শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেকে প্রধান শিক্ষক দাবি

| বুধবার, ০৩ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 1331 বার

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেকে প্রধান শিক্ষক দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়ন অন্তর্গত রাধানগর গ্রামে আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক একাডেমি(স্কুল এন্ড কলেজ) ২০০৪ খ্রি. কিছুসংখ্যক প্যাটার্নভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে। সদ্য এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে বিগত ১৮/০২/২০২০ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিক্ষা অফিসার মহোদয় বর্ণিত বিদ্যাপীঠের পরিদর্শন কালে এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন নিজেকে স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করে পরিদর্শন রেকর্ড উপস্থাপন করলে উপস্থিত সভাপতি সহ অপরাপর সদস্যগণ হতাশ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সাবেক এসএমসির একজন সদস্য হতাশ হয়ে বলেন প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় শাহাবুদ্দিন(খণ্ডকালীন) নিজের স্বার্থের জন্য কিভাবে এত বড় মাপের প্রতারণার আশ্রয় নিলো? আরেক সদস্য বলেন আমরাই উনাকে খণ্ডকালীন সহকারি শিক্ষক(গণিত) হিসেবে নিয়োগ দিছি। কেন’না বিগত ২০/০৬/২০১০ খ্রি. ম্যানেজিং কমিটির সভার ৩নং আলোচ্যসূচির মোতাবেক শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া বিদ্যালয়ে চাকরির ইচ্ছা প্রকাশ করলে কর্তৃপক্ষ চুক্তিভিত্তিতে খণ্ডকালীন সহকারি শিক্ষক(গণিত) অস্থায়ীভাবে ০১/০৭/২০১০ খ্রি. নিয়োগ দানে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যাহা সরকারি বিধি বিধান মতে নহে। পরবর্তীতে ৩০/১১/২০১৪ খ্রি. ম্যানেজিং কমিটির সভার ২নং আলোচ্যসূচি মোতাবেক ১লা ডিসেম্বর ২০১৪খ্রি. হইতে ১০০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া মঞ্জুর করত প্রধান শিক্ষক এর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনের অনুমোদন করা হয়। ২৩/১১/২০১৫ খ্রি. রোজ সোমবার সকাল ১১ ঘটিকায় ম্যানেজিং কমিটির আরেক অধিবেশনে ৪নং আলোচ্যসূচি মোতাবেক শূন্যপদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের জন্য ২২ অক্টোবর তারিখে ৩নং কর্মসূচি অনুযায়ী ২৯ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিগত ১১ নভেম্বর২০১৫ খ্রি. জারিকৃত পরিপত্র অনুসারে কোন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি ২২ অক্টোবর ২০১৫ তারিখ বা তৎপরবর্তী সময়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে কোন পদে নিয়োগ প্রদান করে তাহলে তা অবৈধ নিয়োগ বলে বিবেচিত হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের শূন্যপদ নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরিপত্রের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য ঐদিনই সর্বসম্মতিক্রমে শূন্যপদের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই পরিপত্র অনুযায়ী খন্ডকালিন সহকারি শিক্ষক ইয়াকুব আলী (সমাজ বিজ্ঞান) নিয়োগও অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। কেননা তিনি ২৪/০৬/২০১৫ খ্রি. যোগদান করেছেন বলে এমপিও আবেদনের ফাইল থেকে জানা যায়। যদিও শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়ার নিজস্ব ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সীল ও সাক্ষর ব্যবহার করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়ার একই মাসের ৭ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ৩০/১১/২০১৫খ্রি. তারিখে তিনি স্থায়ীভাবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে কর্মরত আছে মর্মে ভুয়া,বানোয়াট নিয়োগ ও যোগদান পত্র দেখাইয়া নিজেকে প্রধান শিক্ষক দাবি করে প্রতিষ্ঠান এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টি করিয়াছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই ভুয়া,প্রতারক ও বানোয়াট খণ্ডকালীন শিক্ষক ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন, ব্যাংকের আর্থিক লেন-দেন,পরীক্ষার কেন্দ্রে হল সুপারের রেজুলেশন,জে.এস.সি ও এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারিক নম্বফর্দ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস,জেলা শিক্ষা অফিস,মন্ত্রণালয় ও কুমিল্লা বোর্ড এ প্রেরিত যাবতীয় রেকর্ড তদন্ত করলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সীল ও সাক্ষর ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসতেছেন। স্বার্থলোভী শাহাবুদ্দিন ২০২০ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের সীল ও সাক্ষর ব্যবহার করে আসছেন। এলাকাবাসী,প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী,সচেতন অভিভাবকমহল ও কমিটির সদস্যরা মনে করেন,যার কোন স্থায়ীভিত্তিতে নিয়োগ নাই,তিনি যখন নিজ স্বার্থের জন্য জালিয়াতি করে নিজের মনগড়া মত কাগজপত্র তৈয়ার করে বিধি মোতাবেক বৈধ প্রধান শিক্ষক দাবি করেন উনার পক্ষে আরও গুরুতর অপরাধ করা সম্ভব। এলাকাবাসী,সচেতন অভিভাবকমহল ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা অনতি-বিলম্বে NTRCA এর শুন্যপদের চাহিদা প্রদানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগে গুণগত মানের শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির আহব্বান এবং শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে যোগ্য প্রধানশিক্ষক,সহকারি প্রধান শিক্ষক,অফিস সহায়ক,নৈশপ্রহরী নিয়োগে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এহেন অবস্থায় ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ,এলাবাসী বর্ণিত ভুয়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা দায়ের করবেন।ইতোমধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার,জেলা শিক্ষা অফিসার,জেলা প্রশাসক,মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড,কুমিল্লা বরাবর অভিযোগ পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০