শিরোনাম

ভূমি অফিসের নির্দেশনা অমান্য করে পশ্চিম মেড্ডায় ফাটা পুকুর অবৈধ ভরাটের মহোৎসব

শফিকুল ইসলাম সোহেল | শুক্রবার, ৩০ আগস্ট ২০১৯ | পড়া হয়েছে 580 বার

ভূমি অফিসের নির্দেশনা অমান্য করে পশ্চিম মেড্ডায় ফাটা পুকুর অবৈধ ভরাটের মহোৎসব

ব্যক্তি মালিক নামধারী ভূমিদস্যু ও সুবিধাভোগী মহল কর্তৃক পরিবেশ সুরক্ষা আইন লংঘন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এলাকায় একের পর এক পুকুর জলাশয় অবৈধ ভরাটের মহোৎসব চলছে। এবার সদর উপজেলা ভূমি অফিসের নির্দেশনা অমান্য করে পশ্চিম মেড্ডা মহল্লায় চলছে রায়সাহেব বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত উপজেলা পরিষদ কর্মকর্তাদের সরকারি কোয়ার্টার সংলগ্ন উত্তর দিকের বি.এস খতিয়ানের ২৬৪৮ দাগের ১৬২ শতাংশ আয়তনের ফাটা পুকুরটি অবৈধ ভরাটের মহোৎসব।

এলাকাবাসী সচেতন নাগরিক এবং সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে প্রকাশ, ১৬২ শতাংশ আয়তনের ফাটা পুকুরটি সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানা নিয়ে বিদ্যমান। পুকুরের পূর্ব পার্শ্বের উত্তর-দক্ষিণে নির্মিত জন এবং ক্ষুদ্র যানবাহন চলাচলের রাস্তাটি ভাঙ্গনের কবল হতে রক্ষাসহ এলাকাবাসীর গোসলে ব্যবহারের সুবিধার্থে বিগত কয়েক বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পুকুরটির প্রতিরক্ষা দেয়াল (রিটেনিং ওয়াল) এবং ২টি সিঁড়ি ঘাটলা নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানা অংশের দাবিদার প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও অন্যান্য সুবিধাভোগীরা প্রায় এক বছর যাবত এই ফাটা পুকুরটির ২টি সিঁড়ি ঘাটলা ঢেকে ফেলার পাশাপাশি টিন ও পাকা দালান নির্মাণসহ পুকুরের বড় একটি অংশ বাহির থেকে আনা ট্রাক ভর্তি বালু দিয়ে দিবারাত অবৈধ ভরাট করে বাঁশের ঘেরাও দেয়ার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি অবহিত হয়ে সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে পুকুরটি অবৈধ ভরাটের অপতৎপরতায় লিপ্ত ব্যক্তি মালিকদেরকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরোধী এহেন অপতৎপরতা হতে বিরত থাকার নির্দেশনা দেন। কিন্তু বর্তমানে এই নির্দেশনাও অমান্য হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোঃ মুমিনুল ইসলাম এবং নমুনা সংগ্রহকারী মোঃ কাউছার গত ২৮ আগস্ট ২০১৯ বুধবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে পুকুরটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শক মোঃ মুমিনুল ইসলাম বলেন, পশ্চিম মেড্ডা ফাটা পুকুর ভরাটের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় ফাটা পুকুর ভরাটকারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ভরাটকারীদের কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হবে। উক্ত নোটিশে পুকুরটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা প্রদান করা হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে তৃতীয় নোটিশের পর পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৭ এর আলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়ার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ে বিষয়টি প্রেরণ করা হবে। এতেও কাজ না হলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৬ এর ঙ ধারা লংঘনের দায়ে পশ্চিম মেড্ডা ফাটা পুকুর অবৈধ ভরাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১