শিরোনাম

মাদক ধরা নয়,মাল কামাইয়ে ব্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর

ডেস্ক ২৪ | সোমবার, ২৭ জুন ২০১৬ | পড়া হয়েছে 978 বার

মাদক ধরা নয়,মাল কামাইয়ে ব্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদকস্পট থেকে মাসোহারা আদায়,মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে টাকা পয়সা হাতিয়ে রেখে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ মিলেছে। তাছাড়া লাইসেন্সধারী মাদক ব্যবসায়ীদেরকেও নিয়মিত মোটা অংকের টাকা প্রদান করতে হচ্ছে তাদেরকে। জেলার ৩ শতাধিক মাদকস্পট থেকে নিচ্ছে তারা মাসোহারা। অভিযানে ব্যবহার করা হয় কালো গ্লাসের গাড়ি। তাতে উঠিয়ে নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে রফাদফা করা হয়। অভিযানে নিজেদেরকে ডিবি’র লোক পরিচয় দেয়ার অভিযোগও আছে মাদকের লোকজনের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এক মাদক ব্যবসায়ীর ব্যাংক একাউন্ট থেকে কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্বসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠে এখনকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলাও দেয়া হয়। এই মামলায় করা অভিযোগ থেকে জানা যায়,গত ৫ ই এপ্রিল দক্ষিন মোড়াইল থেকে কামাল হোসেন নামের একজনকে গ্রেফতার করে মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের একটি দল। যার নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিদর্শক দেওয়ান মো: জিল্লুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন সিপাহী আবদুল মোমেন,আনোয়ার হোসেন ও এএসআই জুলহাস আহমেদ। তারা কামালকে আটক করে তার বাসায় গিয়ে নারকীয় অবস্থার সৃষ্টি করে। জোরপূর্বক কামালের স্ত্রী আনোয়ারা প্রকাশ আনুর কাছ থেকে ষ্টিলের আলমারীর চাবি নিয়ে আলমারী খোলে ড্রয়ারে থাকা কামালের পরিচয়পত্র,রূপালী ব্যাংকের একটি চেকবই এবং ৩০ শে মার্চ পর্যন্ত একটি ব্যাংক ষ্ট্যাটমেন্ট নিয়ে তাদের অফিসে চলে যায়। ষ্ট্যাটমেন্টে জমা টাকার পরিমান দেখতে পেয়ে কামাল হোসেনকে মারধোর করে রূপালী ব্যাংকের একটি চেকের পাতায় (৭৯১৫৩৩২) ৫ লাখ টাকার অংক বসিয়ে স্বাক্ষর নেয়। এই চেকটি নিয়ে সিপাহী মোমেন ও আনোয়ার টাকা উত্তোলনের জন্যে ব্যাংকে যায়। কিন্তু ব্যাংকে যাচাই বাছাইয়ে স্বাক্ষরে পার্থক্য হওয়ায় তাদেরকে টাকা না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরে ক্রসফায়ার ও সিরিজ মামলায় আসামী করার ভয় দেখিয়ে কামালকে ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে তারা ৫ লাখ টাকা উত্তেলন করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মুখ খুললে রিমান্ড এনে মারধোর করে পঙ্গু করে দেয়ার হুমকী দেয়া হয় কামালকে। মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে অফিসে গিয়ে এনিয়ে প্রতিবাদ এবং পরবর্তীতে মামলা দেয়ার প্রস্তুতি নিলে ৮ ই এপ্রিল কামালের স্ত্রী আনুকে আসামী করে একটি মামলা দেয়া হয় । পরে আনুর ছেলে সাদির মিয়াকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়।
বিভিন্ন মাদকস্পট থেকে নিয়মিত মাসেহারা নিয়ে মাদক ব্যবসা সচল রাখার অভিযোগ আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। জেলা শহরের সুইপার কলোনীর ২২ টি ঘরে বিক্রি হয় চোলাই মদ। প্রতিঘর থেকে মাসে ২ হাজার টাকা করে নেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর। এখানকার ৮ টি ঘরে বিক্রি হয় গাজা। তাদেরকে দিতে হয় প্রতিদিন দেড়’শ টাকা করে। কনষ্টেবল মোমিন এই টাকা উত্তোলন করে পৌছে দেন ইন্সপেক্টর দেওয়ান জিল্লুর রহমানের কাছে । এছাড়া সীমান্তবর্তী বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলার স্পটসহ জেলার ৩ শতাধিক মাদকস্পট থেকে মাসোহারা উত্তোলন করা হয়।
জেলার লাইসেন্সধারী দেশী ও বিলাতী মদ ব্যবসায়ীদেরকেও মোটা অংকের টাকা দিতে হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের। তথ্য মিলেছে সদরের দেশী মদের দোকান থেকে প্রতিমাসে ইন্সপেক্টরকে দিতে হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সহকারী পরিচালকের জন্যে নেয়া হয় ৬০ হাজার টাকা,অফিস খরচ হিসেবে মাসে ৩০ হাজার টাকা এবং অফিস ষ্টাফদের জন্যে নেয়া হয় আরো ২০ হাজার টাকা । বিলাতী এ্যাপল শপ থেকে ইন্সপেক্টর মাসে নেন ৮০ হাজার টাকা,সহকারী পরিচালক ২০ হাজার টাকা,অন্যান্যরা ৩০ হাজার টাকা,আশুগঞ্জ দেশী মদের দোকান থেকে নেয়া হয় মোট ৮০ হাজার টাকা,আখাউড়া দেশী মদের দোকান থেকে ৬০ হাজার টাকা। এর বাইরেও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান উপলক্ষে মোটা অংকের টাকা দিতে হয় লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীদেরকে। লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ীরা জানান- ইন্সপেক্টর জিল্লুর রহমানের স্ত্রী পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশেষ জায়গায় কর্মরত। মাদকের এই কর্মকর্তা স্ত্রীর ভয় দেখিয়েও টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ করেন লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরা ।
মাদক ব্যবসায়ীদের শহরের পুনিয়াউট এলাকাস্থ অফিসে ধরে এনে টাকা পয়সার জন্যে নির্যাতন করার অভিযোগ আছে। শহরের পুনিয়াউটের মিজানুর রহমানের ছেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের বিএসএস ফাইনাল বর্ষের ছাত্র জনিকে ২৮ শে মে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিসে উঠিয়ে এনে হাত-মুখ বেধে নির্যাতন করা হয়। তার পকেটে থাকা ১ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয় তারা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একটি অভিযান চালানোর সময় লোকজনের জটলা দেখে এগিয়ে জনি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে এ হাল করা হয় তার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অফিসটি ভাড়া নেয়া হয়েছে মাসিক ১৬ হাজার টাকায়। অগ্রিমও দেয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা। ইন্সপেক্টর জিল্লুর রহমান নিজস্ব একটি মাইক্রোতে করে অফিসে আসা-যাওয়া করেন। অভিযানেও ব্যবহার করা হয় তার নিজস্ব এই গাড়িটি। গাড়িটির গ্লাস কালো রংয়ের। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে এই গাড়িতে ভরেই বানিজ্য সারা হয় বলে অভিযোগ আছে। রফাদফা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদক অফিসের সাজসাজ্জা,কর্মকর্তাদের ডাটফাট অবৈধভাবে মোটা অংকের আয় রোজগারের বিষয়টি স্পষ্ট । জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর দেওয়ান জিল্লুর রহমান চেকের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে কোন কিছু জানেননা বলে জানান। তবে লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে বলেন এগুলো ট্র্যাডিশনালি চলে আসছে। সুইপার কলোনী থেকে মাসোহারা নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা জানিয়ে বলেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা কোন ব্যবস্থা নিতে গেলে প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা তদবীর করেন।
সহকারী পরিচালক বাহার উদ্দিন বলেন- তার নামে মাসোহারা উঠে বলে তার জানা নেই।
সূত্র-আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডট.কম


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০