শিরোনাম

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে

মাদক কে না বলুন

স্টাফ রিপোর্টার : | বুধবার, ২৯ মার্চ ২০১৭ | পড়া হয়েছে 514 বার

মাদক কে না বলুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হুংকার দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি ‘বন্দুকযুদ্ধসহ’ বিভিন্নভাবে যে পাঁচজন নিহত হয়েছে, তাদের নাম ছিল পুলিশের শীর্ষ ৪০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায়। অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে পুলিশ।
গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে ‘মাদকের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আনুষ্ঠানিক হুংকার দেয়। জেলা পুলিশের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. দেলোয়ার হোসেন। মাদকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ কঠোর অবস্থান জানানোর কথা এটাই প্রথম বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা পুলিশের ‘মুখপাত্র’ দেলোয়ার হোসেন জানান, মাদক ব্যবসায়ী যারা দুঃসাহস দেখাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে জবাব দিতে পুলিশ প্রস্তুত। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জবাব দেওয়াও হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদক পরিস্থিতি একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। মাদকের আগ্রাসন থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) মো. আব্দুল করিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. মঈনুর রহমান, আখাউড়া থানার ওসি মো. মোশারফ হোসেন তরফদার, বিজয়নগর থানার ওসি মো. আলী আরশাদ ও কসবা থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন। আখাউড়া ও বিজয়নগর থানার ওসি জানান, ওই সব এলাকায় জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে যাওয়া মাদকসেবীদের বিরুদ্ধেও অভিযান শুরু করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাসের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চার মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। এর মধ্যে দুজন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং দুজন সহযোগীদের গুলিতে নিহত হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মো. আল-আমিন ও ১৭ মার্চ কসবায় দেলোয়ার হোসেনের লাশ পাওয়া যায়। গত ১ মার্চ বিজয়নগরে মো. নুরুল ইসলাম ও ২৬ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাতশালায় মো. কাউছার ভূঁইয়া কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এ ছাড়া গত বছরের ২৩ আগস্ট কসবায় ’বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় আখাউড়া মাদক ব্যবসায়ী মো. রহিজ উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত পাঁচজনের সবার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি করে মাদকের মামলা আছে। তিনজন পুলিশের সঙ্গে ’বন্দুকযুদ্ধ’ ছাড়াও আল-আমিন ও দেলোয়ার নিজ দলের সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। তাঁদের সবার নাম জেলা পুলিশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তালিকা সমন্বয় করে আমরা জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা করেছি। যাতে ৪০ জনের নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি যে তিনজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ও যে দুজন মাদক ব্যবসায়ীর লাশ পাওয়া গেছে, তাদের নামও পুলিশের ওই তালিকায় রয়েছে। ’
ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এখন মাদক অনেকটা কমে এসেছে। তবে সন্তুষ্টির পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক দুষ্প্রাপ্য করে তোলা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ। মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য থাকলে সাধারণ মানুষসহ সবাইকে তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে ভালোভাবে প্রচারের জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, মাদকসেবীরা মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহনে করে দ্রুত ভারত সীমান্তঘেঁষা আখাউড়া ও বিজয়নগরে চলে যায়। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাংবাদিকরা দাবি তোলেন।
তবে ওই দুই থানার ওসি এ সময় দাবি করেন, সম্প্রতি পুলিশি তৎপরতার কারণে মাদকসেবীরা সেখানে খুব একটা যেতে পারছে না।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০