শিরোনাম

ছেলেকে বাঁচানোর আকুতি নিয়ে

মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নিলুফা বেগম

শফিকুল ইসলাম সোহেল | রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 245 বার

মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নিলুফা বেগম

আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের তালশহর গ্রামের মরহুম হুমায়ূন মৃধার ছেলে সাব্বির মৃধা-(১৫)। তিনি পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটাতে, পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে দুই বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন। কিন্তু নিয়তির খেলায় সাব্বির এখন তার পরিবারের দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তার দুইটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। বর্তমানে ডায়ালাইসিস করে বেঁচে আছেন তিনি। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল সাব্বিরের পরিবার তার ডায়ালাইসিসের খরচ চালাচ্ছে ধার-দেনা আর আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে।


দুই বছর ধরে চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে জায়গা-সম্পত্তি বিক্রি করে সাব্বিরের পরিবার এখন সহায়-সম্বলহীন। তাই বাঁচার আকুতি নিয়ে মা নিলুফা বেগমকে নিয়ে মানুষের দ্বারে-দ্বারে ঘুরছেন সাব্বির। তার চিকিৎসার ব্যায় মেটানোর সক্ষমতা নেই পারিবারের। তাই বিত্তবানদের সহযোগীতা চেয়েছেন সাব্বির ও তার পরিবার।

সাব্বির জানায়, সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে পাঁচ ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন। আর দুই বোন বিয়ে করে আছেন শ্বশুরবাড়িতে। বর্তমানে মা নিলুফা বেগম আর এক বোন আছেন বাড়িতে। পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে ২০১৭ সালে তিনি পাড়ি দিয়েছিলেন লেবাননে। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ দেয়া হয় তাকে। লেবাননে থাকাবস্থায় হঠাৎ করেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে সেখানকার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিডনি রোগ ধরা পড়ে। এরপর তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে এসে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। চিকিৎসকরা জানান, তার দুইটি কিডনিই বিকল হয়ে পড়েছে। সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকার জন্য তার কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। কিন্তু কিডনি না পাওয়ায় বর্তমানে ডায়ালাইসিস করে বেঁচে আছেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে দুইবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বে-সরকারি হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করেন সাব্বির। প্রতি ডায়ালাইসিসের জন্য খরচ হয় তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার-দেনা এবং সহায়তা নিয়ে এই খরচের যোগান দিচ্ছে সাব্বিরের পরিবার।
সাব্বিরের মা নিলুফা বেগম জানান, আমার স্বামী পাঁচ বছর আগেই মারা গেছেন। পরিবারের জন্য ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ছেলে রোগ নিয়ে দেশে ফিরেছে। জায়গা-সম্পত্তি যা ছিল তা বিক্রি করে দুই বছর ধরে চিকিৎসা চালাচ্ছি। এখন বিক্রি করার মতো ভিটাবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। পাঁচ ছেলে বিয়ে করে যে যার মতো আছে। অসুস্থ্য ছেলেকে নিয়ে আমি পড়েছি বিপদে। মানুষের দ্বারে-দ্বারে ঘুরে সাহায্য নিয়ে ডায়ালাইসিস করাচ্ছি। অনেক টাকা দেনা হয়েগেছে। সেই দেনা পরিশোধ করারও উপায় নেই। আমার ছেলে প্রতিদিন একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। মা হয়ে ছেলের এই কষ্ট আমি সহ্য করি কীভাবে? সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমার আবেদন আমার ছেলেকে বাঁচাতে তারা যেন আমাকে সাহায্য করেন।

সাব্বিরকে সাহায্য করার জন্য যোগাযোগের ঠিকানা : ফোন: ০১৭৪৮৩৯৫৪৯৫, ব্যাংক হিসাবের নাম : মো. সাব্বির মৃধা। হিসাব নম্বর : ১৪০২৭০১০১০০৬১,সোনালী ব্যাংক, আশুগঞ্জ শাখা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১