শিরোনাম

আগামী ২০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাচন

ভোট কারচুপির শঙ্কা বিএনপির ॥ সুষ্ঠ নির্বাচনের প্রত্যয় আওয়ামীলীগের

ষ্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০১৬ | পড়া হয়েছে 739 বার

ভোট কারচুপির শঙ্কা বিএনপির ॥ সুষ্ঠ নির্বাচনের প্রত্যয় আওয়ামীলীগের

আগামী ২০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভার নির্বাচন। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫জন। পৌর সভার সাধারণ ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩নং ওয়ার্ডে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ খবির উদ্দিন। অপর ১১টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত ৪টি মহিলা ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৮ জন প্রার্থী।
মেয়র প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মিসেস নায়ার কবির (নৌকা), বিএনপি মনোনীত  প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোঃ আনিছ খান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোঃ সিরাজুল ইসলাম ভূইয়া (হাতপাখা) এবং ইসলামী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ইউসুফ ভূইয়া (মিনার)।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে নির্ঘুম প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিল প্রার্থীরা। পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলিতেই শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোষ্টার। মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে প্রতিদিনই নির্বাচনী সভা, কর্মীসভা ও মাইকিং করা হচ্ছে। পৌর সভার ১২টি ওয়ার্ডেই এখন সাজ-সাজ রব।
আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী নায়ার কবির (নৌকা) জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবিরের সহধর্মীনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভায় দু’বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং উপমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবির ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছিলেন। অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবিরের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তার সহধর্মীনি নায়ার কবির নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই জেলা ১৪ দলের নেতারা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেছে। জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
এদিকে এই প্রথমবারের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভায় একজন মহিলাকে আওয়ামীলীগ মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ায় তার পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা শুরু করেছে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ ও যুব মহিলালীগের নেতা-কর্মীরা। সবকিছু মিলিয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থী নায়ার কবির নির্বাচনী মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি (ধানের শীষ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি। তার পিতা মরহুম আজিজুর রহমান মোল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভায় একটানা ২২ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। তার পক্ষেও প্রতিদিন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কর্মীসভা, নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করছেন। মেয়র প্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিও প্রতিদিন ধানের শীষের পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গন সংযোগ করছেন।
ইসলামী ঐক্যজোট মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাওলানা ইউসুফ ভূইয়া (মিনার) এর পক্ষে ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারা ও আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন। দলের শীর্ষনেতা আবুল হাসনাত আমিনীসহ শীর্ষ নেতারা মেয়র প্রার্থীর মিনার প্রতিকের পক্ষে কাজ করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মোঃ সিরাজুল ইসলাম ভূইয়া (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী  আনিছ খান (লাঙ্গল) প্রতিকের পক্ষেও শহরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে দলের নেতা-কর্মীরা। সব কিছু মিলেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন সাজ সাজ রব।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, এই প্রথম পৌরসভা নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে। তিনি দলীয় মেয়র প্রার্থীর বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনে আগে কারচুপির আশংকা করা বিএনপির পুরানো অভ্যাস। বর্তমান সরকারের আমলে পৌর সভায় সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে বলেই হবিগঞ্জ পৌরসভায় কারাগারে থেকেই বিএনপির মেয়র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ বিভিন্নভাবে তাদের উপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছেন। তাদের নেতা-কর্মীদেরকে গন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির আশংকা প্রকাশ করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন বলেন, আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর প্রার্থীদেরকে মেয়রের ভোট প্রকাশ্যে দেওয়ার জন্য হুমকী-ধামকী দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রচার-প্রচারণায় পুলিশ বাঁধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০