্রহণের অভিযোগে দু’দুবার নিষিদ্ধ জাস্টিন গ্যাটলিনের রৌপ্য জয়ে লেগেছে উসাইন বোল্টের চেয়ে ০.০৮ সেকেন্ড বেশি। বেইজিংয়ে তার টাইমিং ছিল ৯.৬৯ সেকেন্ড, লন্ডনে ৯.৬৩, ২৯ এ দাঁড়িয়ে সেখানে রিওতে উসাইন বোল্টের টাইমিং ৯.৮১Ñ স্বর্ণ জয়ে উচ্ছ¡াসটা এবার লন্ডনের মতো করেননি প্রকাশ উসাইন বোল্ট। তবে চিরচেনা স্টাইলে ফিনিশিং মার্কে দিয়েছেন পা, জয়ের পর তার ট্রেডমার্ক উদযাপনের নাম ‘টু ডি ওয়ার্ল্ড’ এবারো দেখেছে সবাই। টানা তিন অলিম্পিকে দ্রæততম মানবের খেতাবে ইতিহাস রচনা করেও তাই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না উসাইন বোল্টÑ ‘আমি আজ পুরোপুরি নির্ভুল ছিলাম না, তবে যা করতে পেরেছি, তাতেই আমি গর্বিত। সেমিফাইনালের পর নিজেকে দারুণ লাগছিল। আরো দ্রæত দৌড়–তে চেয়েছিলাম। সাধারণত: সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের মধ্যে ২ ঘণ্টা সময় পাওয়ার কথা, সেখানে সময়টা পেয়েছিলাম ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। তাই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল।’ ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক এবং ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক থেকে স্প্রিন্টে তিনটি করে স্বর্ণ, ১০০,২০০ মিটারের পাশে ৪*১০০ মিটার রীলে ইভেন্টটিও হয়ে গেছেন উসাইন বোল্টের। ২০১৬ রিওতেও একই মিশনে উসাইন বোল্ট। অ্যাথলেটিক্সে ১০০ মিটারে অলিম্পিকে টানা তিন আসরে স্বর্ণ জয়ে ইতিহাস রচনার পর ২০০ মিটার স্প্রিন্টে ও এমন বিরল ইতিহাস রচনার অপেক্ষায়। তার সঙ্গে ৪*১০০ মিটার স্প্রিন্টে দলগত ইভেন্টে জ্যামাইকার হয়ে স্বর্ণ জিততে পারলে অলিম্পিকে অমর হয়ে রইবেন এই জীবন্ত কিংবদন্তী। অলিম্পিক থেকে ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে ৭টি স্বর্ণ। বোল্টের এটাই শেষ অলিম্পিক, ২০১৭ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর অবসর নেবেন তিনি। গত ফেব্রæয়ারীতে এ ঘোষণাই দিয়েছেন বোল্ট। ঐতিহাসিক ‘ট্রিপল ট্রিপল’ এর জন্য অবশিষ্ট ২টির অপেক্ষায় এখন উসাইন বোল্টÑ ‘কেউ কেউ বলছে আমি অমরত্ব পেয়ে গেছি। তবে এখনো দু’টি পদক বাকি, তার পর বলব আমি অমর।’ ২০০৪ এথেন্স অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের পর নিষিদ্ধ ড্রাগ গ্রহণের দায়ে জাস্টিন গ্যাটলিনের কেটেছে দুর্বিষহ সময়। লন্ডনে বোল্ট, ইউহান বেøককে চ্যালেঞ্জ দিয়ে পারেননি, থেমেছেন ব্রোঞ্জের সন্তুষ্টিতে। ৩৪ বছর বয়সী এই মার্কিন এবার বোল্টের পেছনে থেকে করেছেন শেষ। তারপরও দ্বিধাহীনভাবে বোল্টের প্রশংসা করেছেন এই মার্কিনীÑ ‘সে উৎসবের আবহ তৈরি করে, গ্রেট রানার সে।’ উসাইন বোল্টের এই ইতিহাস রচনায় অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন সাবেক তারকা অ্যাথলিট মাইকেল জনসনÑ ‘গ্যাটলিন দারুণ শুরু করেছিল, তবে তা বোল্টের আয়ত্বের মধ্যেই ছিল। স্বাস্থ্যবান গ্যাটলিনকে হারানো তার পক্ষে কখনোই সম্ভব হবে না।’ ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অতীতে যারা অলিম্পিক থেকে জিতেছেন স্বর্ণ, তাদের কারো উচ্চতা উসাইন বোল্টের মতো নয়। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতা বলেই লম্বা লম্বা পা এগিয়ে রেখেছে উসাইন বোল্টকে, গবেষণায় এটাই বেরিয়ে এসেছে। প্রথম ৫০ মিটারে তার শক্তিটা সেভাবে প্রদর্শিত হয় না। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অন্য স্প্রিন্টারদের যেখানে ৪৩,৪৪ এমনকি ৪৬টি পা ফেলতে হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৪১ বার পা ফেললেই ফিনিশিং মার্কে পৌঁছে যান উসাইন বোল্ট। এমন এক দৌড়বিদ জ্যামাইকাকে অলিম্পিকে এনেছেন অন্য উচ্চতায়। তাকে আইডল মেনে এখন জ্যামাইকায় চলছে অ্যাথলেটিক্স রেনেসাঁ। যাকে কেন্দ্র করে জ্যামাইকা এতোটা উচচতায়, আলোচনায়Ñ সেই উসাইন বোল্টের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট দেখতে গতকাল রিও’র মারকানায় কতো জ্যামাইকান উপস্থিত ছিলেন, জানেন? ৭ হাজারের মতো! আশ্চর্য লাগছে, তাই না। ৯ সেকেন্ডের এই দৌড় দেখতে এক একটি টিকিটের মূল্য ছিল কতো জানেন? ৮৫ থেকে ২৯০ পাউন্ড (বাংলাদেশী মুদ্রায় ৮ হাজার ৫৭১ টাকা থেকে ২৯ হাজার ৭৪৭ টাকা)।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০