শিরোনাম

ভালোবাসা দিবসটি শুরু ‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’ থেকে : আজ ভালোবাসার দিন

বিশেষ প্রতিনিধি : | বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 310 বার

ভালোবাসা দিবসটি শুরু ‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’ থেকে : আজ ভালোবাসার দিন

‘ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে/আমার নামটি লিখো- তোমার/মনের মন্দিরে।’ ভালোবাসা- যা দুটি হৃদয়ের গানকে এক তালে বাজিয়ে তোলে। ‘ধরিয়া রাখিয়ো সোহাগে আদরে/আমার মুখর পাখি- তোমার/প্রাসাদপ্রাঙ্গণে।’ আদরে সোহাগে স্বপ্নের মতো দিন কাটানোর নাম ভালোবাসা, যাতে প্রিয় মানুষকে উদ্দেশ করে বারবার বলা হয়- ‘মনে ক’রে সখী, বাঁধিয়া রাখিয়ো/আমার হাতের রাখী- তোমার/ কনককঙ্কণে।’ প্রিয়জনকে কনককঙ্কণে বেঁধে প্রতীক্ষার ছায়া হয়ে থাকা আর তাকে মন দিয়ে ছুঁয়ে দেওয়ার নামই তো ভালোবাসা। এক অনন্য আবেশের মৌতাতে আবিষ্ট থাকার নামই তো ভালোবাসা। হিয়ার পরশে চমকে ওঠার অনুভূতির নাম ভালোবাসা। প্রখর রোদে হিমেল হাওয়ায় শীতল হওয়ার নামই ভালোবাসা।

আজ বুধবার (১৪.০২.২০১৮) সেই অনন্য অনুভূতিকে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ পালন করার দিন। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে।


কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বলেছিলেন- ‘একদা এমনই বাদলশেষের রাতে/মনে হয় যেন শত জনমের আগে-/সে এসে, সহসা হাত রেখেছিল হাতে,/চেয়েছিল মুখে সহজিয়া অনুরাগে।’ পর্বতসম ব্যস্ততা আর বাধাকে পেরিয়ে প্রিয়ার চোখে চোখ রেখে আজ বলতে হবে- ‘শুধু তোমাকেই, হ্যাঁ, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি। আজকে, কাল, পরশু- শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শুধু তোমাকেই ভালোবাসতে চাই।’ কবি আরণ্যক বসু লিখেছিলেন জন্ম-জন্মান্তরের ভালোবাসার কথা- ‘এই জন্মের দূরত্বটা পরের জন্মে চুকিয়ে দেব/এই জন্মের চুলের গন্ধ পরের জন্মে থাকে যেন/এই জন্মের মাতাল চাওয়া পরের জন্মে থাকে যেন/মনে থাকবে?’ আর তুর্কি কবি নাজিম হিকমত তার ‘জেলখানার চিঠি’তে জীবনের শেষ সময়ের কথা উল্লেখ করে লিখেছিলেন- ‘নতজানু হয়ে আমি চেয়ে আছি মাটির দিকে/উজ্জ্বল নীল ফুলের মঞ্জরিত শাখার দিকে আমি তাকিয়ে/তুমি যেন মৃন্ময়ী বসন্ত, আমার প্রিয়তমা/আমি তোমার দিকে তাকিয়ে।’ তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারাবিশ্বের মতো আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও ভালোবাসা দিবস পালিত হচ্ছে। ভালোবাসার উৎসবে মুখর আজ রাজধানী। এ উৎসবের ছোঁয়া লাগবে গ্রামবাংলার জনজীবনেও। মুঠোফোনের খুদেবার্তা, ই-মেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ে বিন্দু বিন্দু কথামালা সম্মুখে দাঁড়িয়ে পরিণত হবে ভালোবাসার কথামালার সিন্ধুতে। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকলেট-ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দু’ছত্র পদ্য হয়ে উঠতে পারে আজকের দিনের উপহার। আর ফুল তো রয়েছেই, রক্তরাঙা গোলাপ! তবে ভালোবাসার দিনটি শুধুই প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান, এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই।

ইতিহাসবিদদের মতে, দু’টি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিষ্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিষ্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেন্টাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেন্টাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যালেন্টাইনস ডে সার্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর আগে প্রতিবছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরাণের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এদিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয়, তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের দিনটি একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে গত আড়াই দশকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। রয়েছে ভালোবাসার স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি, গান, ভালোবাসার চিঠি পাঠ এবং ভালোবাসার দাবিনামা উপস্থাপনসহ আরও নানা কর্মসূচি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১