শিরোনাম

পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরবাসী জিম্মি ॥ অন্ধকারে নিমজ্জিত পুরো শহর ॥ রাস্তায় ময়লার স্তুপ

স্টাফ রিপোর্টার : | সোমবার, ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 232 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরবাসী জিম্মি ॥ অন্ধকারে নিমজ্জিত পুরো শহর ॥ রাস্তায় ময়লার স্তুপ

পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারনে জিম্মি হয়ে পড়েছে পৌর নাগরিকরা। তাদের আন্দোলনের কারনে পৌর নাগরিকরা সীমাহীন ভোগান্তি ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। আন্দোলনের কারনে রাতের বেলা সড়ক বাতিগুলো না জ্বালানোর কারনে অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে পুরো শহর। এছাড়াও বাসা-বাড়ির বর্জ্য পরিষ্কার না করায় ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে শহরের বিভিন্ন স্থান।
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার দাবিতেই তাদের এই আন্দোলন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী পালন করে আসছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও ৭২ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশন। গতকাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় তাদের কর্মবিরতি। রবিবার বেলা ১১টায় দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পৌর ভবন প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সভা করে তারা। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পৌরসভার সচিব সৈয়দ মোঃ আবুজর গিফরী। প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মুরাদ খান, ১নং প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব মোঃ ফেরদৌস মিয়া। বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল করিম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ মিয়া, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নিকাশ চন্দ্র মিত্র, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কাউসার, সহকারী প্রকৌশলী কাউসার আহমেদ, উপ সহকারী প্রকৌশলী সুমন দত্ত, ইদ্রিস মিয়া অপু, পবিত্র ভূষন পাল, আতাউর রহমান, সংরক্ষণ কর্মকর্তা মীর মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রতিবাদ সমাবেশে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে না যাওয়ার ঘোষনা দেন।
এদিকে কর্মবিরতি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই শুধুমাত্র পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ছাড়া সকল ধরনের নাগরিকসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে স্থবির হয়ে পড়ে পৌরসভার প্রত্যাহিক কার্যক্রমসহ উন্নয়ন কর্মকান্ড। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহযোগিতা না করায় মেয়র, কাউন্সিলরা পৌরভবনে এসেও কাজ করতে পারছেন না। শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় পুরো শহরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা আবর্জনা। গত রবিবার রাতে পুরো শহরবাসীকে একপ্রকার “জিম্মি” করে ফেলেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রাতের বেলা তারা শহরের সড়ক বাতিগুলো না জ্বালানোর কারনে পুরো শহর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। ভুতুরে শহরে পরিণত হয় পুরো শহর। অন্ধকার রাস্তায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রপে পথচারীরা সীমাহীন কষ্ট করে। শহর অন্ধকার থাকায় রাত ৯টার মধ্যেই প্রায় ফাঁকা হয়ে যায় শহর। অন্ধকার রাস্তা দিয়ে বাড়ি যেতে শহরবাসীকে দ্বিগুন ভাড়া দিতে হয় রিকসা চালকদের। অন্ধকারে চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারীর ভয়ে শহরবাসী নির্ঘুম রাত কাটায়। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় ভাড়াড়ে পরিণত নয় শহরের বিভিন্ন এলাকা। লোকজন নাকে রুমাল চেপে ধরে ময়লা-আবর্জনার স্তুপের পাশ দিয়ে রাস্তা অতিক্রম করে। শহরের কেন্দ্রস্থল “বঙ্গবন্ধু স্কয়ার” এর ভেতরে ময়লা-আবর্জনা স্তপাকারে রাখা হয়। ময়লা-আবর্জনার গন্ধে টি.এ.রোড দিয়ে লোকজনকে নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে দেখা যায়।

শহরবাসী পৌর-সভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চায়। এ ব্যাপারে তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা প্রত্যাশা করেছেন।
এ ব্যাপারে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলী আহসান কাউছার বলেন, রাতের বেলা সড়ক বাতিগুলো না জ্বালানোর কারনে শহরবাসী সীমাহীন কষ্ট করেছে। আমি কোন মন্তব্য করতে চাইনা।
এ ব্যাপারে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ মিজানুর রহমান আনসারী বলেন, পৌর সভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবির সাথে আমরাও একমত কিন্তু পৌরবাসীকে জিম্মি করে তাদের যে আন্দোলনের যে কৌশল তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, রাতের বেলা সড়ক বাতিগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় শহরবাসী নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। তাদের আন্দোলনের কারনে শহরে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের আশংকা রয়েছে। তাদের আন্দোলনের কারনে স্থবির হয়ে গেছে পৌরসভার সকল কর্মকান্ড।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত মেয়র মুরাদ খান বলেন, আমি বিষয়গুলো নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পৌরসভার সচিব সৈয়দ মোঃ আবুজর গিফরী বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবেই শুধু পানি সরবরাহ ছাড়া সকল সেবাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ময়লা-আবর্জনার গন্ধে আমি নিজেও ভুক্তভোগী। সারা শহরের ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। রাতের বেলা সড়ক বাতিগুলো না জ্বালানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার আমাদের কর্মসূচী শেষ হবে। তারপরই জ্বলবে সড়ক বাতিগুলো।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০