শিরোনাম

যে কারণে মোকতাদির চৌধুরীকে ভালোবাসেন সাধারণ মানুষ

শামীম উন বাছির | বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 174 বার

যে কারণে মোকতাদির চৌধুরীকে ভালোবাসেন সাধারণ মানুষ

র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি ঐক্যের প্রতীক ও সাধারণ জনগনের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।


মোকতাদির চৌধুরী এমপি দলীয় মনোনয়ন ফরম দাখিল করার পর থেকেই তাঁকে নিয়েই আলোচনা নেতা-কর্মীদের। নির্বাচনী এলাকার জনগনও তাঁকে নিয়ে আশাবাদী। তিনিই ফের এই আসনে মনোনয়ন পাবেন, একথাটি এখন সাধারন জনগনের মুখে মুখে।
গত ৮ বছরে সংসদীয় এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করে তিনি জনগনের আস্থাভাজন নেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে “ উন্নয়নের রূপকার” হিসেবেই এখন পরিচিত।

২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে উপ-নির্বাচনে প্রথমবার তিনি সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার আইন-শৃংখলার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেন। তিনি কখনো সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও ভূমিদস্যুদের প্রশ্রয় দেননি। অপরাধী যেই হউক তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন-শৃংখলাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে এমপির কঠোর মনোভাবের কারণে দ্রুত উন্নতি হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির।

তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারনে অস্ত্রবাজ, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ছিনতাইকারীসহ সমাজ বিরোধীরা এখন কোণঠাসা। আর এজন্যই তিনি দ্রুত সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন নেতায় পরিণত হয়েছেন।
সংসদ সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ার পর তিনি দ্বিধা-বিভক্ত জেলা আওয়ামীলীগকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামীলীগও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে দাঁড় করান শক্তভিত্তির উপর। তাঁর নেতৃত্বে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে দল এখন ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। দলে কোন বিভাজন নেই।
দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি সংসদীয় এলাকায় ৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করেছেন। তার নির্বাচনী এলাকা সদর ও বিজয়নগরে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। মোকতাদির চৌধুরী এমপি কথামালায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।
ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। যার সুফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। তিনি একজন স্বপ্নবাজ মানুষ, তিনি স্বপ্ন দেখেন ও স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগর উপজেলার ২১ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারনে তার প্রতি সাধারণ জনগনের সমর্থন ও আস্থা দিন দিন বেড়েছে। সাধারণ মানুষ এখন তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল।
শুধু উন্নয়ন কর্মকান্ডই নয়, মোকতাদির চৌধুরী এম.পির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সদর ও বিজয়নগর উপজেলায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি এখন সন্তোষজনক।

তিনি আগামী প্রজন্মের বাসযোগ্য, বিজ্ঞানভিত্তিক একটি আধুনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গড়ার জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করছেন।
গত ৮ বছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস্তবায়িত হয়েছে বেশ কিছু মেঘা প্রকল্প। যার সুফল জনগন এখন ভোগ করছে। শহরের টি.এ.রোডে নির্মিত হয়েছে মৌড়াইল রেলওয়ে ওভারপাস। জেলা শহরে যানজট নিরসনে একটি ওভারপাস নির্মান তার বিরাট সাফল্য। ওভারপাসটি নির্মানের ফলে একদিকে যেমন শহরের সৌন্দর্য বেড়েছে, অপরদিকে শহরের নিত্যদিনের যানজটমুক্ত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগর উপজেলার মধ্যে সরাসরি সংযোগ সড়ক প্রায় ১০ কিলোমিটার লম্বা “ শেখ হাসিনা” সড়কের নির্মান কাজও চলছে দ্রুত গতিতে। ইতিমধ্যেই সড়কে মাটি ফেলার কাজ শেষ হয়েছে। তিনটি ব্রীজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সড়কটির নির্মান কাজ শেষে হলে তিতাসের পূর্বপাড়ে গড়ে উঠবে আরেকটি উপ-শহর। সড়কটির নির্মানকাজ শুরু হওয়ার পর চরাঞ্চলের জমির দাম বেড়েছে বহুগুন। সড়কটি চালু হলে বিজয়নগরে শিক্ষার হার বাড়বে, প্রসার ঘটবে ব্যবসা -বাণিজ্যের।

তিনি পৌর এলাকার মেড্ডা থেকে ভাদুঘর পর্যন্ত তিতাস নদীর পশ্চিমপাড়ের বেরিবাঁধটি নির্মান করেছেন। বরিবাঁধটি এখন ভ্রমন পিয়াসুদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। তিতাস নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যেই তিতাস নদীর বিভিন্ন প্রান্তে খনন কাজ চলছে। নদীটি খনন করা হলে একদিকে নদীর নাব্যতা বাড়বে, অপরদিকে তিতাসের পূর্বপাড়ে কৃষিজমিতে সেচ কাজের সুবিধা হবে। নদীতে মাছের অভয়ারন্য সৃষ্টি হবে।

দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মোকতাদির চৌধুরী এমপি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধন করেছেন। নির্বাচনী এলাকার বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে নতুন বিদ্যালয় নির্মান করা ছাড়াও সদর ও বিজয়নগরের প্রতিটি স্কুল কলেজে নতুন নতুন ভবন নির্মান, পুরাতন ভবন সংস্কার, স্কুল-কলেজগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করে শিক্ষার অনুকুল পরিবেশে সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে তিনি জনগনের হৃদয়ে নিজের শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।

গত ৮ বছরে নির্বাচনী এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে ১২তলা বিশিষ্ট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবন নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কেন্দ্রস্থলে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার নির্মান, চারতলা বিশিষ্ট পুলিশ লাইন্সের মহিলা ব্যারাক নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ৫তলা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস নির্মান, সার্কিট হাউজের তিনতলার নির্মান, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তিনতলার নির্মান, ২নং শহর পুলিশ ফাঁড়ি নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স নির্মান, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মান। রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাট ফরম বর্ধিত করন, বহুতল বিশিষ্ট চিনাইর টিটিসি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে বহুতল বিশিষ্ট “শেখ হাসিনা” একাডেমিক ভবন, বহুতল বিশিষ্ট বিজয়নগর উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মান, বিজয়নগর থানা কমপ্লেক্স নির্মান, বিজয়নগরে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইকপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ভবন নির্মান, পূর্ব মেড্ডায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মান, পৌর ডিগ্রী কলেজের চারতলা ভবন নির্মান, মোহাম্মদপুর-সেন্দা রাস্তার প্রতিরক্ষা দেয়াল, মৈন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, মেড্ডা (পশ্চিম) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মান, আদর্শ কেজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মান, নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে বহুতল বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মান, বিজয়নগরের চম্পকনগর স্কুল এন্ড কলেজে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মান, কালাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মান, বুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মান, সদর উপজেলার চাপুইর ইসলামিয়া আলীয়া মাদরাসার ভবন নির্মান, বুধল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতল ভবন নির্মান, সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মান, ঘাটুরা বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মান, নরসিংসার বেগম নুরুন্নাহার কলেজে বহুতল বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যবর্তী খালের উপর তিনটি নতুন ব্রীজ নির্মান, রামরাইলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ব্রীজ নির্মান, ঘাটিয়ারা হেলিডে রোডে ব্রীজ নির্মান, বিজয়নগর উপজেলার মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে ৫তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মান, চিনাইর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মান, চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মান, ভাদুঘরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন, দুবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মান, সোহাতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মান, কাঞ্চনপুর মলাই মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মান, বিজয়নগরের বালিয়াজুরি নদীতে ব্রীজ নির্মান, বিজয়নগরের কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ডিগ্রী কলেজে দ্বিতল একাডেমিক ভবন নির্মান, সুহিলপুর আলহাজ্ব হারুন-আল-রশিদ কলেজে একাডেমিক ভবন নির্মান, চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজের হোস্টেল নির্মান, বিজয়নগর থেকে আখাউড়া রাস্তার সংস্কার কাজ, বিজয়নগরের রামপুর-মনিপুর সড়ক নির্মান, ঘাটিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর।
বাস্তবায়নাধীন অবস্থায় আছে পৌর এলাকার পুনিয়াউট থেকে রামরাইল পর্যন্ত মহাড়কের প্রশস্থকরনকাজ, সুলতানপুর থেকে আখাউড়া পর্যন্ত আর্ন্তজাতিক সড়কের সোজাকরন ও প্রশস্তকরনের কাজ, বিশ্বরোড থেকে উজানিসার পর্যন্ত কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কের ফোরলেনের সংস্কার কাজ। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মান কাজ।

এছাড়াও গত ৮ বছরে তিনি সদর ও বিজয়নগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন কাজ কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। পৌর এলাকায় একটি অত্যাধুনিক শিশুপার্ক নির্মানের কাজ ও ভাদুঘর আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ডের আধুনিকায়নের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পশ্চিম মেড্ডা নির্মানাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠায় তার রয়েছে অসামান্য অবদান।

আর এসব কারনেই সাধারণ মানুষ তাঁকে ভালোবাসেন। তাঁকে আবারো সংসদ সদস্য হিসেবে দেখার জন্য সাধারণ মানুষ উদগ্রীব হয়ে আছেন। তারা মনে করেন তিনি এমপি হলেই সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবেন।
র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ১৯৫৫ সালের ১ মার্চ সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম মোঃ আবদুর রউফ চৌধুরী, মাতার নাম মোছাম্মৎ হালিমা খাতুন চৌধুরী। তিনি ১৯৬৯ সালে মাদ্রাসা-ই আলীয়া, ঢাকা থেকে ফাজিল, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ঢাকা কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সময়েই বঙ্গবন্ধু পুত্র শহীদ শেখ কামালের সাথে তার পরিচয় ঘটে।

১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সনে তিনি তদানিন্তন পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে মোকতাদির চৌধুরী বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের (মুজিব বাহিনী) গেরিলা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। প্রথমে তিনি ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার জোন বি-এর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে তিনি যুদ্ধে আহত হয়ে চিকিৎসার জন্যে ভারতে চলে যান। স্বাধীনতা উত্তর সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সময়ে তিনি ছাত্রলীগের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র রচনার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ‘ছাত্র সমাজের শিক্ষা কমিশন’ -এর সদস্য মনোনীত হন। এ কমিশন তাদের রিপোর্ট ড.কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের কাছে প্রস্তাব আকারে পেশ করেছিল। ১৯৭৫ সালে তিনি বাকশালের অঙ্গ সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে স্বৈরশাসক ইয়াহিয়ার সামরিক বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি মহামান্য হাইকোটের নির্দেশে মুক্তি লাভ করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়।

তিনি ১৯৮৬ সালে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে তিনি সিভিল সার্ভিসের চাকুরী থেকে পদত্যাগ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণে নিরলস ভাবে কাজ শুরু করেন।
তিনি একজন লেখক, প্রবন্ধকার ও সুবক্তা। তার প্রকাশিত গ্রন্থঃ- (১) বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এবং বিবিধ প্রসঙ্গ (২) ইসলাম, সন্ত্রাসবাদ, রাজনীতি, (৩) সময়ের কথকতা (৪) দুরারোগ্য সময় এবং গণতন্ত্রের অভিযাত্রা (৫) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঃ জীবন ও কর্ম (৬) ইসলামের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল (৭) স্বাধীনতা গণতন্ত্র ও সময়ের কতকথা, ৮) অন্যআলোয় জাতির জনক উল্লেখযোগ্য। তিনি পাক্ষিক সাময়িকী ‘মত ও পথ’ এর প্রকাশক ও সম্পাদক।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১