শিরোনাম

সেবা সপ্তাহেও এর ব্যতিক্রম হয়নি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিস

| শনিবার, ০৪ মার্চ ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1109 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিস থেকে গ্রাহকরা সরাসরি সেবা পাচ্ছেন কমই। দালালদের মাধ্যমেই সেবা মিলছে তাদের। সেবা সপ্তাহেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। পাসপোর্ট দালালিতে জড়িত অফিসের ষ্টাফরাও। তাদের হাত ধরেও পাসপোর্ট করছেন অনেকে। সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে অফিস সাজসাজ্জায় অন্যরূপ ধারন করেছে। একাধিক তোরন করা হয়েছে অফিসের সামনে। ব্যানার-ফেষ্টুন অফিস ক্যাম্পাসের চারদিকে। কিন্তু বদলায়নি পুরনো চেহারা। বুধবার দুপুরে পাসপোর্ট অফিসের ৫০ গজ দূরত্বের মধ্যেই চোখে পড়ে দালালদের দৌরাত্ব। রীতিমতো ঘর ভাড়া নিয়ে পাসপোর্ট করার অফিস খুলে বসেছেন তারা। সেখানে অনেকেই জানান- বাইরে ছাড়াও অফিসের লোকদের দিয়ে পাসপোর্ট করানো যায়। এমন একজন কসবার আবদুল কাইয়ুম। তিনি জানান- অফিসের লোক দিয়ে পাসপোর্ট করাবেন। তার সঙ্গে ৯ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছে। আরেকজন সরাইলের কালিকচ্ছের খেলু মিয়া। তিনি অফিসের লোকদের দিয়ে পাসপোর্ট করানোর কথা বলেন। তারা জানান অফিসের এই লোকেরা ১৫ দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট এনে দিতে পারে। তবে টাকা একটু বেশী লাগে। সরজমিনে খোজ নিয়ে জানা গেছে- আল আমিন,আফজল,কেফায়েত,শামসু,জহির ,আদনান,খোকন অফিসের ভেতর বসেই পাসপোর্ট দালালিতে জড়িত। এরমধ্যে আল আমিন,আফজল,শামসু প্রকল্পের অধীনে এই অফিসে চাকুরীরত। অন্যরা আগে চাকুরী করতো এখন চাকুরী ছেড়ে অফিসের ভেতরে বসেই দালালি করে। তাদের মাথার উপরে রয়েছেন উপ সহকারী পরিচালক শাহাদত হোসেন। তার সঙ্গেই তাদের সব যোগাযোগ। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারী এই পাসপোর্ট অফিসটির বাইরেও রয়েছে আরো অনেক পাসপোর্ট অফিস।

মিনি এসব পাসপোর্ট অফিসকেই পাসপোর্ট অফিস হিসেবে জানে পাসপোর্ট করতে আসা গ্রামের লোকজন। শহরের কুমারশীল মোড়ের আমিন কমপ্লেক্স এর পঞ্চম তলায় রয়েছে এমন ধরনের একটি বড় পাসপোর্ট অফিস। যেখানে প্রতিদিন একশো’র কাছাকাছি লোক আসে পাসপোর্ট করতে। এই অফিসটি চালান হেলাল নামের একজন। এক্সপোর্ট লিমিটেড নাম দেয়া হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের। এছাড়াও মসজিদ রোডের সিয়াম টেলিকমের মালিক জুয়েল,একই রোডের চা পাতা ব্যবসায়ী ফেলু পাসপোর্টের বড় দালাল। তাদের এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই পাসপোর্ট অফিস হিসেবে পরিচিত। এদুজনসহ ৩ জনকে কয়েক বছর আগে ভ্রাম্যমান আদালত কয়েক’শ পাসপোর্টসহ আটক করে সাজা দেয়। হেলাল,ফালু ও জুয়েলের নেতৃত্বে পাসপোর্টের কথিত একটি দালাল সমিতিও রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও শহরের কুমারশীল মোড়,কালীবাড়ির মোড়,গোকর্নরোড,মেড্ডা,কাউতলী এলাকায় ৩০ জনের বেশী দালাল অফিস খোলে পাসপোর্টের দালালি করছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে এ ধরনের পাসপোর্ট অফিস। দালালরা একটি পাসপোর্ট করতে দ্বিগুন-তিনগুন টাকা নিচ্ছে। পাসপোর্ট দালাল ফেলু জানান- সাধারন সময়ের মধ্যে একটি পাসপোর্ট করতে তারা নেন ৫ হাজার ৭’শ টাকা। আর জরুরী হলে ৯ হাজার ৩০০ টাকা। এরমধ্যে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের ১ হাজার করে ২ হাজার টাকা রয়েছে। হেলালের এখানে কথা বলেও পাসপোর্টের এই প্যাকেজ রেট পাওয়া গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: সালেম জানান- ২৫ দিনে যে পাসপোর্ট দেয়া হয় এর চার্জ ৩৪৫০ টাকা,আর জরুরী ১০ দিনে যেটি দেয়া এর চার্জ ৬৯০০ টাকা। প্রতিদিন এই অফিসে দু’শ থেকে আড়াইশো পাসপোর্ট হয়। যার বেশীরভাগই আসে দালালদের মাধ্যমে। দালালরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট করাতে অফিসকে দেয়ার জন্যে প্রত্যেকের কাছ থেকে নিচ্ছে ১ হাজার টাকা করে। সে হিসেবে প্রতিদিন আড়াই লাখ টাকা পাচ্ছে অফিস ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকেই। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক তারিক সালমান। তিনি বলেন ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্যে কোন টাকা নেয়া হয়না। অফিসের ভেতর কোন দালাল নেই।


নিউজ ডেস্ক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০