শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিডিবির বিতরণ বিভাগের

ভুতুরে বিলে নাকাল হাজারো গ্রাহক

শামীম-উন-বাছির | বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 339 বার

ভুতুরে বিলে নাকাল হাজারো গ্রাহক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিডিবির ভুতুরে বৈদ্যুতিক বিলে চরম হয়রাণির শিকার হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ পিডিবির কতিপয় অসাধু কর্মচারির অপকর্মের দায় ঢাকতে গিয়ে নিরীহ গ্রাহকদের মিটারে অতিরিক্ত ইউনিট চাপিয়ে দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিডিবি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্যপাড়ার ভুক্তভোগী গ্রাহক রাজন পাল বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে বিল বেশি আসার পর তিনি অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেন। অফিসের লোক বলেন আগামী মাসে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু পরের মাসের বিলেও অতিরিক্ত বিল দেয় তারা । তিনি বিলের কপি দেখিয়ে বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে যে মিটারে বিল এসেছিল এক হাজার ৮০ টাকা সে মিটারেই অক্টোবর মাসে বিল এসেছে দুই হাজার ৭৩২ টাকা। এ সময় ভুক্তভোগী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক ওখানে জড়ো হয়ে একই সুরে অতিরিক্ত বিলের হয়রাণির কথা জানান।


পৌর এলাকার মৌলভী হাটির গ্রাহক মান্নান মিয়া ক্ষোভের সাথে জানান, তার মিটারে এক হাজার ১২০ ইউনিট পিডিবির কাছে পাওনা থাকা সত্বেও গত অক্টোবর মাসে তাকে বিল দেয়া হয়েছে ৯৫ ইউনিট। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শহরে প্রায় শতাধিক অটোরিক্সা গ্যারেজে পিডিবির অসাধু লোকজনের যোগসাজশে অবৈধ সংযোগ রয়েছে সেসবের বিল আমাদের মতো নিরীহ গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিলের মাধ্যমে তাদের অপকর্ম জায়েজ করা হচ্ছে। আর আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে।

পৌর এলাকার ভাদুঘরের ভুক্তভোগী গ্রাহক তাজু মিয়া বলেন, মিটার রিডার আসাদুউল্লাহ’র মাধ্যমে তিনি একটি আবাসিক সংযোগ নিয়েছিলেন তিন বছর আগে । তিন চার মাস ব্যবহারের পর তিনি একই ব্যক্তির মাধ্যমে সংযোগটি বি”্ছন্নি করে ফেলেন। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের ভ্রাম্যমান আদালত গিয়ে ওই মিটারের বিপরীতে তাকে একান্ন হাজার ৭২৯ টাকা বকেয়া বিল পরিশোধের মামলা করেছেন । তিনি আরো দাবি করেন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় আসাদুল্লাহকে সাত হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

এ ব্যাপারে পিডিবির বিল প্রস্তুতকারী বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান সিস্টেম রিসোর্স কোম্পানির আইটি ইনচার্জ রুবেল খান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুইটি বিতরণ বিভাগের আওতায় ৮১ হাজার আবাসিক গ্রাহকের বিল তারা সরেজমিনে মিটার দেখে মিটারের রিডিং এর স্ন্যাপ (ছবি) নিয়ে তথ্যাদি কুমিল্লা পিডিবির হিসাব শাখায় পাঠান । ওখান থেকে বিল প্রস্তুত হয়ে গ্রাহকদের কাছে আসে। শিল্প, বাণিজ্যিক ও বহুতল বিশিষ্ট ভবনের মিটার পিডিবির উপসহকারি প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্ট লোকজন মনিটরিং করেন। এসব বিলের ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারবো না। তিনি বলেন, বিল করার তারিখ ১০ দিন এগিয়ে আনার কারণে কিছু অতিরিক্ত ইউনিট যোগ করে বিল প্রস্তুত করা হয়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিডিবির বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবদুল হান্নান বলে, সিস্টেম পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের কিছুটা অতিরিক্ত বিল গুনতে হচ্ছে , তবে তা খুব একটা বেশি না । তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা অবৈধ সংযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। অনেক অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর মোটা অংকের টাকা জরিমানাও হয়েছে। আমার অফিসের কারো বিরুদ্ধে কোন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১