শিরোনাম

ভারতে অসহায় শিশুকে দত্তক নেয়ায় হত্যার চেষ্টা!

| শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১৮ | পড়া হয়েছে 235 বার

ভারতে অসহায় শিশুকে দত্তক নেয়ায় হত্যার চেষ্টা!

কারো হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, কারো বা পা। কেউবা আবার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এমন বিভৎসতার মধ্যেই অঝোরে কেঁদে চলেছে ছোট্ট একটি মেয়ে। এক দম্পতি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পরম আদরে কোলে তুলে নিয়েছিলেন সেই শিশুকে। ২০০৭ সালে ভারতের হায়দরাবাদ বিস্ফোরণের পর গোকুল চাটের সামনের দৃশ্য এটি।

তারপর সময় গড়িয়েছে অনেক। পালিত মা-বাবার পরম আদরের সেই শিশুটিই এখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। কিন্তু সেই মেয়েকে প্রথম দত্তক নেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত আতঙ্ক পিছু ছাড়েনি হায়দরাবাদের ওই দম্পতির।


ঘটনাচক্রে সেই শিশুটি ছিল মুসলিম। আর পালিতা বাবা-মা হিন্দু ধর্মের। শুধুমাত্র এই ‘অপরাধে’ শুরু থেকেই ওই দম্পতিকে হুমকি দিয়ে আসছিল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের কট্টরপন্থীরা।

কিন্তু এবার আর হুমকি নয়, ওই শিশুটির পালিত বাবাকে প্রাণে মারতেই নৃশংস হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরপর ১৬ বার ছুরি মেরে হত্যার চেষ্টা করা হয় তাকে। তবে প্রাণে বেঁচে গেছেন পাপালাল রবিকান্ত নামের ওই ব্যক্তি। আপাতত তিনি হায়দরাবাদের ওসামানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত তার বিপদ কেটে গেছে। খবর: আনন্দবাজারের।

কিন্তু এই হামলার পরও রবিকান্ত নিজের অবস্থানে অনড়, কোনও কিছুর বিনিময়েই মেয়েকে ছাড়বেন না তিনি।

তিনি জানান, বিভিন্ন গোষ্ঠীর লোকজন অনেকবার হুমকি দিয়েছেন তাকে। বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশকে জানিয়েও কোনো নিরাপত্তা পাননি তিনি। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই পিছিয়ে আসেননি রবিকান্ত।

রবিকান্ত আরো জানান, আদর করে শিশুটির নাম রেখেছেন সোনিয়া। বর্তমানে হায়দরাবাদের নামী একটি বেসরকারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে সে। স্বপ্ন দেখে, ভবিৎষতে পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে সাম্য আর শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেবে সে।

কিন্তু সহ্য হয়নি কট্টরপন্থীদের। গত ১ জুন রবিকান্তের ওপর নৃশংস হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পর পর ১৬ বার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে। তবে এত আঘাতের পরও মৃত্যুকে জয় করে ফিরে এসেছেন রবিকান্ত।

সম্প্রতি স্থানীয় একটি হিন্দু মন্দিরে মূর্তি বানানোর জন্য অর্থ দান করেছেন রবিকান্ত। এ বিষয়ে তার বক্তব্য, সোনিয়া পরিবারে খুশির জোয়ার নিয়ে এসেছে। আমরা হিন্দু-মুসলিম মানি না। আমরা মানবতার ধর্মে বিশ্বাস করি। যত কিছুই হোক আমার বড় মেয়ে সোনিয়াকে ছাড়তে পারব না। ও যদি মুসলিম ধর্ম পালন করতে চায়, তাতেও আমাদের কোনও আপত্তি নেই।

সোনিয়ার পালক মা জয়শ্রীদেবী বলেন, শুধু আমরা নই, ধর্মের কারণে ওই নিষ্পাপ শিশুকেও মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। আমরা সবাই মানুষ, একই রক্ত বইছে সবার শরীরে। আমাদের যদি কোনও সমস্যা না থাকে, তাহলে সমাজ প্রশ্ন তোলার কে?

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১