শিরোনাম

ভাই না ডাকার জেরে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এইচএসসি শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : | বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | পড়া হয়েছে 351 বার

ভাই না ডাকার জেরে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এইচএসসি শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ

ভাই না ডাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের অবকাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত এইচএসসি পরীক্ষার্থীর নাম ইমরান বাবু।

ইমরান কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হারুণ মিয়ার ছেলে। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র। গতকাল মঙ্গলবার অসুস্থ শরীর নিয়ে জেলা শহরের পৌর ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার হিসাব বিজ্ঞান প্রথম পত্রে অংশ নেয় ইমরান। ইমরানের আত্মীয় আবদুর রহমান সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়। সাইফুল ইসলাম কসবা উপজেলার গজারিয়া খাড়েরা এলাকার নোয়াব মিয়ার ছেলে।


আহত ছাত্র ইমরানের পরিবার ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার জেলা শহরের রেজা ই রাব্বী (আর আর) ফারুকি পার্ক সংলগ্ন অবকাশ এলাকায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ ১০/১২জন ডেগার, ছুরি ও লোহার রড নিয়ে ইমরানকে একা পেয়ে ঘেরাও করে। পূর্বের ঝগড়ার জের ধরে সাইফুল ডেগারের বাট দিয়ে ইমরানের নাকে আঘাত করে। এ সময় বাকিরা ইমরানকে এলোপাতারি মারধর করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ইমরানের পকেট থেকে স্যামসাং কোম্পানির একটি এসথ্রি মুঠোফোন ও নগদ ৫৫০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। তখন ইমরানের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী ইমরানকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেন।

আহত ছাত্রের খালাতো ভাই তানভির ইসলাম বলেন, ভাই না ডাকায় এবং ফেসবুকে মাস দুয়েক আগে কথা কাটাকাটির জের ধরে ছাত্রলীগের ওই নেতা আমার ভাইকে মারধর করেছেন। তাদের মারধরে আমার ভাইয়ের নাকে হাড়, বাম চোখের নিচে ফুলা জখম ও মাথার পেছনে আঘাত পেয়েছে। চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়নি।

আহত ছাত্র ইমরাম বাবু বলেন, মাস দুয়েক আগে ফেসবুকে সাইফুলের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। তখন সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে দেখে নেবে এবং মারার হুমকি দেন। 

এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাই তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নবীর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আহত ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। তবে উভয়পক্ষ বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। যদি তাঁরা তা করতে না পারেন তাহলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০