শিরোনাম

বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি

ভূমি জরিপ মামলা

| মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 641 বার

ভূমি জরিপ মামলা

ভূমি জরিপ মামলা নিয়ে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তির বিষয়টি নতুন নয়। এর কারণ মূলত ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালগুলোয় মামলাজট। জানা গেছে, মামলাজটের কারণে শুনানির জন্য কোনো মামলার বছরে এক বা দু’বার তারিখ পড়লেও অধিকাংশ সময় নির্ধারিত তারিখে শুনানি হয় না। অথচ নির্দিষ্ট তারিখে সাক্ষীসহ সংশ্লিষ্টদের আদালতে উপস্থিত থাকতে হয়। আদালতে হাজিরার দিন বিচারপ্রার্থীদের সাক্ষীর খাবার ও গাড়ি ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ ছাড়াও উকিলকে টাকা দিতে হয়। কাজেই এটা স্পষ্ট যে, বিচারপ্রার্থীরা হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যা মোটেই কাম্য নয়। তাছাড়া ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল কার্যকর না হওয়ার কারণেও বিপাকে পড়তে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের হাইকোর্টে রিট মামলার মাধ্যমে প্রতিকার চাইতে হচ্ছে। অন্যদিকে ছোটখাটো ত্র“টি সংশোধনের জন্য ভূমি প্রশাসন বোর্ড, ভূমি আপিল বোর্ড ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেয়া হলেও তারা সেই দায়িত্ব পালন না করায় ভূমি জরিপসংক্রান্ত মামলার বিচার নিয়ে বিচারপ্রার্থীরা যে পদে পদে হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

দেশে বিআরএস জরিপ শুরু হয় ১৯৮৪ সালে, যা এখনও চলমান রয়েছে। জরিপ শেষে নানা ধরনের ত্র“টি-বিচ্যুতি দেখা দেয়ায় সেগুলোর সংশোধন জরুরি হয়ে পড়ে। এজন্য সরকার স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেনান্সি অ্যাক্ট-১৯৫০’র ১৪৫(এ) ধারা অনুযায়ী ঢাকার জন্য আলাদা একটি ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের পাশাপাশি সারা দেশে ৪২টি ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করে যুগ্ম-জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারক নিয়োগ দেয়। বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশ্যে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলেও দেখা যাচ্ছে, সেখানে গিয়ে মানুষ আরও বেশি হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে চাইলে ট্রাইব্যুনাল ও বিচারকের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, পাশাপাশি দক্ষ ও সৎ জরিপ কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টিও নিশ্চিত করা উচিত।


দেখা গেছে, ভূমি জরিপের সময় উৎকোচ না দেয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা কাগজপত্রে নানা ধরনের ভুল তথ্য সন্নিবেশ করেন। ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি লোকজনের দায়িত্ব হচ্ছে, জমিজমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ কমাতে মানুষকে সাহায্য করা। অপ্রিয় হলেও সত্য, প্রায় ক্ষেত্রেই তারা মানুষের দুর্ভোগের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেন। জমিজমা নিয়ে সাধারণ মানুষের আবেগ ও অজ্ঞতাকে পুঁজি করে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। এর ফলে হুজ্জত-হাঙ্গামা ও অশান্তির শেষ থাকে না। এ সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি। তা না হলে আমাদের ভূমি ব্যবস্থাপনা যত আধুনিকই করা হোক না কেন, সাধারণ মানুষ তার কোনো সুফল পাবে না।

অনলাইন ডেস্ক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০