শিরোনাম

মৈন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে এস.এস.সি নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে ফরম পুরণ : জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : | সোমবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 180 বার

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এস.এস.সি নির্বাচনী পরীক্ষায় মৈন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুত্তীর্ণ (ফেল) শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে ফরম পুরণ করার বিষয় প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠান প্রধান (প্রধান শিক্ষক) এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থা কমিটি সহ উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর অভিযোগ পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে প্রেরিত অভিযোগের বিবরণে প্রকাশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলাধীন ০১ নং মজলিশপুর ইউনিয়নের অর্ন্তগত মৈন্দ উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লগ্ন হতে সুনামের সাথে পরিচালনা হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান (প্রধান শিক্ষক) এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির ব্যক্তিবর্গ দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বিদ্যালয়টির সুনাম নষ্ট করছে। সম্প্রতি ২০১৭ সালের এস.এস.সি নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত পরীক্ষায় মোট ১৩৩ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে অধিকাংশই অকৃতকার্য (ফেল) হয়। তাছাড়া, অনিয়মিত ৩১ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেহই উক্ত নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। অথচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থা কমিটির সদস্যগণ যোগসাজসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের স্মারকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদেরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এস.এস.সি পরীক্ষা ২০১৮ এর ফরম পূরণ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের এই অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এলাকাবাসীর পক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক সহ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগ করলে জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌসকে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য টেলিফৌনিক নির্দেশ প্রদান করেন। যার ভিত্তিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্যকে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিল করার দায়িত্ব প্রদান করেন। এর ভিত্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গত ২২ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ সকাল ১০.৩০ মিনিটে মৈন্দ উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সূত্রের নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল বিবরণী দেখতে চাইলে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১৩৩ জনের মধ্যে ৬১জন ইংরেজি এবং ৬৭ জন গণিতে অকৃতকার্য হয়েছে। অনিয়মিত (০১ থেকে ০৪ বিষয়) পরীক্ষার্থীর অনেকেই নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেনি।


প্রধান শিক্ষককে কেন অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীকে এস.এস.সি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সুযোগ দিয়েছেন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি (প্রধান শিক্ষক) বলেন, ম্যানেজিং কমিটি (ব্যবস্থাপনা কমিটি)’র চাপে তিনি এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি জানান, সকল পরীক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়ার জন্য তিনি অনুতপ্ত। এই পরিদর্শন প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২৩ নভেম্বর জেলা প্রশাসক ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। এর ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: আলমগীর কবির উল্লেখিত এস.এস.সি’র নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করার বিষয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর সকাল ১০.৩০ মিনিটে নিজ কার্যালয়ে শুনানিতে যাবতীয় কাগজপত্রসহ যথা সময়ে উপস্থিত থাকার লিখিত নোটিশে অনুরোধ জানান। অভিযোগের বিবরণে প্রকাশ, কিন্তু উক্ত নোটিশের বিবরণ কোন জবাব না দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি যাতে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়া বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করে এমনকি বোর্ডে বা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ না করে এ লক্ষ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে অবৈধ উপায়ে আর্থিক লেনদেন করার চেষ্টা করছে।

তাছাড়া তারা দুইজন বলাবলি করছে, যত টাকাই খরচ হয় তারা খরচ করবে যাতে পরীক্ষার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান (প্রধান শিক্ষক), ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বা অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিতে পারে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১