শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র মনোনয়ন পাচ্ছেন কে ?

| বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ | পড়া হয়েছে 659 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র মনোনয়ন পাচ্ছেন কে ?

মনোনয়ন টার্গেটে ঘুম হারাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর নির্বাচনের আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দলীয় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের।জেলা আওয়ামীলীগ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আবেদন ফরম বিতরন শুরু করেছে ইতিমধ্যে। গত শনিবার পর্যন্ত ৭ জন মেয়র প্রার্থী এই ফরম নিয়েছেন। আর বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থীরা তাদের আবেদন জমা দিচ্ছেন কেন্দ্রে। বুধবার এই পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর পাল্টে যায় চিত্র। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন বাগাতে পেরেশান হয়ে উঠেন। ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছুটাছুটি শুরু হয় তাদের। আগামী ২০ শে মার্চ ভোট এই পৌরসভার। গতক’মাস ধরেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দু-দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ১০ জন। তাদের মধ্যে আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা নিয়েই আলোচনা এখন পৌর এলাকার সর্বত্র । নির্বাচনের তারিখ ঘোষনার পরদিন থেকেই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আবেদন ফরম বিতরন শুরু করে আওয়ামীলীগ। এ দায়িত্বে থাকা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক গোলাম মহিউদ্দিন খোকন জানান- এ পর্যন্ত ৭ জন দলের মনোনয়নের আবেদন ফরম নিয়েছেন। তারা হচ্ছেন জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বর্তমান মেয়র মো: হেলাল উদ্দিন,সহ-সভাপতি তাজ মো: ইয়াছিন ও নায়ার কবির,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু,সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন, সদস্য মাহমুদুল হক ভূইয়া ও যুবলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা রাফি। অন্যদিকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা বিএনপি’র শীর্ষ তিন নেতা। তারা হচ্ছেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাধারন সম্পাদক জহিরুল হক খোকন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। জেলা বিএনপি’র এই নেতাদের প্রত্যেকেই দু-ডজনের বেশী মামলার আসামী। এসব মামলায় তাদের প্রতিদ্বন্ধিতার ভবিষৎত কি হয় তা নিয়েও আছে আলোচনা। যদিও তারা বলছেন কারাগারে থাকলেও তারা নির্বাচন করবেন।
আওয়ামীলীগের মনোনয়ন কার ? : আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক হলেও বেশী আলোচনা ৩ জনকে ঘিরেই । তারা হচ্ছেন বর্তমান মেয়র হেলাল উদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা তাজ মো: ইয়াছিন, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন কবির পতœী নায়ার কবির। তবে মনোনয়ন প্রার্থীর তালিকায় নাম না থাকার পরও আলোচনায় আছেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আল মামুন সরকার। আওয়ামীলীগের অধিক প্রার্থীতে মনোনয়নের কোন্দল থামাতে কেন্দ্র থেকে শেষ পর্যন্ত মামুনকে মনোনয়ন দিয়ে দেয়া হতে পারে,এমনটাই ধারনা সবার। দলের একাধিক সুত্র জানিয়েছে-জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ ২/৩ নেতা নায়ার কবিরকে মনোনয়ন দিতে আগ্রহী। কিন্তু নায়ারকে মানতে রাজি নন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যান্য প্রার্থীরা। তারা বলছেন- গত সংসদ নির্বাচনে নায়ার দলের সভানেত্রীর সিদ্ধান্ত অমান্য করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে মহাজোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। ২০১১ সালেও দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ঐ নির্বাচনে মাইক প্রতীকে তিনি পান ১৪৭ ভোট। তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তাছাড়া দলের জন্যে তার কোন ত্যাগ-তিতিক্ষাও নেই বলে জানান জেলা নেতারা। তারা বলেন- স্বামীর পরিচয়-ই তার ভিত্তি। জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন কবির অসুস্থ হওয়ার পর নায়ার কবির সরাসরি ভোট রাজনীতিতে চলে আসেন। নায়ার কবির অবশ্য বলেছেন-তিনি দলের স্বার্থে গত পৌর নির্বাচনে ছাড় দিয়েছেন। সংসদ সদস্য,বর্তমান মেয়র তার কাছ থেকে সুযোগ চেয়ে নেন ঐবার। সেজন্যে এবার তারই অগ্রাধিকার। শেষ পর্যন্ত বর্তমান মেয়র হেলাল উদ্দিন দলের মনোনয়ন পেতে পারেন এমন আলোচনাও আছে। হেলাল উদ্দিনও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বদলে দিচ্ছেন রাস্তাঘাটের চেহারা। মেরামত কাজ হচ্ছে দ্রুত। ভোটের লড়াইয়ে নেমে পৌর নাগরিকদের কোন প্রশ্নের মধ্যে থাকতে চাননা তিনি। হেলাল উদ্দিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন বর্তমান মেয়রদের কেউই মনোনয়ন বঞ্চিত হননি। রানিং মেয়র কোথাও বাদ যায়নি। তাছাড়া যারা মনোনয়ন চাচ্ছেন তাদের মধ্যে সবার চেয়ে ভালো অবস্থা আমার। গত দুই মেয়াদে ১০ বছর আমি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি। এসময় পৌরসভার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি ।এমেয়াদে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করেছি। ওভারহেড পানির টাঙ্কি করেছি। আরো অনেক রাস্তাঘাট করেছি। সবমিলিয়ে ৯০ কোটি টাকার কাজ করেছি। তাই পৌর নাগরিকরা এবারো আমাকেই চাইছেন। আমার কাজ,সংগঠনে অবস্থান বিবেচনায় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। তাছাড়া দলের নেতাকর্মীদের বেশীরভাগের সমর্থন আমার প্রতি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনের পর এবার পৌরসভার মেয়র পদে লড়তে চান তাজ মো: ইয়াছিন। তিনি বলেন আমি সবার চেয়ে বয়সে বড়। রাজনৈতিক জীবনে আমি আওয়ামীলীগ ত্যাগ করিনি। ছাত্রলীগ,যুবলীগ,এরপর আওয়ামীলীগে এসেছি। ৭৫’র পর ৩ বার জেল খেটেছি। এ কারনে ডিগ্রী পরীক্ষা পর্যন্ত দিতে পারিনি। পরপর দু-বার যুবলীগের সভাপতি ছিলাম। আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হয়েছি ২ বার। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ছিলাম দু-বার। আমি দলের বাইরে যাইনি। অনেকে দলত্যাগ করে আবার ফিরে এসেছে। আমি আশা করি দল এবার এর মুল্যায়ন করবে। তাছাড়া পাবলিক আমার পক্ষে। দলে বিদলে সিরিয়াস। প্রতিদিন কমপক্ষে একশো লোক ফোন করে আমাকে বলে আপনাকে কিন্তু নির্বাচন করতে হবে। জেলা আওযামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু বলেন- আমরা দলের পুরনো কর্মী। দলের জন্যে আমাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা সবারই জানা। সংগঠনের জন্যে অবদান বিবেচনা করে দলের মনোনয়ন আমাকে দেয়া হবে বলে আমি আশা করি। জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন বলেছেন- সংসদ সদস্য বলেছেন জনগনের সমর্থন যার দিকে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। আমি মনে করি জনগনের সমর্থন আমার দিকেই আছে। সাধারন মানুষের প্রত্যাশা পূরনে সংসদ সদস্য আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। পৌর নাগরিকরাও বলছে আপনার মতো একজন যোগ্য লোকেরই পৌরসভায় দরকার।
তবে মনোনয়ন নিয়ে কোন চিন্তা ভাবনার মধ্যে না থাকলেও জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক আল মামুন সরকার আছেন মনোনয়নের আলোচনায়। মেঘ না চাইতে জল- এমনি অবস্থা তাকে নিয়ে। মনোনয়ন কোন্দলে ইতি টানতে কেন্দ্র তাকে বাছাই করতে পারে এমন আলোচনা সবার মধ্যে।
তবে তিনি বলেছেন পৌর নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার কোন ইচ্ছে নেই। আল মামুন সরকার ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপি’র কে ?: দু-ডজনের বেশী মামলার আসামী বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি,সাধারণ জহিরুল হক খোকন ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তারপরও অটল তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতার বিষয়ে। মামলাকে ফ্যাক্টর মনে করছেননা মেয়র পদে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতারা। প্রয়োজনে কারাগারে থেকে নির্বাচনে করতেও প্রস্তুত তারা। তবে তাদের মধ্যে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে সাবেক মেয়র হিসেবে হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সম্ভাবনা বেশী বলেই আলোচনা আছে। কচি বলেন- মনোনয়নের দাবী সবারই আছে। নির্বাচনের মাঠে সবমিলিয়ে যিনি ভালো ক্যান্ডিডেট তাকেই দল মনোনয়ন দেবে। তিনি বলেন আমি সব সময় পাবলিক ওরিয়েন্টেড। জনগনের কাছাকাছি থাকি। গত নির্বাচনেই আমি পাশ করতাম। আমার জয় ঠেকাতে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া হয়।
জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক জহিরুল হক খোকন মেয়র পদের আরেকজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি বলেন- মামলায় কি হবে না হবে জানিনা, তবে নির্বাচন করবো। অবশ্যই প্রার্থী হবো। তিনি আরো বলেন তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো দেয়া হচ্ছে ফাকা মাঠে গোল দেয়ার জন্যে। জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, মেয়র পদে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছি। ইনশাল্লাহ মনোনয়ন পাবো । তিনি বলেন-মামলায় ভয় পেলে কি চলবে। আওয়ামীলীগ মিথ্যা মামলা দিতেই থাকবে। মামলা দিয়েছে, আরো মামলা দেবে। এটা তাদের রাজনৈতিক পলিসি। জেলখানায় থেকেও নির্বাচন করা যায়। প্রয়োজন হলে তাই করবো। জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক জহিরুল হক খোকন জানিয়েছেন- তাদের মনোনয়ন হবে কেন্দ্র থেকে। দলের যারা মনোনয়ন পেতে আগ্রহী তারা কেন্দ্রে আবেদন করছেন।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১