শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসন উৎসব মুখর প্রচার-প্রচারনা

স্টাফ রিপোর্টার | শনিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 479 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসন উৎসব মুখর প্রচার-প্রচারনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ সংসদীয় আসন। এই আসনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে।

এই আসনে মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব ছিলেন।


অপর দিকে এই আসনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

এই আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী দ্বিতীয়বারের মতো ভোট যুদ্ধে মুখোমুখী হয়েছেন।

২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারির উপ-নির্বাচনে এই আসনে প্রথমবারের মতো ভোটযুদ্ধে মুখোমুখী হন আওয়ামীলীগ নেতা মোকতাদির চৌধুরী ও বিএনপি নেতা খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ওই নির্বাচনে প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলকে হারিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোকতাদির চৌধুরী।
পরে বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোকতাদির চৌধুরী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে পুনরায় ভোটযুদ্ধে মুখোমুখী হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন। এই আসনে মোট ভোট সংখ্যা ৫লাখ ১৫ হাজার ৬জন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মর্যাদাপূর্ন এই আসনে জমে উঠছে প্রচার-প্রচারনা। প্রতীক বরাদ্দের পর পরই মহাজোট প্রার্থী র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী (নৌকা) এবং ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল (ধানের শীষ) কোমর বেঁধে নেমেছেন প্রচার-প্রচারনায়। অন্যান্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা তেমন চোখে না পড়লেও এই দুই প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা চালানো হচ্ছে। প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা গন সংযোগ, উঠান বৈঠক ও নির্বাচনী সভা করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী এলাকায় শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোষ্টার, শোনা যাচ্ছে প্রার্থীদের মাইকিং।
মোকতাদির চৌধুরী এমপি প্রচার-প্রচারনায় বর্তমান সরকার আমলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতিকে প্রধান্য দিয়ে প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। তিনি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় পুনরায় নৌকা মার্কায় ভোট চাচ্ছেন।

অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল গত ১০ বছরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি সরকারের বিভিন্ন দমন-নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন।
দলীয় সূত্র ও ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোকতাদির চৌধুরী এমপি গত ৮ বছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করেছেন। গত ৮ বছরে তিনি নির্বাচনী এলাকায় বেশ কয়েকটি মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন যার মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টি.এ.রোডে ওভারপাস নির্মান, নির্মানাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগর উপজেলার মধ্যে সরাসরি সংযোগ সড়ক (প্রায় ১০ কিলোমিটার লম্বা )“ শেখ হাসিনা” সড়ক, ১২তলা বিশিষ্ট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবন নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ৫তলা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস নির্মান, নির্বাচনী এলাকায় তিনটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স নির্মান, বহুতল বিশিষ্ট চিনাইর টিটিসি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ৬তলা বিশিষ্ট “শেখ হাসিনা” একাডেমিক ভবন, ৬তলা বিশিষ্ট বিজয়নগর উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ভবন নির্মান, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মান, বিজয়নগরে ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালকে ১০০ শষ্যা থেকে ২৫০ শষ্যায় উন্নীতকরন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগর উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর পূর্বপাড়ে বেরিবাঁধ নির্মান, তিতাস নদীর খনন কাজ শুরু করা উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
আওয়ামীলীগ নেতারা জানান, মোকতাদির চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গড়ে প্রায় প্রতিমাসে ১০/১২ দিন নির্বাচনী এলাকায় সময় দিয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে তিনি ভোটারদের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও মোকতাদির চৌধুরী দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুবাধে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে শক্তভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীরা একাট্টা হয়ে তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন।
অপর দিকে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আওয়ামীলীগ প্রার্থী র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপির পক্ষে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন তাঁর স্ত্রী ও মাউশির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন। তিনি প্রতিদিনই নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে মহিলা সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। প্রফেসর ফাহিমা খাতুনের অব্যাহত প্রচার-প্রচারণার কারনে নির্বাচনী এলাকায় মহিলাদের মধ্যে মধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা করেছেন মোকতাদির চৌধুরী এমপি। স্থানীয় সুর সম্রাট ওস্তাদ দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ, একটি পূর্নাঙ্গ নার্সিং কলেজ নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগরে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন, বিজয়নগরে একটি কৃষি কলেজ স্থাপন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজে আসন বৃদ্ধি, তিতাস নদীর পূর্বপাড়ে পরিকল্পিত উপশহর গড়ে তোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দনপুরের বিসিক শিল্পনগরীকে একটি পূর্নাঙ্গ শিল্পপার্ক, সদর উপজেলার সুলতানপুরে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা, একটি শিশু পার্ক নির্মান, ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালকে ৫০০ শষ্যায় উন্নীতকরন, ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০শষ্যায় উন্নীতকরণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি পূর্নাঙ্গ অর্থপেডিক হাসপাতাল নির্মান, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নকে গতিশীল করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি, বিজয়নগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে দুটি আর্ন্তজাতিকমানের স্টেডিয়াম নির্মান, শহরে একটি ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মান, প্রবাসীদের পরিবারের কল্যানে একটি হউজিং এস্টেট তৈরীর উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়, সুশাসন ও নিরাপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ধর্মীয় সহনশীলতা, মানব উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন ও শিল্পায়ন, নগরায়ন ও দৃষ্টিনন্দন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গ্রামীন উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন, মাদক প্রতিরোধ, খেলাধুলা ও বিনোদন, নারীর ক্ষমতায়ন, গণমাধ্যম, শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি, পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করার কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিগত সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দেন। বিগত দিনে হওয়া উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে দুই উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন, জেলা সদরে ওভারপাস নির্মাণ, সড়ক যোগাযোগে অভূতপূর্ণ উন্নয়নের কথা উল্লেখ করা হয়।

অপরদিকে বিভিন্ন মামলায় জজর্রিত বিএনপি প্রথমদিকে মাঠে নামতে পারেনি। দল থেকে সদর আসনে দুইজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় কে প্রকৃত প্রার্থী তা নিশ্চিত হতে নেতা-কর্মীদের অপেক্ষা করতে হয় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত । দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির একজন প্রার্থী তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর প্রচার-প্রচারনায় মাঠে নামেন প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব। প্রতীক বরাদ্দের পর তিনিও নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্নভাবে নির্বাচন হলে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

অপর দিকে মহাজোট প্রার্থী র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিজয়ের মাসে তিনি বিজয়ী হয়ে আসনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চান। তিনি বলেন, ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করায় জনগন তাঁর উপরই আস্থা রাখবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১