শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবাদ সম্মেলনে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সায়েদুল হককে চ্যালেঞ্জ জানালেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক

| শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 361 বার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সায়েদুল হককে চ্যালেঞ্জ জানালেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বশেষ সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১-( নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হককে অব্যাহতি দেয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর ও ২৮ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দেওয়া মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও চরম মানহানিকর উল্লেখ করে তার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য তাকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে তার অভিযোগ প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানান। নতুবা তিনি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আল মামুন সরকার অভিযোগ করে বলেন, বিগত ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন সংক্রান্ত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নীতিমালা, সিদ্ধান্ত এবং সাধারণ মহাসচিবের সাকর্‚লার বহিভর্‚ত ছায়েদুল হকের একক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক জেলা আওয়ামীলীগ কার্যনির্বাহী সংসদের গত ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব না দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এবং নাসিরনগরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সমাবেশে জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, অশালীন এবং আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান ও মন্তব্য করায়  গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সভায় তার এসব সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমের কারণে জেলা আওয়ামীলীগের মর্যাদা রক্ষা ও শৃঙ্খলার প্রয়োজনে এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে তাকে জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে সুপারিশ প্রেরণের জন সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তাকে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে হলে অ্যাডভেকেট ছায়েদুল হক রাগান্বিত হয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর  দুটি জাতীয় দৈনিকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ও গুনিয়াউক ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত দুইজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছ থেকে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য তথা ঘুষ গ্রহণের মানহানিকর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীর এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং চরম মানহানিকর বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে তার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন। অথবা আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই অভিযোগ প্রত্যাহার পূর্বক ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানান। নতুবা এই অসত্য বক্তব্য দ্বারা আল-মামুন সরকারের ব্যক্তিগত মান সম্মান ও মর্যাদাহানির জন্য তিনি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আল মামুন সরকার অভিযোগ করে বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা আওয়ামীলীগ কমিটি গঠন হওয়ার পর তিনি কমিটির নেতৃবৃন্দকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। যে কারণে বর্তমান কমিটির অনুষ্ঠিত কোন সভায় তিনি উপস্থিত হননি এবং নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ নাসিরনগর থেকে নির্বাচিত জেলা আওয়ামীলীগের  কোন সদস্যদেরকে ও জেলা আওয়ামীলীগের কার্যক্রমে অংশগ্রহণে বিধি নিষেধ আরোপ করে রেখেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আল-মামুন সরকার আরো বলেন,  সরকারের একজন মন্ত্রী হওয়া সত্তে¡ও বিগত ইউপি নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই সংক্রান্ত নাসিরনগরে আহুত মনোনয়ন বোর্ডসভার দুইদিন আগে তিনি নিজেই দলীয় নির্দেশ, সার্কুলার এবং নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বিধিমালা অমান্য করে নাসিরনগর ডাকবাংলোতে বসে এককভাবে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়ন তালিকা ঘোষনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আল মামুন সরকার বলেন, মন্ত্রীর এই বক্তব্যে দীর্ঘ ৩৭ বছর যাবত লালিত নীতি, আদর্শ  এবং আমার সারা জীবনের অর্জিত মান মর্যাদা ও সম্মানকে কলুষিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ জন্য তিনি তাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। প্রত্যাশিত জবাব না পেলে যথাসময়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভ‚ইয়া, নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি ও গুনিয়াউক ইউপি নির্বাচনে কেন্দ্র ঘোষিত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম ছামদানী।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০