শিরোনাম

মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর

ষ্টাফ রিপোর্টার : | মঙ্গলবার, ১২ জুন ২০১৮ | পড়া হয়েছে 188 বার

মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর

আজ ২৬ রমজান ১৪৩৯ হিজরি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহিমান্বিত রজনী বা লাইলাতুল কদর তালাশ করার জন্য সম্ভাব্য যে পাঁচটি বিজোড় রাতের কথা বলেছেন, তার মধ্যে আজকের দিবাগত সাতাশের রাতটি অন্যতম।

মুসলমানদের কাছে শবেকদর অত্যন্ত মহিমান্বিত রাত। লাইলাতুল কদরের অর্থ সম্মানিত রজনী বা মহিমান্বিত রজনী। লাইলাতুল কদর এমন মহিমান্বিত বরকতময়, এ জন্য এ গৌরবময় রজনীতে মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ মহাপবিত্র ঐশীগ্রন্থ আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। একদিন রাসুল (সা.) বনি ইসরায়েলের শামউন নামক একজন আবিদ-জাহিদের দীর্ঘকালের কঠোর সাধনা সম্পর্কে বলছিলেন। সেই মহৎ ব্যক্তি এক হাজার মাস লাগাতার দিনে রোজা রেখে জিহাদ করতেন এবং সারারাত জেগে আল্লাহর ইবাদত করতেন। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম আল্লাহর এই নেক বান্দার কঠোর সাধনার কথা শুনে বলতে লাগলেন, ‘হায়! আমরাও যদি ওই লোকটির মতো দীর্ঘায়ু পেতাম, তাহলে আমরাও ওই রকম ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে দিবস-রজনী অতিবাহিত করতে পারতাম।’ এমন সময় সূরা ‘আল-কদর’ নাজিল হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কী জানো? কদরের রাত সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রতিটি কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তি বিরাজ করে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।’


শবেকদরের যাবতীয় কাজের ইঙ্গিত দিয়ে এ রাতের অপার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা আদ-দুখানে ঘোষণা করেছেন, ‘হা-মিম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি কোরআন এক মোবারকময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।’ হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘শবেকদরে হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ লাইলাতুল কদরে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু-রিজিক, বৃষ্টি ইত্যাদির পরিমাণ নির্দিষ্ট ফেরেশতাদের লিখে দেওয়া হয়, এমনকি এ বছর কে হজ করবে, তাও লিখে দেওয়া হয়।

নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তার আগে করা সব গোনাহ মাফ করে দেবেন।’ অন্য হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে আত্মসমর্পিত হৃদয় নিয়ে ইবাদতে কাটাবে, আল্লাহ তার ইজ্জত ও মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন।’

লাইলাতুল কদরে যে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকবে, তার ওপর থেকে দোজখের আগুন হারাম করে দেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সমস্ত রজনী আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদর দ্বারাই সৌন্দর্য ও মোহনীয় করে দিয়েছেন। অতএব, তোমরা এ বরকতময় রজনীতে বেশি বেশি তাসবিহ-তাহলিল ও ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাকো।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের কবরকে আলোকিত পেতে চাইলে কদরের রাত জেগে ইবাদতে কাটিয়ে দাও।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ রাতে শবেকদর সন্ধান করো।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘মাহে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে তোমরা শবেকদর সন্ধান করো।’

হজরত আয়েশা (রা.) একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে রাসুলুল্লাহ! আমি যদি লাইলাতুল কদর পাই, তখন কী করব? তিনি বললেন :তুমি বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ্‌! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন।’

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০