শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রোগীরা চরম দূর্ভোগে

| বুধবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 424 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রোগীরা চরম দূর্ভোগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে বেশ কয়েকদিন যাবৎত গুরুত্ব পূর্ণ অনেক যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে আছে।তার মর্ধ্যে অ্যানেসথেসিয়া ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে হাসপাতালে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হচ্ছে না, ছোট-খাটো অস্ত্রোপচার হলেও সেটিতে ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনগুলি নষ্ট হওয়ার কারণে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক থেকে বেশি টাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ ও অসহায় গরিব রোগীরা।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের কুমারশীল মোড় এলাকায় প্রায় ২ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় জেলা সদর হাসপাতাল। পরে ১৯৯৫ সালে হাসপাতালটি ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ১২ মে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় আধুনিক এ সদর হাসপাতালটি। উদ্বোধন করেন তৎকালীন ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসপাতালটিতে বর্তমানে জরুরি বিভাগ ছাড়াও রয়েছে অর্থপেডিকস ওয়ার্ড, গাইনি ও প্রসূতি ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ড, মেডিসিন ওয়ার্ড, সার্জারি ওয়ার্ড, ডায়রিয়া ওয়ার্ড, পেয়িং ওয়ার্ড, চক্ষু ওয়ার্ড, কার্ডোলোজি সহ বেশ কয়েকটি বিভাগ চালু রয়েছে।
শাহবাজপুর গ্রামে থেকে আসা শামসু মিয়া জানান, আমার পেটে প্রচন্ড ব্যাথা তাই আলট্রাসোনগ্রাফি করতে এসে দেখি মেশিন টুকু নষ্ট হয়ে আছে। আমি গরীব মানুষ বাইরে দেখে করতে গেলে অনেক টাকা লাগে। এছাড়া অনেক দালাল প্রকৃতির লোক আছে তারা এসে আমারে বলছে চলেন বাইরে প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে কম পয়সায় করিয়ে দেব। তই বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে হবে।এত টাকা আমরা পাব কোথায়। এদিকে, দীর্ঘ দুই মাসের কাছাকাছি সময় ধরে অ্যানেসথেসিয়া ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ ও হতদরিদ্র রোগীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।
মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট জহিরুল হক ভূইয়া সাথে হাসপাতাল গিয়ে কথা বললে তিনি জানান, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছে। কিন্তু ঢাকা থেকে কারিগরি টিম আসবে-আসছি বলেই দিন পার করছেন। আমাদের হাসপাতালে তিনটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন রয়েছে তার মর্ধ্যে দুইটি মেশিন অনেকদিন ধরে নষ্ট আর আরেকটি মেশিন দুইমাস যাবৎত বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে শতশত রোগী প্রতিদিন ফিরে যাচ্ছে। এই মেশিন গুলো স্বচল থাকা অবস্হায় মাসে গড়ে দেড় লক্ষাধিক টাকা আয় হতো। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সদর হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করে থাকেন। অ্যনেসথেসিয়া মেশিনটি নষ্ট হওয়ার কারণে স্বল্প পরিসরে ছোট-খাটো অস্ত্রোপচারগুলো ঝুঁকি নিয়েই করা হচ্ছে।
এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি তিনটি মেশিন নষ্ট থাকার কারণেও পরীক্ষা করা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অনেক রোগী হাসপাতালে এসে ফিরে যাচ্ছেন। আমরা চিঠির মাধ্যমে মেশিন তিনটি নষ্ট হওয়ার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কারিগরি টিম এসে মেশিন তিনটি মেরামত করবেন বলে আসছি-আসবো করে দিন পার করছেন। অনলাইন ডেস্ক


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০