শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবাদ সম্মেলনে মোকতাদির চৌধুরী এমপি

ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের দায়-দায়িত্ব হেফাজতকেই নিতে হবে আইন-শৃংখলা বাহিনী ছিলো নিষ্ক্রিয় ॥ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ ২০২১ | পড়া হয়েছে 73 বার

ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের দায়-দায়িত্ব হেফাজতকেই নিতে হবে   আইন-শৃংখলা বাহিনী ছিলো নিষ্ক্রিয় ॥  বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেছেন, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যে সকল সরকারি, বেসরকারি স্থাপনা, আওয়ামীলীগ নেতাদের বাড়ি ও হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে তার সকল দায়দায়িত্ব হরতাল আহবানকারী হেফাজতে ইসলামকেই নিতে হবে।

তিনি সোমবার ২৯শে মার্চ, ২০২১ দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন, এ সময় র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের পর বিকেল ৩টার পর থেকেই হেফাজতিরা শহরে তান্ডব শুরু করে। তারা রেলস্টেশন ভাংচুর করে কন্ট্রোল প্যানেল জ্বালিয়ে দিয়েছে। এর পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই প্রথম রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে।


তিনি বলেন, রোববার বেলা ১১টার পর হেফাজতিরা বিনা উস্কানিকে শহরের তান্ডব লীলা চালায়। হামলার সময় সদর থানা থেকে মাইকে ঘোষনা দেয়া হয়েছে “বিক্ষোভকারী ভাইয়েরা আপনারা আমাদের উপর ঢিল ছুড়বেন না, আমরা আপনাদের সাথে আছি” মাইকে এই ঘোষনা শোনার পর হামলাকারীরা বিপুল উৎসাহে একের পর এক সরকারি বে-সরকারি স্থাপনা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এই পর্যন্ত কোন হরতালে রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে হামলা হয়নি। কিন্তু এবারই জেলা তারা পর্যায়ক্রমে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের বাড়ি, তার শ্বশুর বাড়ি, তার কার্যালয়, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন শোভনের বাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলের বাড়ি, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল খানের বাড়ি ভাংচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।

এছাড়াও তারা এসিল্যান্ডের কার্যালয়, জেলা পরিষদ, পৌরসভা কার্যালয়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, পৌর মিলনায়তন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসন আয়োজিত দুদিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার প্যান্ডেল ভাংচুর করে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। এছাড়াও হামলাকারীরা বিজিএফসিএলের কার্যালয়, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী মন্টুর বাসভবন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবিরের বাসভবন, সরকারি গনগ্রন্থাগার, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব, সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, মাতৃসদন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে পুরাতন মন্দির আনন্দময়ী কালীবাড়িতে হামলা ভাংচুর করে। ভাংচুর করে। এছাড়াও তারা বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাংচুর করে।

শুক্রবার তান্ডব চালিয়ে তারা সার্কিট হাউজের সামনে রাখা ডিসিপুলের ৯টি গাড়ি, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা মৎস্য অফিস, সিভিল সার্জনের কার্যালয় ভাংচুর করে। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজউদ্দিন জামিকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধোর করে। আরো অনেক সাংবাদিককে নাজেহাল করে।

সংবাদ সম্মেলনে মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন, হামলা-তান্ডবের সময় প্রশাসন নিরব ছিলো, ফায়ার সার্ভিসের কোন ভূমিকা ছিলোনা। প্রশাসন একটু সক্রিয় হলে ক্ষয়-ক্ষতি অনেকটাই কম হতো। তিনি বলেন, হামলার সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর থানার ওসি, পুলিশের আইজিপি, কেবিনেট সেক্রেটারীসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী অনেক আমলার সাথে কথা বলেছেন কিন্তু কোন সাহায্য পাননি। তিনি বলেন, হামলার সময় কেন আইন-শৃংখলা বাহিনী নিষ্ক্রিয় ছিলো সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি বলেন, এর আগে ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হওয়া তান্ডব এবং নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার যদি বিচার হতো তাহলে গত শুক্রবার ও রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া হামলা ঘটনায় তারা সাহস পেতনা।

মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন, আমরা যদি দলীয়ভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করতাম তাহলে অনেক রক্তপাত হতো। আমরা রক্তপাত এড়াতে চেয়েছি।

তিনি হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং প্রশাসন কোন ভূমিকা নিলনা তাদের স্ব স্ব ডিপার্টমেন্টাল তদন্ত করার দাবি জানাই

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার, সহ-সভাপতি তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিন, মুজিবুর রহমান বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টুসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০