শিরোনাম

যা জানিয়ে গেলেন প্রধান বিচারপতি

ডেস্ক রিপোর্ট : | শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 523 বার

যা জানিয়ে গেলেন প্রধান বিচারপতি

অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে শুক্রবার রাতে দেশ ত্যাগ করলেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। তবে দেশ ত্যাগের আগে রাজধানীর হেয়াররোডের বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে এক পাতার একটি বিবৃতি দিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে চলে যান।

শুক্রবার রাত ৯টা ৫৭ মিনিটে প্রধান বিচারপতির গাড়িটি বাসভবনের প্রধান ফটকে আসার পর সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেন। এ সময় তিনি গাড়ি থেকে বের হয়ে হাত নাড়েন। পরে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ না, আমি অসুস্থ না। আমি ভালো আছি, আমি পালিয়েও যাচ্ছি না। আমি আবার ফিরে আসবো। আমাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়নি। আমি নিজে থেকেই ছুটি নিয়েছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটু বিব্রত, আমি বিব্রত। আমি বিচার বিভাগের অভিভাবক। আমি চাই না, বিচার বিভাগ কলুষিত হোক। বিচার বিভাগের স্বার্থে আমি সাময়িকভাবে যাচ্ছি। কারও প্রতি আমার কোনও বিরাগ নেই। বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকুক, এটাই আমি চাই।’

এ সময় তিনি আরও কিছু বলার চেষ্টা করলেও সাংবাদিকদের ভিড় বাড়তে থাকায় তা বলতে পারেননি। এক পর্যায়ে ভিড় কমাতে পুলিশ বাঁশি দিতে থাকলে প্রধান বিচারপতি বক্তব্য থামিয়ে বলেন, ‘এটাই আমার বক্তব্য।’

এসময় তিনি তার পকেট থেকে একটি ভাঁজ করা কাগজ বের করে সাংবাদিকদের দেন। কাগজটি দেওয়ার সময় তিনি আবার বলেন, ‘এখানে সব আছে।’

এরপর তিনি গাড়িতে উঠে বসলে দ্রুত গাড়িটি হোটেল শেরাটনের দিকে চলে যায়। এসময় প্রধান বিচারপতির গাড়িটির সামনে ও পেছনে একটি করে পুলিশের পিকআপ ছিল। এছাড়াও পিকআপের পেছনে আরও দুটি গাড়ি ছিল। পরে গাড়িটি বাংলামোটর হয়ে বিমানবন্দরের দিকে চলে যায়। পথে কোথাও যানজটে প্রধান বিচারপতির গাড়ি আটকায়নি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ ৪৪৭ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

প্রধান বিচারপতির লিখিত বক্তব্য
প্রধান বিচারপতির সিলমোহরসহ কম্পোজ করা লিখিত বক্তব্যে লেখা রয়েছে, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী, বিশেষভাবে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবেশন করায় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। এই অভিমান অচিরেই দূর হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

লিখিত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘সেই সঙ্গে আমি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও একটু শঙ্কিত বটে। কারণ, (বৃহস্পতিবার) প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণতম বিচারপতির উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনে পরিবর্তন আনবেন। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনও রেওয়াজ নেই। তিনি শুধুমাত্র রুটিনমাফিক দৈনন্দিন কাজ করবেন। এটিই হয়ে আসছে।’

বিচারপতি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবণতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।’

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১