শিরোনাম

মন্দির ভাংঙ্গার আসামীদের নিয়ে নাসিরনগরে আন্তঃসাম্প্রদায় সম্প্রীতি উৎসব : হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

নাসিরনগর প্রতিনিধি : | সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 204 বার

মন্দির ভাংঙ্গার আসামীদের নিয়ে নাসিরনগরে আন্তঃসাম্প্রদায় সম্প্রীতি উৎসব : হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর গ্রামে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়ি-ঘর ভাঙ্গার আসামীদের নিয়ে আন্তঃসম্প্রদায় সম্প্রীতি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে উপজেলায় হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর রাজবাড়িতে দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট আয়োজিত দিনব্যাপী আন্তঃসম্প্রদায় সম্প্রীতি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক ও দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা, বৃটিশ হাই কমিশনের গভর্ন্যান্স টিম লিডার এ্যাসলিন বেকার, পেইভের রূপকার অ্যালিস্টার লেগ, দ্যা হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈকত শুভ্র আইচ।

সম্প্রীতি উৎসবে হরিপুর স্থানীয় মন্দিরের পুরোহিত সবুজ চক্রবর্তী আলিয়া মাদ্রাসার সুপারকে পবিত্র কোরআন উপহার দেন এবং আলিয়া মাদরাসার সুপার পুরোহিত সবুজ চক্রবর্তীকে পবিত্র গীতা উপহার দেন। এ সময় অতিথিদের সাথে মন্দিরে হামলা মামলার আসামী হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়া ও ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা জামাল মিয়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, মন্দির ও হিন্দুদের বাড়ি-ঘর ভাঙ্গার আসামীদের নিয়ে আন্তঃসম্প্রদায় সম্প্রীতি উৎসবকে তামাসা ও প্রহসনের অনুষ্ঠান বলে আখ্যায়িত করেছেন নাসিরনগর উপজেলার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। হামলার এক বছর পর এই উৎসবকে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।


আন্তঃসম্প্রদায় সম্প্রীতি উৎসব সম্পর্কে নাসিরনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল জ্যোতিদত্ত বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে অনুষ্ঠানের বিষয় জানতে পেরেছি। মন্দির ভাংচুর মামলার আসামী হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়া ও ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক চেয়ারম্যান জামাল মিয়াকে নিয়ে সম্প্রীতির নামে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) অনুষ্ঠান করেছে। ঘটনার এক বছর পর তারা কি উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানটি করেছে তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, ঘটনার পর পরই আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে নাসিরনগর সদরে সম্প্রীতির অনুষ্ঠান করার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু সমালোচনা হতে পারে এমন আশংকা থেকে আমরা অনুষ্ঠান করিনি। তিনি বলেন, নাসিরনগরের পরিবেশ যখন স্বাভাবিক, তখন ঘটনার এক বছর পর মন্দির ভাংচুর মামলার আসামীদের নিয়ে সুজন যে অনুষ্ঠান করেছে তা দুঃখজনক। তিনি বলেন, একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হিসেবে এটা মেনে নিতে পারছিনা।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার চক্রবর্তী বলেন, আন্তঃসম্প্রদায় সম্প্রীতি উৎসবের নামে মন্দির ভাংচুর মামলার আসামীদের নিয়ে এক মঞ্চে উঠে তারা এক ধরনের তামাসা করেছে। এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। এ ধরনের ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। নাসিরনগর কেন্দ্রীয় গৌর মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী বলেন, এই অনুষ্ঠানটি এক কথায় এক ধরনের প্রহসন।

অনুষ্ঠানের সত্যতা নিশ্চিত করে নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু জাফর বলেন, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়া ও ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা জামাল মিয়া উভয়েই মন্দির ভাংচুর, হামলা মামলার আসামী। সময় মতো আদালতে তাদের নাম সহ পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অনুষ্ঠানের আয়োজক দ্যা হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা সবাইকে একত্র করার চেষ্টা করেছি। কাউকে চিহ্নিত করে অনুষ্ঠানে আনা হয়নি। তিনি আরো বলেন, আসামী হতে পারে। আসামী হলে কেউ দোষী হয়ে যায় না। আমরা কোনো আসামীকে পুণর্বাসন করার চেষ্টা করিনি। আবার দোষীকে আরো দোষ দিতে চাইনি। নাসিরনগরে যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা এটার ইতি টানার চেষ্টা করেছি। আমরা চাই হিন্দু -মুসলমান সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একত্রে যেন বসবাস করতে পারে এটাই আমাদের লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিনবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস (৩০) নামক এক যুবক তার ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে একটি ব্যাঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়রা ঐ যুবককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরের দিন ৩০ অক্টোবর এলাকায় মাইকিং করে নাসিরনগর উপজেলা সদরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এবং হেফাজত ইসলামের ব্যানারে পৃথক দু’টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সমাবেশ থেকে একদল লোক হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর করে। ঘটনার পর নাসিরনগর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ আবদুল কাদেরকে জেলা পুলিশ লাইনে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও প্রত্যাহার করা হয়। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় পৃথক ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। দায়েরকৃত ৮টি মামলার মধ্যে ১টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে পুলিশ।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১